Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশে সম্মানিত ভারতে অধিকার বঞ্চিত -ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

| প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু অধিকার বঞ্চিত নয়; অথচ ভারতে বঞ্চিত। বাংলাদেশে হিন্দু স¤প্রদায় সংখ্যার দিক থেকে ৮ পার্সেন্ট, কিন্তু বাংলাদেশের একশ’ সচিব পর্যায়ের আমলার মধ্যে ৩২ জনই হিন্দু স¤প্রদায়ের। তারা যোগ্যতার মাধ্যমে হয়েছে, কিন্তু ভারতের মুসলমানরা যোগ্যতা থাকলেও অধিকার পায় না। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৩০ পার্সেন্ট সংখ্যালঘু মুসলমান, কিন্তু একজনও সচিব নেই। উত্তর প্রদেশে ২০ পার্সেন্ট মুসলমান, কিন্তু একজন সংসদ সদস্যও নেই। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় নির্বাচন : নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন। আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রণব কাকুর কাছে আশীর্বাদ আনতে সঙ্গে ৩০ কেজি ইলিশ নিয়ে দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে কাজে ভারতে গিয়েছিলেন তা পুরোপুরিই অর্জন হয়েছে। বিজিবি-কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা স্থায়ী করতে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। কেননা সরকার যেনতেন ভাবে আরো ক্ষমতায় থাকতে চায়। তিনি বলেন, ভারত ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে অস্ত্র কেনার জন্য উন্নয়নের জন্য নয়। এ বিষয়ই প্রমাণ করে তারা আমাদের কাছে কি চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ আছে। সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়ের নিরাপত্তা আছে, কিন্তু ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নেই। আমাদের দেশে মানুষের মাঝে পরস্পর ধর্মীয় বিরোধ নেই। তারা ভ্রাতৃত্ববোধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ভারত চায় না বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকুক। বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু অধিকার বঞ্চিত নয় দাবী করে তিনি উদাহারণ টেনে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু স¤প্রদায় সংখ্যার দিক থেকে ৮ পার্সেন্ট, কিন্তু বাংলাদেশের একশো সচিব পর্যায়ের আমলার মধ্যে ৩২ জনই হিন্দু স¤প্রদায়ের। তারা যোগ্যতার মাধ্যমে হয়েছে, কিন্তু ভারতের মুসলমানরা যোগ্যতা থাকলেও অধিকার পায় না। পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ৩০ পার্সেন্ট সংখ্যালঘু মুসলমান কিন্তু একজনও সচিব নেই। উত্তর প্রদেশে ২০ পার্সেন্ট মুসলমান কিন্তু একজন সংসদ সদস্যও নেই। এমনকি নিজের ধর্ম পালনেও রয়েছে বিধিনিষেধ।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি এবং এ নিয়ে বিতর্ক-বাণিজ্য চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশীরা (ভারত) ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা ভিসায় ভারত সফরে নিয়ে যেতে চায় কেন? মুক্তিযোদ্ধা তো আরো অনেক আছে এই ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের কেন? নিশ্চয়ই তৎকালীন সময়ে ভারতের তাঁবেদার বাহিনীর সদস্য এরা। নির্বাচন প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, আর যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এবং ক্ষমতার পরিবর্তন হয় অর্থাৎ শেখ হাসিনার পরিবর্তে অন্য কেউ ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের লাভটা কোথায়? তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তাদেরকে প্রতিশ্রæতি দিতে হবে তারা জনগণের জন্য কী করবেন? তা আগেই জনগণকে জানাতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে করেই হোক সর্বদলীয় যুক্তফ্রন্টের মতো একটি সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, যেখানে র‌্যাব থাকবে না, সামরিক বাহিনী দিয়ে ব্যবসা করা যাবে না, কৃষক শ্রমিকদের কী দিবে তা স্পষ্ট করতে হবে, আইনের সংশোধন করতে হবে, অন্যায়ভাবে কাউকে আটক করা যাবে না, আটককৃতদের দ্রæত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, পুলিশ কথায় কথায় গুলি করবে না এমন প্রতিশ্রæতি স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক আরো বলেন, বিএনপিকে বড় দলের অহমিকা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। অন্যথায় শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ইসলাম শান্তি, সংস্কার এবং সহাবস্থানের ধর্ম। ফলে ধর্ম নিয়ে যেমন কারো বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়; তেমনি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করাও উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক মূর্তি সরানোর কথা বলে ভুল করেছেন। আবার সেটা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ঘাড়ে চাপিয়ে আরো বেশি ভুল করেছেন। এটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করতে চেয়েছেন, ভবিষ্যতে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। কেননা, আজ গ্রিক ভাস্কর্যকে মূর্তি আর বাংলাদেশি ভাস্কর্যকে ভাস্কর্য বলছেন, এটা হয় না।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের সংস্কারের কথা না বলে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে এমএ সমমান দিয়ে আরেকটি ভুল করেছেন। বরং তিনি সংস্কারের কথা বলতে পারতেন। ওই শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করে যুগোপযোগী করার কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি বলেননি। এর মাধ্যমেই বুঝা যায়-এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা ইসলামের ইতিহাসের কথা বলি, অথচ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় হযরত আয়েশা (রা.) এর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করছি না। ওই সময় নারীদের অবস্থান কেমন ছিল, তারা সমাজে কেমন ভূমিকা পালন করেছেন তা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে না। এটা মেনে নেয়া যায় না। নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে হযরত আয়েশা (রা.) এর জীবনী পাঠ্য করা হলে সেটা একটা কাজের কাজ হতো। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। কেন করা হচ্ছে না, তা আমরা জানি না। ফলে ধর্মকে নিয়ে বাড়াবাড়ি ও রাজনীতি করা কারো উচিত নয়। দেশে চলমান শিক্ষাব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুরআনের সঙ্গে বিজ্ঞান-গণিত ও ইংরেজি শিক্ষা দেয়া হলে অন্যায় কোথায়? তাই দাওরাকে এমএ ডিগ্রীর সমমান দেয়া হলেও সংস্কারের কথা বলেননি প্রধানমন্ত্রী। ফলে এটা পুরোটাই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য করা হয়েছে। কাশ্মীর পরিস্থিতি তুলে ধরে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কাশ্মীরে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ১৯৭১ সালে আমাদের দেশেও একই চিত্র ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমার আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত কাশ্মীরের পক্ষে কথা বলা। কেননা কাশ্মীর তাদের স্বাধীনতার জন্যেই লড়াই করছে। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ১৭ এপ্রিল, ২০১৭, ৮:৩৮ পিএম says : 0
    বাংলাদেশের হিসাবে ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীও ডঃ ইউনুসের মতই একজন বুদ্ধিজীবী হিসাবে পরিগণিত। ডঃ জাফরুল্লাহ সমাজে বহুল পরিচিত একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। কিন্তু আমি ওনারকে জানতাম দেশ স্বাধীন হবার পর এই দুই ডঃ ও ব্রাকের আবেদ সাহেব একত্রে দেশের উন্নয়ন কাজে নেমেছিলেন। সত্য কথা বলতে কি আমি কখনো ওনাদের মুক্তিযুদ্ধের কি অবদান এটা জানতে চাইনি আমি নিজেও আমার মুক্তিযুদ্ধের কথা ফলাও করে কখনো বলিনি। কারন আমি যা দেখেছে সেটাই আমার কাছে বড় মনে হয়েছে। সে সময় বলতে গেলে দেশের বার আনা লোক আমাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে তাহলে সবাই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এটাই আমার বিশ্বাস এখনও। জাফরুল্লাহ সাহেবকে পূর্বে দেখেছি তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও জামাত-বিএনপি কে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে অনেক মূল্যবান উপদেশ দিতেন যানাকি প্রকৃতই দূরমূল্য উপদেশ। কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ওনার কথা শুনেছেন কি??? না শুনেন নি সেটাও আবার সংবাদ হয়ে আমাদের কাছে এসেছে। এখন তিনি আবার আদর্শ নাগরিক সংগঠনের প্রধান অতিথী হয়ে যে সব কথা বলেছেন এটা প্রথমত প্রমান স্বাপেক্ষের বক্তব্য যা নাকি সাধারণত সরকার বিরুধি দলই দিয়ে থাকে। তাহলে প্রশ্ন আসে তিনি কোন সরকার বিরুধি দলের হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে এতই ঠুনক অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন যে আমি থ...... ওনার মত একজন লোকের মুখ থেকে এসব ঠুনক কথা আমি মনে করি শোভা পায় না; ভুল বলেছি কি??? আমি মনে করি উনি মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে কথা বলে আমাদের (মুক্তযোদ্ধাদের) মধ্যে বিবেধের সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন এটা কি একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের করনিয় কাজ??? উনি এনেছেন কাশ্মির প্রসঙ্গ, বাংলাদেশের সাধারন মানুষ কাশ্মীর নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই হঠাত এই বিষয় আনাটা কি অযুক্তিক নয় কি??? বাংলাদেশের হিন্দু ভারতের মুসলমান নিয়ে আলোচনাটা কি বেমানান নয় কি??? ..............আল্লাহ্‌ আমাদেরকে শুধু মুসলমান করে না রেখে আমাদেরকে ইসলাম শিখার ও বুঝার ক্ষমতা দান করুন। আমীন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন