Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭, ১৪ বৈশাখ , ১৪২৪, ২৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী।

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ লাবীবুল বারী উসাইদ, উত্তরা, ঢাকা।
জিজ্ঞাসাঃ ‘ইসলাম একটি গতিশীল ধর্ম’ এ কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
জবাবঃ ইসলাম একটি গতিশীল ধর্ম, যুগে যুগে কালে কালে এ ধর্ম মানুষের চলার পথে দেবে সকল প্রশ্নের জবাব। এজন্য মুজতাহিদের (গবেষণাকারী) জন্য দু’টি পুরস্কার। গবেষণার জন্য একটি এবং অনুসন্ধান ও গবেষণা কাজের জন্য অন্যটি। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা, পারস্পরিক সমঝোতা রাসূলের চরিত্রে এটাও ছিল এক বড় বৈশিষ্ট্য। সামাজিক বিবর্তন সম্বন্ধে তিনি আশ্চর্যভাবে সচেতন ছিলেন। তার একটা বিখ্যাত হাদীস ঃ “বস্তুত তোমরা এমন এক যুগে আছ যখন তোমাদের কেউ যদি যা নির্দেশ করা হয়েছে তার এক-দশমাংশও ছেড়ে দেয় তার ধ্বংস অনিবার্য। কিন্তু এরপর এমন এক যুগ আসবে তখন তোমাদেও কেউ যদি যা নির্দেশ করা হয়েছে তার এক-দশমাংশও পালন করে সে নিশ্চয়ই মুক্তি পাবে।” জিজ্ঞাসা করি সে যুগ কি আসে নাই? দেড় হাজার বছর পূর্বের এ যুগ নেতা তাঁর অন্তদৃষ্টি দিয়ে মানব সমাজের এ ভবিষ্যৎ অবস্থা দেখতে পেয়েছিলেন তাই ধর্মীয় বিষয়েও তিনি গোঁড়ামির পরিচয় দেন নাই। জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ করতে বলেছেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, “রাসূল (সাঃ) নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, ওমরাহ এবং আরও সব নেকীর কথা উল্লেখ করে বলেন, “মানুষ এসব কিছু করে ঠিকই কিন্তু কেয়ামতের দিন নিজের বুদ্ধি-জ্ঞান অনুযায়ী সে এসবের বদলা পাবে।” (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- “রহমানের বান্দা হচ্ছে তারা যাদেরকে তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করে দিলে তারা অন্ধ ও কালার মতো তার উপর লুটিয়ে পড়ে না।” অর্থাৎ তারা জ্ঞান-বুদ্ধি ব্যবহার করে।
তাঁর একটা বিখ্যাত হাদীস “নগরবাসীর বিরুদ্ধে পল্লীবাসীর সাক্ষ্যগ্রহণীয় নয়।” এখানেও তিনি অসাধারণ সমাজ সচেতনতারই পরিচয় দিয়েছেন। এভাবে তাঁর পবিত্র জীবন আলোচনা করলে দেখা যাবে তিনি কেবল তাঁর যুগ ও জাতির কথা ভাবেননি। সমস্ত যুগের মানুষের কথা ভেবেছেন। স্থান-সময়-পরিবেশকে ভেবেছেন। মতাদর্শ রেখে গেছেন মানুষের সর্বযুগের সকল সমস্যা সমাধানের। তাই তিনি সর্বযুগের নেতা।
মানুষের দৃষ্টি ও চিন্তাশক্তি যতই উন্নত ও যুগোপযোগী হবে কুরআন-হাদীস উপলব্ধি ও মোহাম্মদী মতাদর্শ গ্রহণ ততই সহজ হবে। ‘মোহাম্মদী’ গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে চিন্তার ক্ষেত্রে জড়ত্ব এবং একটি বিশেষ যুগ ও নির্দিষ্ট স্তরের জ্ঞানের মধ্যে সবকিছু সীমাবদ্ধ করে দেখা। কোরআন শরীফ যেমন একটা বিশেষ যুগ বা বিশেষ জাতির জন্য অবতীর্ণ হয়নি তেমনি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র হাদীসগুলো পরবর্তী যুগে এর মমার্থ উপলব্ধির জন্য পূর্ববর্তী জ্ঞানের চেয়ে অধিক জ্ঞানের প্রয়োজন। এ জ্ঞান হতে হবে বাস্তবমুখী ও যুগ জিজ্ঞাসার নির্জাস। এই ¯্রােতধারাকে অবলম্বন করেই ইসলাম রোজ কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। এর কোন অন্যথা হবে না।
উত্তর দিচ্ছেন ঃ নাজির আহমদ জীবন

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।