Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ভবন নির্মাণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি প্রভাবশালীদের দখলে

| প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মো. খলিল সিকদার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে : রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে ওয়াক্ফ করা সরকারি জমি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে সরকারি এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে ভবন সংকটের অযুহাতে নিয়মিত ডাক্তার আসে না বলেও রয়েছে অভিযোগ। ফলে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট নিজেই রোগী দেখে পথ্য দিতে দেখা গেছে। রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রূপগঞ্জ মৌজার এস এ ৯৯নং খতিয়ানে যার আরএস খতিয়ান ৫ এর নং এস এ দাগে ৪৫১ তে মোট জমি ৩০ এবং ৪৫৩ নং দাগে মোট জমি ২২ শতক জমি যার আরএস দাগনং যথাক্রমে ৫৫৬ এবং ৫৫৯ তে একুনে ৫২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এ খতিয়ানের মালিকানায় রয়েছেন রূপগঞ্জ জগদিস চন্দ্র দাতব্য চিকিৎসালয় নির্বাহী কমিটির নামে। একই জমিতে রূপগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি দুচালা টিনসেড ভবন রয়েছে। যা আনুমানিক ২ শতক জমিতেই বিদ্যমান। ফলে ৫২ শতক জমি হতে ২শতক জমি ভবনের দখলে থাকলেও পুরো জমিই রয়েছে প্রভাবশালী মহলের দখলে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও দোকান পাট নির্মাণ করে দখলে নিয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারি হাসপাতালের জমিতেই রয়েছে মুড়াপাড়া রূপগঞ্জ গুদারা ঘাট। এ ঘাটের ইজারা আদায় করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। তবে এ ইজারার টাকা নিয়ম না মেনে আদায় করছে কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। যেখানে কোন যাত্রীরা বসার সুযোগ পান না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে স্থানীয় মুদি দোকানীর তত্ত¡াবধানে কেরামবোর্ড আড্ডা। প্রতিদিন স্থানীয়দের কেরাম জুয়ায় অতীষ্ঠ হয়ে থাকেন পথচারীরা। শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপারে ডেমরা কালীগঞ্জ সড়ক ঘেঁষা হওয়ায় রূপগঞ্জ গুদারা ঘাটের পাশে হাসপাতালের এ জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি স্টেশন। শতাশিক সিএনজি গাড়ি এখানে রেখে রূপগঞ্জের বিভিন্ন গন্থব্যে যায়। এভাবেই বেদখল হয়ে আছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৫০ শতক জমি। এসব বিষয় প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটলেও দেখার যেন কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রূপগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে চিকিৎসা দিচ্ছেন এখানে কর্মরত ফার্মাসিস্ট বাদল মিয়া। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোমানা বেগম নিয়মিত আসেন না বলে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। নানা অযুহাতে অনুপস্থিত থাকলেও স্থানীয় রোগীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তবে ভবন না থাকায় এখানকার পরীক্ষণ যন্ত্রাদি, দাত্রীসেবা, শিশু বিভাগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো নেই, নেই পরীক্ষণ যন্ত্রাদি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের ও পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীর না থাকায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে এর নামে বরাদ্দকৃত জমি। নেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ। এহেন নানা সমস্যার মাঝেই কর্তা আছে কার্যালয় নেই কথিত বিধি রোগী হারাচ্ছেন তাদের মৌলিক মানবাধিকার। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল থেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকলেও স্থানীয় মুদিদোকানী মুনসুর আলী, রফিজউদ্দিন, আবুল হোসাইনসহ ২০জনের অধিক দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন সুরাহা পাননি বলে জানা গেছে। দখলদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার যে সময় ভবনের কাজ ধরবে তখনই স্বেচ্চায় ওঠে যাবেন তারা। তবে সিএনজি অটো স্টেশনটি অস্থায়ী বলে দাবি করেন তারা। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার ভবন নির্মাণ দিলেই এ সংকট সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি। স্থানীয় দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জেনেছি। দখলদারদের নোটিশ করা হয়েছে। যথা সময়ে না ওঠলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন