Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ জুন ২০১৭, ১১ আষাঢ়, ১৪২৪, ২৯ রমজান ১৪৩৮ হিজরী

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্রেন ভেঙ্গে ওয়ার্কশপ ভবন ও সীমানা প্রাচীর বিধ্বস্ত

কালবৈশাখীর আঘাত

| প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

পাবনা জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা সংবাদদাতা : পাবনার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই দফা প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্রেন ভেঙে নির্মাণাধীন অস্থায়ী শেডের একটি লোহার স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পাশর্^বর্তী ভবনের উপর হেলে পড়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে এ ঘটনার পর থেকে স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত সকল কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় রাশিয়ার টেকনিশিয়ানসহ  নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। এই বিপর্যয়ে জনমনে শংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে বুধবার দিবাগত সন্ধ্যার পর ও রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার ৯টি উপজেলার উপর কাল বৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ-পালা পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ ও নেট সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের সাথে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাতে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন স্থানে কাঁচা-ঘর বাড়ি ও কাঁচা-পাকা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে মাঠে থাকা বিলম্বে রোপণ করা পেঁয়াজের আরেক দফা ক্ষতি হলো।
জানা গেছে, পাবনার  ঈশ্বরদীর উপর দিয়ে কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নির্মাণাধীন গ্যংট্রি ক্রেন ভেঙ্গে পড়ে ওয়ার্কশপ ভবন প্রচন্ড শব্দে বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া সাইট অফিসের নির্মাণাধীন গ্রীন সিটি এলাকায় গাছ ভেঙ্গে পড়লে ৭০ ফুট পুরাতন সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপপুর এলাকায় প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রকল্পের কাজের জন্য রেল লাইনের উপর একটি সুদীর্ঘ গ্যংট্রি ক্রেন দিয়ে রাশিয়ান নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। বাতাসের প্রবল বেগের কারণে ক্রেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে ভেঙ্গে ওয়ার্কশপের উপর পড়ে যায়। গ্যংট্রি ক্রেনের ওজনে মাটি দেবে যায় এবং ওয়ার্কশপটি বিধ্বস্ত  হয়। এই  ওয়ার্কশপ নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে ছিল। এভাবে প্রবল বেগে ঝড় হতে পারে রাশিয়ান টেকনিশিয়ানরা বুঝে উঠতে পারেননি। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, লাইনের উপর নির্মাণাধীন ক্রেন যাতে চলতে না পারে এজন্য প্রটেকশনের ব্যবস্থা না রাখায় সহজেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায়  কর্মরতদের গাফিলতির কারণে হয়েছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। দেশের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ কেউ জানাতে না পারলেও ক্ষতিক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাইট অফিস এলাকায় নির্মাণাধীন গ্রীন সিটির পাশে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ৭০ ফিট সীমানা প্রাচীর  বিধ্বস্ত  হওয়াতে প্রকল্পের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই সীমানা প্রাচীরটি পুরতান জানা সত্বেও নুতন করে আর নির্মাণ কেন করা হয়নি এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত সকল কাজ বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এক সূত্র জানান, মাটি সম্পূর্ণ না বসায় পাইলিং  বুধবার রাতের বৃষ্টিতে পিলারের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়, এ সময় ঝড়ো বাতাসে লোহার তৈরি পুরো স্ট্রাকচারটি কাত হয়ে পাশের ওয়ার্কশপের ছাদে গিয়ে পড়ে। তবে এ সময় ওয়ার্কশপ বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন সাংবাদিকদের স্ট্রাকচার হেলে পড়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, এতে কেউ আহত হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হেলে পড়া স্ট্রাকচারটি অপসারণের কাজ চলছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণাধীন ৭০ ফুট সীমানা প্রাচীরও পড়ে যায় বলে  তিনি জানান।


 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।