Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

প্রয়োজনে আরো হামলা চালানোর হুমকি

প্রেসিডেন্ট বাশার আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন আর আমরা তা মেনে নেব সেই দিন এখন আর নেই : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

| প্রকাশের সময় : ৯ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : সিরিয়ায় আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এমন আশংকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, প্রয়োজনে আরো হামলা চালানো হতে পারে। গত শুক্রবার রাশিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি এমন হুমকি দেন। খবরে বলা হয়, সিরিয়ার হোমস প্রদেশের আল-শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে এমন আরো হামলার হুমকি দিয়ে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে হ্যালি বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করাটা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। মার্কিন প্রশাসন এটা নিশ্চিত করতে চায়, যাতে বাশার আল আসাদ যেন আর কখনোই এই অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে। তিনি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন আর আমরা তা মেনে নেব সেই দিন এখন আর নেই। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে সিরিয়ায় ফের সামরিক হামলা করে বাশার আল আসাদের এমন কাজের জবাব দেয়া হবে। তবে আমি মনে করি, তার আর প্রয়োজন হবে না। তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি আর কিছু জানাননি।
গত শুক্রবার ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস পোর্টার এবং ইউএসএস রস থেকে পরপর ৫৯টি অত্যাধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ৫৮টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো বিমান ঘাঁটিটি। মারা যান সিরিয়ার জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জন। এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি বলে যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। হামলার বিষয়ে ক্রেমলিনকে আগাম তথ্য দেয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। অন্যদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এ হামলাকেকে আগ্রাসন বলে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ফ্রান্স ও সৌদি আরব। কঠোর নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও ইরান। তুরস্ক যুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় দ্রæত নো-ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন জানিয়েছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরো কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে তার প্রশাসন। উল্লেখ্য, রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জের ধরে সিরিয়ার স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস পোর্টার এবং ইউএসএস রস থেকে আসাদ সরকার নিয়ন্ত্রিত ওই বিমানঘাঁটিতে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলায় ঘাঁটিতে রাখা যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়। সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিবিসি, আল-জাজিরা।



 

Show all comments
  • umar saifullah ৯ এপ্রিল, ২০১৭, ৩:৩২ এএম says : 0
    আমেরিকা এই হামলার মাধ্যমে কার্যত সিরিয়া বিষয়ে ট্রাম্প তার মনোভাব প্রকাশ করলেন, অন্যদিকে রাশিয়া ও সিরিয়ার পক্ষে তার সমর্থন আরো জোরালো করবে। আন্তর্জাতিক ভাবে বেশির ভাগ দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে ও আরো জানাবে। কার্যত এই হামলা করে আমেরিকা মধ্যপ্রাচে রাশিয়া কে আরো শক্তিশালী করে দিল। অন্যদিকে লস কিত্তু আমেরিকার ই হলো বলে আমি মনেকরি।
    Total Reply(0) Reply
  • বশির ৯ এপ্রিল, ২০১৭, ৯:১৯ পিএম says : 1
    এক আসাদের জন্য সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ মুসলিম বনি আদম নিহত হচ্ছে। তবুও শয়তান টা পদত্যাগ করছে না। আমার মনে হয় এই মানুষ গুলো হত্যার জন্য এক আসাদই দায়ী
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ