Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৯ কার্তিক ১৪২৪, ০৩ সফর ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামী কর্মতৎপরতা

| প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

নেজামে ইসলাম পার্টি
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি জননেতা আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী এক বিৃবতিতে বলেছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে কোরআনের কোন সম্পর্ক ছিল না। ডা. কালিদাস বৈদ্য তার ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব’ বইয়ে সূরা তওবার ৫নং আয়াত, সূরা নিসার ৮৯ নং আয়াত, সূর আনফালের ৩৯ নং আয়াত, সূরা মোহাম্মদ এর ৪নং আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ দেশের মুসলমানরা আল্লাহর হুকুম হিসেবে এই আয়াতগুলি তামিল করতে গিয়ে ত্রিশ লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করেছে, হিন্দুদের বাড়িঘর লুণ্ঠনের পর তা জ্বালিয়ে দিয়েছে, হিন্দু নারীদের নির্যাতনের পর ধর্ষণ করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ হিন্দু হত্যা হয়নি, পবিত্র কোরআনের আয়াতে দোহাই দিয়ে কোন হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি বা হিন্দুদের বাড়িঘর লুণ্ঠনের পর তা জ্বালিয়ে দেয়া হয়নি। এসব কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। কোরআনের আয়াত ১৯৭১ সালে হিন্দুদের হত্যা তাদের বাড়িঘর লুণ্ঠন বা হিন্দু নারীদের ধর্ষণের জন্য নাজিল হয়নি।
বিবৃতিতে মুফতি ইজহার আরো বলেন, বাবু কালিদাস বৈদ্যের ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালে শেখ মুজিব’ বইয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে বিধয়া বইটি নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করে প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের পড়া উচিত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিজেরও পড়া উচিত এবং সরকারকে এর একটা সুন্দর সহনশীল ব্যাখ্যা দেয়া উচিত। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সকল সম্প্রদায়ের লোকের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সভা-সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো উচিত। কারণ বইটি ইন্টারনেট, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বইটি এখন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের জাতীয়তাবাদী বয়ান হিসেবে দেশের প্রত্যেক এলাকায় ও বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিবৃতি মুফতি ইজহার আরো বলেন, বাংলাদেশের আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ মসজিদের ইমাম, খতিবসহ প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ও ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এই আয়াতগুলির অপব্যাখ্যা দ্বারা যাতে কোনো রূপ বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আয়াতসমূহের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা। তিনি এ জন্য দেশের আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ মসজিদের ইমাম খতিবসহ প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে জুম’আর খুৎবায়, ওয়াজ মাহফিলে, আয়াতগুলির সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরার উদাত্ত আহŸান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করলে মানুষ বিপথগামী হতো না। ইসলামী শিক্ষা না থাকায় সর্বত্র মানুষ বিপথগামী হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষার অভাবে মানুষ ক্রমেই নৈতিকতাহীন হয়ে পড়ছে। পারিবারিকভাবেও এর প্রভাবে মানুষ দিশেহারা। তিনি বলেন, প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার অভাবেই মানুষ জঙ্গিবাদের মতো পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না। সরকার সিলেবাসে হাত দেয়ার কারণে এবং শিক্ষানীতি থেকে ইসলাম বাদ দেয়ার কারণে সর্বত্র মানুষ বিপথগামী হচ্ছে। এ থেকে বাঁচতে হলে শিক্ষানীতি সংশোধন করতে হবে, শিক্ষাআইন ২০১৬ বাতিল করতে হবে এবং সিলেবাস থেকে ইসলামবিরোধী সকল গল্প-কবিতা বাদ দিতে হবে।
সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এতে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ইমামগণ নসিহত পেশ করেন। মূর্তির সংস্কৃতি ইসলামবিরোধী। যারা মূর্তির সংস্কৃতি লালন করে তারা ঈমানদার হতে পারে না।
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেছেন, হোলি উৎসবের নামে নতুন করে যৌন-উৎপীড়নের ঘটনা ৯২ ভাগ মুসলমানকে দারুণভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে। এভাবে প্রকাশ্যে পর্দানশীন নারীদের উৎপীড়নের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দেশবাসী যখন গ্রিকমূর্তি অপসারণের আন্দোলনে ব্যস্ত ঠিক সে মুহূর্তে হোলি উৎসবের নামে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি সহ্য করা যায় না। অবিলম্বে হোলি খেলার নামে যৌন উৎপীড়নকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা নীরবে বসে থাকবে না।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।