Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

অ্যাপলকে হটিয়ে শীর্ষে স্যামসাং

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার

| প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

শওকত আলম পলাশ : চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে দখল বিবেচনায় অ্যাপলকে হটিয়ে শীর্ষ অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে স্যামসাং। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে স্মার্টফোন উৎপাদন ভলিউম বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির বাজার দখল দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বাজার দখল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। বাজার বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সিএনবিসি ও এনডিটিভি জানিয়েছে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে একমাত্র ব্র্যান্ড হিসেবে স্যামসাং উৎপাদন প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে। গ্যালাক্সি জে সিরিজের ডিভাইস এতে মূল ভূমিকা রেখেছে। গ্যালাক্সি নোট ৭ অগ্নিকান্ড নিয়ে জটিলতা সত্ত্বেও জে সিরিজের স্মার্টফোন দিয়ে গত বছরজুড়ে ভালো ব্যবসা করেছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। এর ধারাবাহিকতা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও অক্ষুণ্ন রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট; যা এর আগের প্রান্তিক অর্থাত্ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক স্মার্টফোন ডিভাইস উৎপাদন খাত এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এক অংকের প্রবৃদ্ধির মুখ দেখবে। ২০১৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাংয়ের দখল ছিল ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। একই প্রান্তিকে অ্যাপলের দখলে ছিল বাজারের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছর চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের উৎপাদন কমেছে ৩৬ শতাংশ। ট্রেন্ডফোর্সের তথ্যমতে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে গ্যালাক্সি জে সিরিজের ডিভাইস স্যামসাংকে স্মার্টফোন বাজার দখলে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কিন্তু গ্যালাক্সি নোট ৭ স্মার্টফোন জটিলতার কারণে হাই-এন্ড স্মার্টফোন বাজারে খুব একটা ভালো ব্যবসা করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বাজেটসাশ্রয়ী ও মাঝারি মূল্যমানের ডিভাইসগুলো এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বৈশ্বিক বাজারে জে সিরিজের ডিভাইসগুলো সরবরাহ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়াতে ভালো অবদান রেখেছে।
ট্রেন্ডফোর্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে গ্যালাক্সি এ৮ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে ডিভাইসটি ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফলে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্মার্টফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আইফোন উৎপাদন ৪ কোটি ৩০ লাখ ইউনিটে দাঁড়াবে; যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। বলা হচ্ছে, সর্বশেষ আইফোনের দুই সংস্করণের উৎপাদন কমাতে পারে অ্যাপল। কারণ এরই মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন উন্মোচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এটি উন্মোচন করা হতে পারে। মজার বিষয় হলো অ্যাপল এরই মধ্যে আইফোন ৭ ও ৭ প্লাসের লাল রঙের বিশেষ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। গ্রাহক পর্যায়ে এ সংস্করণগুলো ভালো সাড়া ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে; যা অ্যাপলের বাজার দখল বাড়াতে এবং প্রতিদ্ব›দ্বী স্যামসাংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বাজার দখল নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা কমে অপো, ভিভো ও এলজির বাজার দখল দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৮ দশমিক ১, ৬ দশমিক ২ ও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনভিত্তিক ডিভাইস নির্মাতারা উৎপাদন করেছে ১৪ কোটি ১৭ লাখ ইউনিট ডিভাইস। এসব ডিভাইসের ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ উৎপাদন করেছে হুয়াওয়ে। অপো উৎপাদন করেছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ভিভো, শাওমি ও জেডটিই উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৪, ৮ দশমিক ১ ও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের ডিভাইস নির্মাতাদের উৎপাদন বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।