Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ হাটাহাজারীতে কারখানার বর্জ্যে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ : হালদার পানি দূষণের আশঙ্কা

| প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী : হাটহাজারী উপজেলার এক নম্বর থেকে দক্ষিণ পাহাড়তলী সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডে স্থাপিত একটি কারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এদিকে কারখানার বর্জ্য দক্ষিন এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এ মারাত্মক দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসী গতকাল মঙ্গলবার কারখানার সামনে মানববন্ধন করেছে। তাছাড়া হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে গতকাল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। স্মারকলিপির বিবরণে জানা যায়, বিগত দুই বছর আগে সিটি করপোরেশনস্থ এক নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের নন্দীরহাটের পশ্চিম পার্শ্বে এফডিএন এনার্জি লিমিটেড নামে একটি টায়ার কারখানা স্থাপনপূর্বক তৈল উৎপাদন করে আসছিল। কারখানা প্রতিষ্ঠার পর পরীক্ষামূলকভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মাত্র ছয় মাসের ছাড়পত্র নিয়ে চলে আসছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে এলাকাবাসী লক্ষ্য করছে, এ কারখানার বর্জ্যরে কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, বায়ু দূষিত হচ্ছে। পানি-মাটিসহ কারখানার বর্জ্য জলাশয়ে পড়ে মাছসহ জলজ প্রাণী সীমাহীনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বায়ু দূষণ ও কারখানার বর্জ্য খেয়ে মারা যাচ্ছে। শিশুরা শ্বাস কষ্টসহ নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দূষিত বর্জ্যরে দুর্গন্ধের জন্য এলাকার রাস্তা দিয়ে লোকজনের হাঁটাচলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় খাজা গরিব নেওয়াজ নূরানী মাদরাসার পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যাতায়তে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গত সোমবার রাতে এ কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে থেকে হঠাৎ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অগ্নিকান্ডের বিষয়টি হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হলে তারা দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানার বর্জ্য পার্শ্ববর্তী ছরাদিয়ে হালদা নদীতে পড়ে নদীর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
স্থানিয় গণমাধ্যম কর্মীরা এফডিএন এনার্জি লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী মো. সোহেলের কাছে পরিবেশের ছাড়পত্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি যে ছাড়পত্রটি দেখান, তার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে শেষ হয়ে যায়। পরিবেশ অধিদপ্তর শর্তসাপেক্ষে মাত্র ছয় মাসের জন্য ছাড়পত্রটি দিয়েছিল। ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে প্রশ্ন করা হলে ওই প্রকৌশলী এ ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান। স্থানীয় গৃহিণী ফতেমা বেগম (২৭) বলেন, এফডিএন এনার্জি লিমিটেড নামে এ টায়ার কারখানার বর্জ্যরে কারণে বিগত একমাস আগে তার ১৬টি মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। দূষিত বর্জ্য তৈরিকারী এ ধরনের কারখানা স্থাপন না করে একটি পোশাক তৈরি কারখানা স্থাপন করলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হতো। এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও রক্ষা পেত। এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল (৪৫) জানান, এলাকায় ২৫০ পরিবারের এক হাজার ৫০০ জনসাধারণ সীমাহীন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মানুষ নানা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে এ কারখান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এলাকাবাসী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ