Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা প্রশ্নে জাতিসংঘের তদন্তে ভেটো

অষ্টম বারের মতো প্রেসিডেন্ট বাশারকে সুরক্ষা দিল রাশিয়া, নিরাপত্তা পরিষদে উত্তেজনা

| প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্টু, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রস্তাবে গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের খান শেইখুন শহরে রাসায়নিক হামলার নিন্দা জানানো হয়। এছাড়া এ হামলার তদন্তকাজে বাশার সরকারেরও সহায়তা কামনা করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া এতে ভেটো দেয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের ঈবঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় দুই সদস্য দেশ রাশিয়া ও বলিভিয়া। অন্য তিন সদস্য দেশ চীন, ইথিওপিয়া ও কাজাখস্তান এ সংক্রান্ত ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের হাত থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সুরক্ষা দিল রাশিয়া। রাশিয়ার এমন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা।
জাতিসংঘ তদন্তে রাশিয়ার ভেটো প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। রাশিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা নিজেরাই আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। আসাদ বাহিনীর একেকটি বিমানের অবতরণ মানে বেসামরিক মানুষের ওপর আরেকটি নতুন ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ। সে সবসময়ই অন্য স¤প্রদায়ের মানুষকে না খাইয়ে মারার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে বিদ্রোহী অধ্যুষিত খান শেইখুন শহরে চালানো ওই রাসায়নিক হামলায় নিহত হন অন্তত ৮০ জন। এ হামলার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করে সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সে অনুযায়ী হোমস প্রদেশের আল-শায়রাত বিমানঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ৫৯টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। তবে ওই বিমানঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ রুশ সেনার উপস্থিতি থাকলেও হতাহতের মধ্যে কোনো রুশ সেনা ছিল না। আবার হতাহতের সংখ্যার সঙ্গে হামলার ব্যাপকতাও সাজুয্যপূর্ণ মনে হয়নি। ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় নিহত হন ছয় সিরীয় সেনা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, রাসায়নিক গ্যাস হামলার স্বাধীন তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, আসাদ সরকারই এ হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হামলার জন্য তারাই দায়ী। তবে সিরিয়া ও তার মিত্র রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়ার বক্তব্য নাকচ করে দেয়া হয়। এদিকে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ-এর সঙ্গে ট্রাম্পের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আসাদ বাহিনীর কেমিক্যাল হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিবিসি’র সাংবাদিক জন সোপেল। তিনি ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি মনে করেন; রাশিয়ার অজ্ঞাতসারে সিরীয় বাহিনী এধরনের হামলা চালিয়েছে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় এটা অবশ্যই সম্ভব। তবে বাস্তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা কম। তবে আমি মনে করতে চাই, তারা এটি জানতো না। বিবিসি, সিএনএন।



 

Show all comments
  • আলি আহমেদ ১৪ এপ্রিল, ২০১৭, ১১:১১ এএম says : 0
    খুদ্র পাঠক হিসেবে বলছি,ইনকিলাব তার নীতি,সত্ত্যানুসন্ধান,অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল,সত্যকে সত্য বলার সৎ সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবে আসা করছি।আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুন,আমিন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ