Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭ মাঘ ১৪২৭, ০৭ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ডিএসই’র একগুচ্ছ প্রস্তাব

| প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : পুঁজিবাজার উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে করণীয় বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জের কর অবকাশ সুবিধা বৃদ্ধি করা, করমুক্ত আয় ও করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের পরিমাণ বাড়ানো, বহুজাতিক কোম্পানি ও স্থানীয় ব্লুচিপ কোম্পানিগুলো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তকরণে আরো অধিকতর উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধান বাড়ানো ইত্যাদি
গত ৯ এপ্রিল এনবিআরের কার্যালয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছেÑ
১. ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম সরকার অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই স্কিমের আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জের যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে তা চলমান রাখতে ও পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির স্বার্থে ১০০ শতাংশ হারে কর অবকাশ (পরবর্তী তিন বছরের জন্য) ২০১৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখা একান্তই প্রয়োজন।
২. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে সমন্বয় রেখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্রেডিং ও ম্যাচিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করেছে। বাজারের ব্যাপ্তি ও লেনদেন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএসই সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন চালু, ইটিএফ, ডেরিভেটিভসের মতো এডভান্সড ইন্সট্রুমেন্ট চালুর জন্য কাজ করছে। ঝগঊ বা স্বল্প মূলধনী কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তত্ত্বাবধানে ডিএসইতে একটি পৃথক বোর্ড গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া পৃথক ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি এবং ওটিসি মার্কেটের আধুনিকায়ণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ডিএসইর আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন। যার ফলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদে একটি নতুন উচ্চতায় স্থান পাবে এবং দৈনিক লেনদেনের হার দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে, এই মর্মে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. এখানে উল্লেখ্য, আয়কর ধারা ৫৩ বিবিবি, ৫৩ এম, ডিভিডেন্ড ট্যাক্স এবং বিও অ্যাকাউন্ট চার্জ বাবদ সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাত্র ৫২ কোটি টাকা লেনদেন ফি আয় করে যা সরকারি কোষাগারে জমাকৃত করের এক পঞ্চমাংশ (১/৫) মাত্র। লেনদেন দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হলে এসব খাত থেকে সরকার বাৎসরিক প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করবে। অর্থাৎ এক্সচেঞ্জের আয়ের ওপর করের পরিবর্তে ট্রেড বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার অধিকতর লাভবান হতে পারে।
৪. ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রচলিত নিয়মে পূর্ণ কর অব্যাহতির পরিবর্তে ২০১৪-১৫ অর্থবছর হতে ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদি ক্রমহ্রাসমান হারে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়। তবে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় বৎসর ও পূর্ণ কর অবকাশ প্রদান করেন। সেই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী তিন বছরের জন্যও পূর্ণ কর অবকাশ বিশেষ বিবেচনার আওতায় আনা প্রত্যাশিত প্রক্রিয়া।
৫. ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পূর্বে এক্সচেঞ্জের আয় করমুক্ত ছিল। এখন যদি আয়কর আরোপ করা হয় তবে সরকার, এক্সচেঞ্জসমূহসহ দেশের সকল বিনিয়োগকারী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা নিম্নে উপস্থাপিত হলোÑ
ক. বর্তমানে ডিএসই পরিচালন ক্ষতির সম্মুখীন। এমতাবস্থায় এক্সচেঞ্জের আয়ের ওপর যদি করারোপ করা হয়, সে ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে লেনদেন ফির হার বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে, যা প্রকারান্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপরই বর্তাবে। ফলত: বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে যা শিল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
খ. করের কারণে লেনদেন ফি বাড়িয়ে দিলে ট্রেডের পরিমাণ ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে, ফলে এই খাতেও প্রচুর রাজস্ব হ্রাস পাবে যা বর্তমান রাজস্বের চার গুন পরিমাণ (এক হাজার কোটি টাকা) হতে পারে।
গ. ডিএসই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু ৯ কোটি টাকা নিট পরিচালন মুনাফা করেছে, সুতরাং এখনই যদি আবার এ আয়ের ওপর করারোপ করা হয় সে ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ অতি শীঘ্রই পরিচালন মূলধনের ঘাটতির সম্মুখীন হবে, যা সরকারের ডিমিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জের সফলতার ব্যাপারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও স্বদিচ্ছার ব্যত্যয় ঘটাবে বলে প্রতীয়মান হয়।
৬. বর্তমানে দেশের প্রায় এক কোটি লোক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারকেন্দ্র্রিক ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বিশ্বায়নের যুগেও পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে সরকারের রাজস্বনীতি সহায়তা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এমতাবস্থায় দেশে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে উপরোক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড পরবর্তী তিন বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কর অবকাশ প্রাপ্তির ন্যায্য দাবিদার।
৭. তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট আয়কর হারের পার্থক্য শতকরা ১০ এর পরিবর্তে শতকরা ২০ এ বৃদ্ধি করা উচিত। এতে অধিক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও স্থানীয় বøুচিপ কোম্পানিগুলো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তকরণে আরো অধিকতর উৎসাহিত করবে। চ‚ড়ান্তভাবে এতে আমাদের দেশে ও পুঁজিবাজারে অধিক পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। রাজস্ব প্রণোদনার মাধ্যমে দেশে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন উন্নত দেশের সরকারের জন্য একটি প্রচলিত ঘটনা।
৮. শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইত্যাদি লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.০৫ শতাংশ এর স্থলে ০.০১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৯. ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই।
এ ছাড়া ১০. গত ২ (দুই) বছর ধরে আয়কর অব্যাহতির সীমা অপরিবর্তনীয় রয়েছে। এরই মধ্যে জীবনযাত্রা ব্যয়ের সূচক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই বর্ধিত জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আয়কর মুক্তিসীমা একটি যৌক্তিক পর্যায় পর্যন্ত বৃৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে করমুক্ত আয়ের সীমা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার স্থলে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। -ওয়েবসাইট



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুঁজিবাজার

১৯ জানুয়ারি, ২০২১
১৮ জানুয়ারি, ২০২১
২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ