Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৯ কার্তিক ১৪২৪, ০৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী

ফার্মাসিস্টদের শিক্ষাসফর

| প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

প্রতি রাতের আড্ডাগুলো হয়তো চা দোকানে বা বন্ধুদের বাসায় হতো। কিন্তু ২১শে ফেব্রæয়ারি রাতের আড্ডাটা গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য একটু অন্যরকম ছিল। রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে নাটোরের ঔষধি-গ্রাম দেখার উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও ব্যাচের সবাই রাত ১১টার মধ্যেই চলে আসে ক্যাম্পাসে। তখন থেকে শুরু হওয়া আড্ডা, দুষ্টামি, গান, গল্প শেষ হয় পরদিন ভোরে নাটোরে পৌঁছানোর মাধ্যমে।
বর্তমানে বনভোজনকেই শিক্ষাসফর হিসেবে ধরা হলেও প্রচলিত ধারণার বাহিরে এসে হাতে-কলমে শিক্ষার উদ্দেশ্যে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের এই হবু-ফার্মাসিস্ট দল হাজির হয় নাটোরের ল²ীপুরহাটের খোলাবাড়িয়া ঔষধিগ্রামে বিখ্যাত কবিরাজ আফাজ পাগলার বাড়িতে। কবিরাজ আফাজ পাগলাই নাটোরে প্রথমে কবিরাজির উদ্দ্যেশ্যে এবং পরে বাণিজ্যিকভাবে ঔষধি গাছের চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে গ্রামের অন্য চাষিরা ঔষধি গাছের চাষ শুরু করেন। এভাবেই খোলাবাড়িয়া গ্রামটি হয়ে উঠে ‘ঔষধি গ্রাম’।
আফাজ পাগলার হাত ধরে গ্রাম বদলে গেলেও এখনো বদলায়নি আফাজ পাগলার জীবনের মান, ঠিকভাবে করা হয়নি তাঁকে মূল্যায়ন। শিক্ষার্থীরা পৌঁছালে, আফাজ পাগলার ছেলের বউ ঔষধি বাগানগুলো তাদের দেখান। পরিচয় করিয়ে দেন বিভিন্ন গাছের সঙ্গে। এত ঔষধি গাছ একসাথে পেয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দও ছিল দেখার মতো। কখনো কঠিন নামের কোনো গাছের ফুলটা হয়তো ছিল সবচেয়ে সুন্দর, আর কখনো সহজ নামের ফুলের উৎকট গন্ধ। এ শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থী ফারিয়া তাসনিম লামিসা জানান, “দেশের ফার্মাসিটিউক্যালগুলোতে যেসকল ঔষধি গাছের ব্যবহার হয়, হাতে-কলমে সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং ফিরে এসে সেগুলোর তথ্যাবলী উপস্থাপন করব আমরা”।
ঔষধিগ্রাম ঘুরে ঢাকায় ফেরার আগ মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা নাটোরের যমুনা ডিস্টিলারি লি. এ একবার ঢুঁ মেরে আসে। যমুনা ডিস্টিলারি লি. দেশের সবচেয়ে বড় এলকোহল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যালকোহল ক্রয় করে নেয়। সেখানকার ম্যানেজার নিজে সাথে থেকে পুরো কারখানার কাজ করার পদ্ধতি দেখায়। খুব অল্পসময় সেখানে অবস্থান করলেও ফিরে আসার সময় সেই প্রতিষ্ঠানের আদর আপ্যায়ন ছিল মনে রাখার মতো।
গত ৬ মার্চ শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগে আয়োজন করে এই অন্যরকম প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীতে স্থান পায় নাটোর থেকে জেনে আসা বিভিন্ন ঔষধি গাছের রাসায়নিক উপাদান, ঔষধিগুণ, বৈজ্ঞানিক বিশেষণসহ গাছের আদ্যপান্ত বিবৃতি।
প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফামের্সি বিভাগের প্রভাষক মো. মনির হোসেন বলেন, “একজন মানুষের পক্ষে সকল গাছ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখা কষ্টসাধ্য। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের পৃথক পৃথক গাছ নির্ধারণ করে দিয়েছি। যেন তারা নির্ধারিত গাছ সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে এবং জানাতে পারে।” গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি ও ফামের্সি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিভাগের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন এই প্রদর্শনীতে। এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশে যে এত ঔষধি গাছ রয়েছে আমার নিজেরও ধারণা ছিল না। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন এই প্রথম। কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যেন ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষার্থীবান্ধব আরো উদ্যোগ নেয়া হয়।”
ষ মো. রিফাত মেহেদী

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।