Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বেনাপোলে আমদানি কমলেও দ্বিগুণ বেড়েছে রফতানি

প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বেনাপোল অফিস ঃ দেশের সর্ববৃহত স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি কমলেও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে রফতানি বাণিজ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে এই বন্দর দিয়ে রফতানি হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন পণ্য। গত বছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন পণ্য।
ব্যবসায়ী ও কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, আগে ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগ পণ্য আমদানি করতেন। কিন্তু এখন অনেক পণ্য দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। যেকারণে আমদানি কমলেও রফতানি বাড়ছে ক্রমেই ।
বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে ভারতে রফতানি হয় ২৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫ হাজার ৪শ’ ৫১ মেট্রিক টন পণ্য। আগস্ট মাসে ভারতে রফতানি হয়েছে ৩৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩ হাজার ৮শ’ ৮০ মেট্রিক টন পণ্য। সেপ্টেম্বর- মাসে রফতানি হয়েছে ২৮২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৭ হাজার ৫শত ৫৬ মেট্রিক টন পণ্য।
অক্টোবর মাসে ভারতে রফতানি হয় ২৫২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩৯ হাজার ৩ শ’ ৪৭ মেট্রিক টন পণ্য। নভেম্বর মাসে ভারতে রফতানি হয়েছে ২৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩ হাজার ৩ শ’ ১২ মেট্রিক টন পণ্য। ডিসেম্বর মাসে রফতানি করা হয় ২৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫ হাজার ৬শ’ ৩০ মেট্রিক টন পণ্য।
এবং জানুয়ারি মাসে ভারতে রফতানি হয়েছে ৩২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩২ হাজার ১শ’ ১০ দশমিক মেট্রিক টন পণ্য।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ভারতে রফতানি করা হয় ২০৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ৮শ’ ৫৯ মেট্রিক টন পণ্য। আগস্ট মাসে ভারতে রফতানি হয় ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ২১ হাজার ৫শ’ ৭৩ মেট্রিক টন পণ্য।
সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে রফতানি হয় ৩৭৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩৬ হাজার ৮শ’ ৩৩ মেট্রিক টন পণ্য। অক্টোবর মাসে রফতানি করা হয় মাত্র ৯৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ হাজার ৭শত ৯৮ মেট্রিক টন পণ্য। নভেম্বর মাসে রফতানি হয় ১৬০ কোটি ৯২ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ৪শ’ ৮১ মেট্রিক টন পণ্য।
ডিসেম্বর মাসে রফতানি হয়েছিল ১৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের ২২ হাজার ৬০ মেট্রিক টন পণ্য। এবং জানুয়ারি মাসে ভারতে রফতানি হয়েছিল ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ২০ হাজার ১শ’ ৭৯ মেট্রিক টন পণ্য।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, আমাদের দেশ রফতানিতে ভালো করছে। আগে সব ধরণের পন্যর কাঁচামাল আমদানি করা লাগত, কিন্তু এখন দেশেই অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেকারণে রফতানি বাণিজ্য বাড়ছে।
দেশের শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক এ-ওয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান টিটো বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর আগেও আমরা বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতাম। কিন্তু এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। আমদানির বদলে দেশেই গড়ে উঠেছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান জানান, রফতানি বাড়ার কারণ হলো দেশেই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। যারা আগে আমদানি করত, এখন নিজেরাই পন্য উৎপাদন করছে। বেনাপোল দিয়ে পাটজাত পন্য, গামেন্টস, প্ল্যাস্টিক পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা থাকায় ভারতে এর রফতানি বাড়ছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিশেনের সিনিয়র সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বেনাপোল দিয়ে পাটজাত পণ্য ও গামেন্টস পণ্য বেশি রফতানি হয়ে থাকে। গত বছরের শেষ সময়ে টানা হরতাল আর অবরোধ চলার কারণে রফতানিকারকরা পণ্য রফতানি করতে পারেনি। এখন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ব্যবসায়ীরা রফতানি বাড়িয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ