Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ‘তরুণ কোটা’ চায় ‘ফোরাম অব ইয়ং পার্লামেন্টারিয়ানস’

বিশ্বে তরুণ এমপির সংখ্যা মাত্র ২ শতাংশ, বেশি সুইডেনে

| প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বে ১২০ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। যাদের ৫৭ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। কিন্তু বৈশ্বিকভাবে ৩০ বছরের কম বয়সী মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ এমপি প্রতিনিধিত্ব করছেন। এরমধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় এমপি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনের চতুর্থ দিনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ১২৮টি দেশের এমপিদের উপর ‘ইয়ুথ পার্টিসিপেশন ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট ২০১৬’ শীর্ষক এক গবেষণা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বয়সসীমার তুলণামূলক চিত্রে দেখা যায়, বিশ্বে এমপিদের মধ্যে ৩০ বছরের নিচে রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ, ৪০ বছরের নিচে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৪৫ বছরের নিচে বয়স রয়েছে ২৬ শতাংশ এমপির। যদিও গবেষণা তথ্যে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ৪৪ বয়সসীমার ভোটার রয়েছে ৫৭ শতাংশ, যার সংখ্যা ১২০ কোটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে সবচেয়ে তরুণ এমপিদের প্রতিনিধিত্ব বেশি রয়েছে সুইডেনে। এখানে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এমপি ৩০ বছরের মধ্যে। ইকুয়েডর রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানেÑ এ দেশে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ, তৃতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, নরওয়ে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এমপি ৩০ বছরের নিচের বয়সী। আবার ৪০ বছরের নিচে বয়সী এমপিদের মধ্যে ডেনমার্ক এগিয়েÑ সেখানে আছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ, এনডোরা ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ ও ইকুয়েডর ৩৮ শতাংশ এমপি ৪০ বছরের নিচ বয়সী।
গবেষণায় আরো বলা হয়Ñ বৈশিকভাবে ৪৫ বয়সের নিচ বয়সী এমপির দিকে থেকে এগিয়ে ওমান, এখানে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ , ইথিওপিয়া ৬৩ দশমিক ৬ এবং এনডোরা ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ এমপির বয়স ৪৪ বছরের নিচে। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদেরকে এ সমীক্ষায় তরুণ এমপি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকান দেশগুলোতে ৩০ বছরের নিচের বয়সী সর্বাধিক এমপি রয়েছে।
প্রতিবেদনে তরুণ পুরুষ ও নারী এমপিদের অনুপাত নির্ণয় করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে তরুণ এমপিদের মধ্যে পুরুষ ও নারীর অনুপাত হচ্ছে ৬০ অনুপাত ৪০। মাত্র ৯টি দেশের সা¤প্রতিক নির্বাচনে ৪৫ বছরের নিচের বয়সী ৫০ শতাংশের অধিক এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আবার বিশ্বের ১ তৃতীয়াংশ দেশের নিম্ন কক্ষে কোনো তরুণ পার্লামেন্টারিয়ান নেই, যাদের বয়স ৩০ এর নিচে।
তরুণ এমপিদের সংগঠন ‘ফোরাম অব ইয়ং পার্লামেন্টারিয়ানস’ এর প্রেসিডেন্ট উগান্ডার ২৬ বছর বয়সী তরুণ এমপি মাউরিন অসরু জানান, সংসদে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব খুবই নগণ্য, যা খুবই হতাশাজনক। আইপিইউ সম্মেলনে মাত্র ৩০ বছরের নিচে পার্লামেন্টারিয়ান রয়েছেন ১২ জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণরা রাজনীতিতে আসতে চাইলেও তাদের নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। বিশেষ করে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নমিনেশন পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। এছাড়া রাজনীতি চর্চার সুযোগ কম থাকা, অর্থের অভাব, ভোটারদের আস্থার অভাব, যুবাদের অনেকে বিশ্বাস করতে পারেন না, প্রশ্ন তোলেন তারা পার্লামেন্টে গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজকর্মে কতটা অংশ নিতে পারবেÑ ইত্যাদি চ্যালেন্স মোকাবেলা করতে হয়। এসব কারণে পার্লামেন্টে তরুণরা রাজনীতিতে আসতে অনীহাও প্রকাশ করেন। কিন্তু আইপিইউ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তরুণদের ভোটের রাজনীতিতে আরো সক্রিয় করতে ভ‚মিকা রাখা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের দেশের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে মাউরিন অসরু জানান, ১৮ বছর বয়সে সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হয়। সে ভোটাধিকার পায়, এসময় কোনো অন্যায় করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে প্রয়োজনে জেলেও পাঠানো হয়। কিন্তু একই বয়সে কাউকে সংসদে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, তবে সুখের বিষয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ইয়ং উইং থাকে। এছাড়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের তৈরি করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিতে পারে। তরুণদের পার্লামেন্টে আনতে প্রয়োজনে কোটার ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান তিনি।
মাউরিন অসরু বলেন, রাষ্ট্র যদি তরুণদের রাজনীতিতে আসার জন্য বা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উৎসাহিত করে তাহলে এ বৈষম্য দূর হবে। এছাড়া গণতন্ত্রের সুফল পেতে সময়ের প্রয়োজনে তা নবায়ণ করা প্রয়োজন, যাতে করে বৈশিকভাবে পার্লামেন্টে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে, কেননা বর্তমান বিশ্ব গতির বিশ্ব, তরুণরা অনেক বেশি স্পিডিচুয়াল, তারা অনেক বেশি এনার্জেটিক। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের প্রতিনিধিত্বে আনার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, উৎসাহিত করা এবং নমিনেশনের বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখা। আইপিইউ সম্মেলন থেকে সব সদস্য দেশগুলোর প্রতি আরো বেশি তরুণ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংসদ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ