Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

এসএসসির পরে...

| প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

তারিন তাসমি : মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল শেষে এবার একঝাঁক নবীন তরুণ ছুটছে উচ্চ মাধ্যমিকের দিকে। পড়াশোনার এই স্তরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কেননা পরবর্তী জীবনে ক্যারিয়ারের ভিত এখানেই রচিত হয়। তাই এই সময়টায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে অনেক সতর্ক এবং সচেতনভাবে। সুন্দর ও সফল জীবন নির্ভর করে উদ্দেশ্যের উপর। উদ্দেশ্যহীনভাবে কাজ করলে কখনো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব নয়। উদ্দেশ্য নির্ধারণের আগে নিজেকে জানুন-আপনি কী হতে চান, কেন হতে চান, কী করতে আপনার ভালো লাগে। নিজের ইচ্ছা ও আগ্রহে বিষয়ে স্বচ্ছ থাকাটা জরুরি। তবে শুধু ইচ্ছা বা আগ্রহে প্রাধান্য দিলে লক্ষ্য নির্ধারণ সঠিক হয় না। সাধের সাথে সাধ্যের সমন্বয় ঘটানোও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শুধু ইচ্ছা আগ্রহ থাকলেই হবে না, সেই আগ্রহ পূরণের জন্য নিজের মেধা বা পারিপার্শিক সার্ম আছে কিনা তা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। লেখাপড়া শেষ করার পরে সবাই একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। আপনার ক্যারিয়ার কোন পথে এগুবে তা ঠিক করতে হবে আপনাকে এসএসসি পাসের পরই। কেননা এই সময়টাই হচ্ছে চাড়া রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের প্রতেকের জীবনে কোনো না কোনো লক্ষ্য ছিল। তারা তাদের জীবনে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারুণ্যের সময়টাতে। আর সঠিক সিদ্ধান্ত ক্ষমতাই সেসব মানুষদের পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই বলা যায়, প্রত্যেক মানুষের জীবনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা চাই। লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তবে যে কেউ একটি সময়ে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে বেশি সময় নেয়া যাবে না। তাই শুরুতে লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এসএসসি পাস মানেই এইচএসসির দুনিয়ায় প্রবেশ। অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশের নামকরা কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করার। কখনো ছোট ছোট ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় না। কলেজে ভর্তির আগেই এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নেয়া প্রয়োজন। একটানা পড়াশোনা আর পরীক্ষার পর দীর্ঘ বিরতি থাকে এইচএসসির শুরুর আগ পর্যন্ত। সময়টা প্রায় তিন মাস। এ সময় শুধু ঘুরে বেড়িয়ে বা শুয়ে বসে না কাটিয়ে কিছু কাজ করা যেতে পারে। যা আপনার ক্যারিয়ারের ভিত্তিটাকে আরো দৃঢ় করবে।
কোন কলেজে ভর্তি হবেন : এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির ব্যাপারে সঠিক গাইডলাইন দরকার। পছন্দের তালিকায় কয়েকটি কলেজ থাকলে, সেসব কলেজের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখুন। এসএসসির ফলাফল আর্থিক সংগতি, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে কোন কলেজে ভর্তি হওয়া যায়, সে বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া উচিত। এ বছর বিভিন্ন কলেজ একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতেছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারটিকেও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে অনেক কলেজ গড়ে উঠেছে, যাদের প্রয়োজনীয় কাঠামো নেই, শিক্ষক নেই, ল্যাবরেটরি নেই, লাইব্রেরী নেই। এসব কিছু ভালোভাবে জেনে-বুঝে নিন, যাতে ভর্তি হওয়ার পর আপনি কোন ধরনের সমস্যায় না পরেন।
বিভাগ ও বিষয় নির্বাচন : এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করেছেন, এখন কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হবে কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করে এখন ভর্তি হতে চান মানবিক বিভাগে। এরকম কোনো ব্যাপার হলে খুব বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন। মা-বাবা কিংবা ভাইবোন-বন্ধুর কোন কথা বিবেচনা করার পরও আপনি যে বিভাগে ভর্তি হয়ে ভালো করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন, সে বিভাগেই ভর্তি হবেন। এসএসসির সিলেবাস আর এইচএসসির সিলেবাস এর মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এইচএসসিতে কোন কোন বিষয় নেবেন তা আগে থেকেই জেনে-বুঝে নিন। শুধু বন্ধু বা বাসার কারো কথা শুনে বিষয় নির্বাচন করবেননা। আপনি যা পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাই নির্বাচন করুন।
জানতে হবে আরো কিছু : যেহেতু মেধা প্রয়োগ করেই ভালো রেজাল্ট করেছেন, তাই সে মেধাকে আরো শাণিত করার দায়িত্বও আপনারই। সুতরাং আর পিছু হটা নয়। যে অবস্থায় আছেন বা যে প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হন না কেন, এখান থেকেই এগিয়ে যান। কেউ পছন্দমতো কলেজে ভর্তি হতে না পারলেও মন খারাপের কিছু নেই। কলেজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার মেধা। আপনি পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী, নিজের চেষ্টায় কতটা ভালো করেছেন সেটাই দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক পড়াতো বটেই, সাথে গোটা বিশ্ব সম্পর্কেও জানতে নিয়মিত পড়াশোনা করুন।
ইংরেজিতে আরো একটু শক্ত হওয়া চাই : ইংরেজি ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা না থাকলে এ যুগে ভালো ফলাফল বা ক্যারিয়্যার গড়া দুঃস্বাধ্য। স্পোকেন ইংরেজির জন্য নিয়মিত ইংরেজি খবর শুনুন।
লক্ষ্য থাকবে অটুট ঃ কলেজে নতুন শ্রেণীতে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষাঙ্গন, নতুন পরিবেশ, নতুন বই আর নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব আপনার সময়গুলোকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। কিন্তু আনন্দের অতিশয্যে ভুলে গেলে চলবে না যে, আপনাকে খুব শীঘ্রই নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হবে। যে যোগ্যতা আপনাকে পৌঁছে দেবে আপনার জীবনের লক্ষ্যে। আপনার লক্ষ্যের সাথে সাথে আপনার দৃঢ়তাও থাকতে হবে।
সময়টা কাটান সচেতনভাবে : একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি শেষে ক্লাস আর পড়াশোনার রুটিন ওয়ার্ক। এ সময়টা কাজে লাগাবেন সফলভাবে। ক্লাসের প্রথম থেকেই প্রতিটি বিষয়ের কঠিনতম অংশগুলো আয়ত্বে আনার চেষ্টা করুন। মুখস্থ এবং গতানুগতিক নোটবই বা গাইড বই এড়িয়ে প্রতিটি বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বুঝার চেষ্টা করুন। শিক্ষক ছাড়াও সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করুন পড়ার বিষয় নিয়ে। এসএসসি পরীক্ষায় যারা তুলনামূলকভাবে খারাপ করেছেন, তারা যথাযথ শ্রম দিয়ে এইসএসসিতে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করুন। প্রথম থেকে সচেষ্ট হলে দুই বছর শেষে আপনি নতুন করে সাফল্য দেখার সুযোগ পাবেন। সে সুযোগ আপনার কেবল উচ্চশিক্ষার পথই তৈরি করবে না, আপনার জীবন তথা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে সফল করবে। কলেজের পড়াশোনাই আপনাকে বলেদেবে উচ্চশিক্ষায় আপনি কোন পথে হাঁটবেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যার যে প্রশ্ন আছে সে স্বপ্ন পূরণে কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশকে জানতে মাসিক ও দৈনিক সংবাদপত্র আপনার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।