Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

পদ্মাসেতু ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে অনেকে এখন রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র করার পথ বেছে নিয়েছে : হাছান মাহমুদ

| প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রামপাল নিয়ে অনুমান, আবেগ এবং জ্যোতিষবিদ্যানির্ভর অভিযোগ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, গতকাল যিনি সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি, তার সংগঠনসহ টিআইবি এবং জাতীয় তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা কমিটির অনেকেই পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠেপরে লেগেছিলেন। কিন্তু মামলায় বিশ্বব্যাংক হেরে যায়। এ মামলার রায়ের পরে আমরা তাদেরকে জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহŸান জানিয়েছিলাম। পদ্মা সেতুতে ষড়যন্ত্রে সফল না হয়ে তারা এখন রামপালকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করার পথ বেছে নিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে দলটি।
হাছান মাহমুদ বলেন, রামপাল নিয়ে তাদের অভিযোগ অনুমান, আবেগ এবং জ্যোতিষবিদ্যানির্ভর। বিজ্ঞাননির্ভর নয়। যারা অভিযোগ করছেন, তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুমান কিংবা শুধু আবেগনির্ভর নয়, ষড়যন্ত্রনির্ভর। যারা আবেগের কারণে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু যাদের অভিযোগ জ্যোতিষবিজ্ঞাননির্ভর; তাদেরকে বিজ্ঞান নির্ভর কোনো যুক্তি উপস্থাপনের আহŸান জানাই।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন, রামপাল নিয়ে সরকার দেশে-বিদেশে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার কোনো তথ্য দিচ্ছে না। এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে না। সুলতানা কামালের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তিনিসহ যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারাই জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এক্সিম ব্যাংক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।
তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রথমে সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার অধিকতর নিরাপত্তার জন্য আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করছে সরকার।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিঃসরিত ছাই কিনতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা এখনই যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।
এসময় হাছান বলেন, বড় পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সেখানকার ক্ষেত-খামারের উৎপাদন না কমে, কোনো কোনো জায়গায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সনাতন পদ্ধতির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে যেখানে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। সেখানে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির কারণে ওইসব এলাকার কোনো ক্ষতি হবে না।
সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, গতকালকের সংবাদ সম্মেলনে যেসব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেছেন, তাদের কয়েকজনকে আমি চিনি। পৃথিবীতে টাকা দিলে অনেক ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায়।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরানোর সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান বলেন, আমাদের সরকার প্রধান বলেছেন সকল প্রকার সুরক্ষা নিয়েই আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। তাই এ প্রকল্প অন্যত্র সরানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই।
রামপাল ইস্যুতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির প্রচার সম্পাদক বলেন, পদ্মা সেতু নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তখন একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও সচিব গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে। রামপাল ইস্যুতে এখন যারা জাতিকে বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এবারও সরকারের বক্তব্যই সত্য বলে প্রমাণিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমÐলীর সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ২১ এপ্রিল, ২০১৭, ৬:০০ পিএম says : 0
    আমি এখানে হাসান মামুদ সাহেবের বক্তব্য শুনলাম এবং এটা প্রতীয়মান হয় যে, প্রকৃতই সারকার রামপাল প্রকল্প নিয়ে জনগণের বিপদ ডেকে আনছে। এখানে পদ্মা সেতু ও রামপাল এক নয় পদ্মা সেতুতে সরাসরি টাকা আত্মসাতের বিষয় ছিল। আর রামপাল হচ্ছে পরিবেশ বিষয়......... এই দুই ভিন্ন বিষয়কে এক করাটা প্রাক্তন মন্ত্রীর উকিলি মার পেচের মতই উদাহরণ টানার চেষ্টা করেছেন এটাই পরিষ্কার তাই না??? রামপাল পরিবেশ দোষন করবে এটার উপর কথা বলা দরকার হাসান সাহেবের। তিনি ব্যাংকের বিষয়ে তিনি এতই খোড়া যুক্তি দিলেন যে ঐ দেশের সরকার অনুমতি দিয়েছে কাজেই এর কোন প্রশ্ন আসেনা!!! এখানে প্রশ্ন হচ্ছে এক্সিম ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের সরকার কিংবা সংস্থার সাথে কি চুক্তি হয়েছে এটাই আমার বা আমাদের জানার বিষয়। আমরা ঐ দেশ কি করল সেটা আমরা জনতেও চাইব না কারন তারা তাদের আর্থিক লাভের জন্য অন্য দেশের ক্ষতি হলেও তাদের কিছুই যায় আসেনা। কিন্তু সরকার আমাদের রক্তে উপার্জিত টাকা অন্যদেশকে দিবে সুদ হিসাবে আমাদের ক্ষতি করে এটা মান যায় কি হাসাণ সাহেব??? আমি বা আমরা চাই এক্সিম ব্যাংকের সাথে কি চুক্তি হয়েছে সেটা জানতে। অবশ্যই একদেশ অপর দেশের সাথে যখন চুক্তি করে তখন সেটাকে আন্তর্জাতিক চুক্তি বলে। আপনি বলেছেন, এক্সিম ব্যাংক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। কেন অবান্তর আমাদের রক্তের টাকা দিয়ে আপনি সুদ পরিশোধ করবেন আর সেই সুদের টাকা কি আমাদের কল্যাণে দিচ্ছেন নাকি আপনার নিজের স্বার্থে ব্যায় হচ্ছে এটা দেখার অধিকার জনগণের আছে হাসন সাহেব তাই না??? সুফিয়া কামালের কথা মানে শরীরে বিষ দিয়ে আবার সেটাকে নষ্ট করার জন্য আবার ক্যামিকেল দিচ্ছেন এটা কি একটা ভাল পদ্ধতী হাসান সাহেব??? আবার এই অতিরিক্ত খরচের জন্য বিদ্যুৎ বানাতে কি পরিমাণ খরচ হবে এবং মূল্য কত দাঁড়াবে তার হিসবটাও জনগণ চাইতে পারে না কি??? তাহলে আপনি সেই হিসাবটা দিচ্ছেন না কেন??? আপনি বলছেন, যে বিষ বের হবে সেটাকে নষ্ট করার জন্য সাধারন যন্ত্রপাতি ব্যাবহার না করে উচ্চ দরের যন্ত্রপাতি আমদানি করছেন এটা নিশ্চয় ভারত থেকে এবং ধার করে করছেন যে জন্য সুদ টানতে হবে তাই না??? তাহলে কয়লা দিয়ে বিদ্যু বানাতে যে খরচ কম হয় তারচেয়ে কি বেশী খরচ হবে না এখানে??? এই প্রশ্নের জবাব কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন হাসন সাহেব জানতে পারি কি??? আমি বা আমরা অসহায় আপনাদের সাথে পাল্লা দেবার ক্ষমতা নেই তাই আল্লাহ্‌র দরবারে ফরিয়াদ করছি তিনি যেন আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের যারা এখন আমাদের নিয়ে ছিনি মিনি খেলছে তাদেরকে হেদায়েত দান করেন। আমীন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ