Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র, ১৪২৪, ২৪ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

ঝড়ে বিধ্বস্ত অর্ধশতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্তদের মানবেতর জীবন

| প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছে। ঘটনার ৫ দিন পরও তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউই। গত শনিবার বিকেলে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গ্রামের সবকিছুই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অর্থাভাবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামত করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাহায্যের আশায় চেয়ারম্যান-উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও বাড়ায়নি কেউ সাহায্যের হাত। জানা যায়, উপজেলার নয়ারহাট, অষ্টমীরচর, চিলমারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে গত শনিবার প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। নষ্ট হয়ে যায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলি জমি। বেশিরভাগ পরিবার ঘরবাড়ি মেরামত করতে না পারায় বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল গ্রামের সৈয়দ জামান, বিষার পাড়ার হাসেনা (৪০), শাহজাহান (৪৫), গাজিরপাড়া গ্রামের রাশেদা, মনতোলার রাবেয়া, অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মাইচবাড়ীর আমেনা, খদ্দবাশপাতারি এলাকার মালেক, গোলাম, হাসেনসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ের তান্ডবের শিকার মানুষজনের আহাজারি। ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ছেলেমেয়ে নিয়ে অর্ধাহারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঝড়ের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সাহায্য তারা পাননি এবং কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তারা তাদের খোঁজখবরও নেয়নি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শুধু তাই নয় কালবৈশাখীর ছোবল ও বৃষ্টিতে ইরি-বোরোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরাও দিশাহারা হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের পাশেও এখন পর্যন্ত দাঁড়ায়নি কৃষি বিভাগের লোকজন। চিলমারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুর রহমান জানান, আমার এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হওয়ায় অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই কথা জানালেন অষ্টমীর চর ইউপি চেয়ারম্যান। তারা আরও জানান, বিষয়টি পিআইও এবং ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদৌলা জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনো আমার কাছে আসেনি। তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বেগ জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। চ‚ড়ান্ত তালিকা পেলে শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায়তা দেয়া হবে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।