Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যার পরে আদালতে স্বীকারোক্তি

| প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম


বরিশাল ব্যুরো : অবশেষে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা পাখিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিল ছাত্রলীগ কর্মী মীর্জা আজমল হোসেন রুম্মান। প্রেমের সম্পর্ক থেকে অবৈধ দৈহিক মিলনে প্রেমিকা অন্তঃসত্ত¡া হয়ে পড়ায় গর্ভপাতে চাপ প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়েই পাখিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার কথাও সে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করে। বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় এ সংক্রান্ত জবানবন্দি রেকর্ড করার পরে রুম্মানকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার ল²ীপুর-জালালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রুম্মান ও আছিয়া আক্তার পাখি একই এলাকার এবং বরিশাল মহানগরীর দুটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা যথেষ্ট নিবিড় পর্যায়ে পৌঁছে। আছিয়া আক্তার পাখি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী। অপরদিকে মীর্জা আজমল হোসেন রুম্মান বরিশাল বিএম কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তরে এবার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছে। নানা কারণে মাস কয়েক আগে মহিলা কলেজের হোস্টেল থেকে পাখির সিট বাতিল করার পরে তারা পাখি ও রুম্মান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নগরীর কাউনিয়া এলাকার জনৈক কালা খাঁ’র ফ্লাট বাড়ির দোতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। সেখানে দু’জন অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর মতোই বসবাস করছিল গত কয়েক মাস। আর এরই সুবাদে অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের জের ধরে পাখির গর্ভে রুম্মানের সন্তান আসে। ঘটনাটি টের পেয়ে রুম্মান গর্ভপাত করার জন্য পাখিকে চাপ দিতে শুরু করে। আর পাখি সন্তান নষ্ট না করে অবিলম্বে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়।
এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে রুমান তাদের কক্ষে পাখিকে পাটের দড়ি দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে মর্গে পাঠায়। পাখির বাবা স্কুল শিক্ষক মীর্জা জাকির হোসেন বরিশালে ছুটে এসে মেয়ের লাশ গ্রহণ ছাড়াও রুম্মানসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে নগরীর কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঐ রাতেই রুম্মানকে গ্রেফতার করে। পরে মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুম্মান তার এ লোমহর্ষক পৈশাচিকতার কথা স্বীকার করে। সে অনুযায়ী জবানবন্দি প্রদানের লক্ষে তাকে সোমবার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমানের খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান  করে রুম্মান। তবে সে একা ঐ হত্যাকান্ড সংঘটিত করে, না আরো কোনো সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে তা জানা জায়নি। অন্তঃসত্ত¡া পাখির লাশ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রেমিকা


আরও
আরও পড়ুন