Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের হুমকি সত্তে¡ও থামছে না ইয়েমেন যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বিচার অভিযানের সিদ্ধান্তে বেসামরিক হতাহতের শঙ্কা বাড়ছে

| প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে গৃহযুদ্ধ-কবলিত ইয়েমেন। তবুও বিস্তৃত হচ্ছে মার্কিন সামরিক অভিযান। দুর্ভিক্ষের অশনিসংকেত যুদ্ধ থামাতে পারেনি। বরং দিনকে দিন বাড়ছে ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা। ইয়েমেনে যুদ্ধরত সউদি নেতৃত্বাধীন জোটকে শুরু থেকেই সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে তৎপর ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটিতে শত্রæ এলাকা ঘোষণা করে নির্বিচারে অভিযান চালাতে চান ট্রাম্প। নির্বিচার অভিযানের সিদ্ধান্ত বাড়িয়েছে বেসামরিক মৃত্যুর শঙ্কা। যুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষের দোলাচলে অনিশ্চয়তায় থাকা বেসামরিক ইয়েমেনিদের জীবন ক্রমাগত ছুটছে আরও অনিশ্চয়তার দিকে।
জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, ইয়েমেন এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের হুমকির মুখে পড়েছেন। যত দিন যাচ্ছে, অবস্থা ততই শোচনীয় হয়ে পড়ছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, ইয়েমেনে অন্তত ৩৩ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এরমধ্যে শিশুর সংখ্যা ২১ লাখ। ৫ বছরের নিচের ৪ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মোট নাগরিকের ৫৫ শতাংশই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত।
এদিকে, গৃহযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকবলিত ইয়েমেনে অব্যাহত রয়েছে মার্কিন সমর্থিত সউদি জোটের হামলা। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে প্রত্যক্ষ মার্কিন হামলাও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, এ মাসে সমগ্র ইয়েমেনজুড়ে ৪৯টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বছরে এতো বেশি সংখ্যক হামলা এর আগে কখনও চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ইয়েমেনে সন্দেহভাজন আল কায়েদাকে লক্ষ্য করে চলমান মার্কিন বিমান হামলার খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সউদি আরবের কাছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনায় সক্ষম অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি আবার সউদি নেতৃত্বাধীন জোটের হাউথি বিদ্রোহ দমনে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও বেশি সরঞ্জাম ও বুদ্ধিভিত্তিক সহায়তা দিচ্ছে। এ হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী জেমি ম্যাক গোল্ডরিক জানান, মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্যগত সহায়তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২১০ কোটি ডলার প্রয়োজন। যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী স্টিফেন ওব্রায়ান বলেন, চলমান অবস্থার উত্তরনে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ না নিলে, ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে দেশটি। গত ৮ ফেব্রæয়ারি দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এই বিপন্ন বাস্তবতাতেও থামছে না যুদ্ধ। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সউদি জোটের বিমান হামলাও অব্যাহত রয়েছে। আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে সেই অভিযান। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বলেছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অস্ত্র বিক্রিতে ভেটো দিতে। তাদের যুক্তি যদি এসব দেশে অস্ত্র বিক্রি করা হয় তাহলে তা ব্যবহৃত হতে পারে ইয়েমেনে। এর সঙ্গে ইয়েমেনে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ