Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

ব্রেট লি ওরাম সাউদি পেরেরার পর মালিঙ্গা

প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১:৪৪ এএম, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রেমাদাসা তার লাকি ভেন্যু। ওয়ানডেতে এই ভেন্যুতে মুরালীধরন (৭৫), জয়সুরিয়া (৬০) এর পর তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট (৪৭) মালিঙ্গার। ২০১১ সালে কেনিয়ার মিশ্রা, ওংগোন্ডো, নগোচিকে শিকারে এই ভেন্যুর প্রথম হ্যাটট্রিকটা করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের সেই আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জনসন, হেস্টিংস, ডোহাট্টেকে পর পর তিন বলে শিকারে আছে তার হ্যাট্টিকের গর্ব। নিজের সেই প্রিয় ভেন্যুতে টি-২০তেও ৬ বছর আগের সেই রূপে হাজির মালিঙ্গা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তামীমকে বোল্ড আউটে দিয়েছেন ধাক্কা মালিঙ্গা। শেষ ওভারকে প্রকৃত সøগে বাংলাদেশ রূপ দিতে পারেনি মালিঙ্গার কারনেই (২/৩৮)। গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে মালিঙ্গা যেনো আরো ভয়ংকর (৩/৩৪)। 

প্রথম স্পেলে বাংলাদেশ ওপেনিং জুটির সাবধানী ব্যাটিংয়ে (১-০-৫-০) তার কৌশল আসেনি কাজে। দ্বিতীয় স্পেলে সৌম্য’র প্রতি আক্রমনে পর পর ২টি বাউন্ডারিতে হয়েছেন হতভম্ব (১-০-১২-০)। তৃতীয় স্পেলে সেই মালিঙ্গাই বিপজ্জনক। তৃতীয় স্পেলের প্রথম ওভারের শেষ ২ বলে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়ে মোসাদ্দেককে হতভম্ব করতে পারেননি। উল্টো হতভম্ব হয়েছেন মালিঙ্গা। কৌশলে লেগ স্ট্যাস্প ছেড়ে শাফল করে পর পর ২ বলে মোসাদ্দেকের হাতে ছক্কা,বাউন্ডারি খেয়ে স্লোয়ার ডেলিভারির কৌশল বদলে ফেলেছেন। তাতেই হেসেছেন মালিঙ্গা। ১৮তম ওভারে তৃতীয় বলে মালিঙ্গাকে সুইপ করতে যেয়ে করেছেন মুশফিক ভুল। হয়েছেন বোল্ড। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি টি-২০ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ফিরেছেন শূন্যতে, স্লোয়ার ডেলিভারিকে লেট কাট করতে যেয়ে তিনিও হয়েছেন বোল্ড (০)। মাশরাফির বিদায়ী টি-২০ ম্যাচে টি-২০ অভিষেকে গোল্ডেন ডাক পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লেগ স্ট্যাম্পের উপর স্লোয়ার ডেলিভারী ব্যাটে লাগাতে না পারায় এলবিডাবøুতে ফিরেছেন মিরাজ। তাতেই পূর্ণ হয়েছে তার হাট্ট্রিক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২ হ্যাটট্রিকে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখা মালিঙ্গা টি-২০তেও পেলেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ।
টি-২০ ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটা বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৭ সালে কেপটাউনে সাকিব, মাশরাফি ও অলক কাপালিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ওরাম শ্রীলঙ্কার অ্যাঞেলো ম্যাথুজ, বান্দারা ও নুয়ান কুলাসেকারাকে তুলে নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছিলেন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টিম সাউদি এই কীর্তি গড়েন; পাকিস্তানের ইউনিস খান, মোহাম্মদ হাফিজ ও উমর আকমলকে আউট করেন টিম সাউদি। পরের কীর্তিটা শ্রীলঙ্কান পেসার তিসারা পেরেরার। ২০১৫ সালে রাঁচিতে ভারতের পান্ডে, সুরেশ রায়ান রায়না, যুবরাজ সিংকে বিদায় করে দিয়ে চতুর্থ বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন পেরেরা।
১৯তম ওভারে শুধু হ্যাটট্রিকই করেননি, ওই ওভরে ৪ রানের বেশি খরচা না করে বাংলাদেশকে ফেলে দিয়েছেন চাপে। বাংলাদেশের প্রত্যাশিত স্কোরে গড়েছেন প্রতিবন্ধকতা। তার এই বিষাক্ত স্পেলটাই প্রেমাদাসার স্লো উইকেটে শ্রীলংকাকে দিয়েছে লড়ার রসদ। ওভারপ্রতি ৮.৫০ রান খরচা করেছেন ঠিকই, তবে সবচেয়ে বেশি ডট বল তারই। ২৪টি বলের মধ্যে ১০টিই করেছেন ডট এই পেস বোলার।
টি-টোয়েন্টিতে যত হ্যাটট্রিক

খেলোয়াড় ম্যাচ ভেন্যু মৌসুম হ্যাটট্রিকের শিকার
ব্রেট লি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ কেপটাউন ২০০৭/০৮ সাকিব, মাশরাফি, অলক
জ্যাকোব ওরাম নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা কলম্বো ২০০৯ ম্যাথিউস, বান্দারা, কুলাসেকারা
টিম সাউদি নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান অকল্যান্ড ২০১০/১১ ইউনিস খান, হাফিজ, ওমর আকমল
থিসারা পেরেরো শ্রীলঙ্কা-ভারত রাঁচি ২০১৫/১৬ পান্ডে, রায়না, যুবরাজ
লাথিস মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ কলম্বো ২০১৬/১৭ মুশফিক, মাশরাফি, মিরাজ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন