Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

মনোহরদীতে ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাৎ আটক ২, জব্দ ১৪৮ বস্তা চাল

| প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে : কথায় বলে চোরের ১০দিন আর সাধুর ১দিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ১০টাকা কেজি দরের হত দরিদ্রদের চাল অব্যাহতভাবে আত্মসাৎ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে রফিকুল ইসলাম নামে এক ডিলারসহ দুই ব্যক্তি। অপর ব্যক্তির নাম মো. ছাদিকুল ইসলাম। সাথে সাথে ফাঁস হয়ে গেছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ডিলার চক্রের ১০ টাকা কেজির চাল অব্যাহত চুরির ঘটনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল্লাহ খাঁন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চাল আত্মসাতের ঘটনা হাতে-নাতে ধরে ফেলেছেন এবং ১৪৮ বস্তা চালসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছেন। পরে তাদেরকে মনোহরদী থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, একই উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রæত ১০টাকা কেজির চাল বিতরণের জন্য ৬শত ৫০ জনের একটি হত-দরিদ্র তালিকা প্রণয়ন করে। এই তালিকাটিতে ৫০ জন হত-দরিদ্রের নাম দ্বৈতভাবে সাজানো হয়েছে। ৫০/৬০জনের নাম একেবারেই ভুয়া। এক থেকে দেড়শত কার্ড মেম্বাররা বিলি না করে নিজ হাতে রেখে দিয়েছে। সব মিলিয়ে মেম্বাররা দুই থেকে তিন শত ব্যক্তির বরাদ্ধকৃত চাল নিজেরাই আত্মসাৎ করে আসছে। গত সোমবার স্থানীয় ওএমএস ডিলার শহীদুল্লাহ্ মনোহরদী থেকে ২১০ বস্তায় সাড়ে ১০ মেট্রিকটন চাল উত্তোলন করে তা বিতরণের জন্য কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বারুদিয়া ভূঁইয়া বাজারে নিয়ে যায়। সোমবার রাতেই মেম্বার ও ডিলার মিলে ৫২ বস্তা চাল চোরা বাজারে বিক্রি করে ফেলে। এই খবর মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ্্ খাঁনের গোচরীভূত হলে তিনি মনোহরদী থানার পুলিশ নিয়ে বারুদিয়া ভূঁইয়া বাজারে গিয়ে ডিলার রফিকুল ইসলামের দোকানে তল্লাশী চালায়। এসময় কাগজপত্র এবং মূল স্টক ভেরিফাই করলে ধরা পড়ে যে, ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন কনক একই ব্যক্তির নাম কয়েকবার উল্লেখ করে তালিকা প্রণয়ণ করেছেন। এই ভুয়া তালিকা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের ডিলার রফিকুল ইসলাম চাল বিতরণ না করে নিজেই আত্মসাৎ করার জন্য ৫২ বস্তা চাল দোকান থেকে সরিয়ে ফেলে।
পঞ্চাশকুড় গ্রামের মিনারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর তারা জানতে পারে কাঁচিকাটা ইউনিয়নের হত-দরিদ্রদের নামের তালিকায় তাদেরও নাম রয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত এই তালিকার নাম অনুযায়ী তারা কোনো প্রকার কার্ড ও চাল পায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ