Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৪, ০৩ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

যেভাবে ৫০০

| প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ক্লাব ফুটবলে গোলের প্রায় সব রেকর্ডই তার দখলে। এবার সেই লিওনেল মেসি উঠে গেলেন আরেক উচ্চতায়। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। সেটাও মেসীয় স্টাইলেই। এজন্য ফুটবল জাদুকর বেছে নেন ‘এল ক্ল্যাসিকো’র মত ম্যাচকে। যে ম্যাচকে ভাবা হয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। সেটা রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হওয়ায় পেয়েছে নতুন মাত্রা। এদিন নিজে দুই গোল করে অনন্য মাইলফলকে তো পৌঁছেছেনই, সতীর্থকে দিয়ে আরেকটি গোল করিয়ে ৫ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে হয়েছেন ম্যাচের নায়কও। চরম উত্তেজনাকর এই ম্যাচকে অনেকে দিচ্ছেন ইতিহাসের সেরা ‘এল ক্ল্যাসিকো’র তকমাও। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টাইন জাদুকরকে ‘এল ক্ল্যাসিকোর মহানায়কও বলা চলে। মহানায়কই তো। এই জোড়া গোল দিয়েই যে সাবেক রিয়াল তারকা আলফ্রেড ডি স্টিফানোকে (১৪টি) ছাড়িয়ে লা লিগার এল ক্ল্যাসিকোয় সবচেয়ে বেশি গোল এখন ফুটবল জাদুকরের। সব মিলে ক্ল্যাসিকায় নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটাও নিয়ে গেছেন ২৩-এ। ফুটবল জাদুকরের ক্যারিয়ারে পরিসংখ্যানের আলো ফেলেছেন ইমামুল হাবীব বাপ্পি

পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের কিছু পরিসংখ্যান
মোট গোল : ৫০০টি (৫৭৭ ম্যাচে)
ক্যাম্প ন্যুতে গোল : ২৮৪টি (২৭৯ ম্যাচে)
অ্যাওয়ে গোল : ২০৪ (২৮১ ম্যাচে)
নিরোপেক্ষ ভেন্যুতে গোল : ১২টি (১৭ ম্যাচে)
মোট হ্যাটট্রিক : ৩৭টি
এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল : ৭৩টি
(৬০ ম্যাচে, ২০১১-১২ মৌসুমে)

কোন প্রতিযোগিতায় কত গোল
৬৮টি ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে গোল করেছেন মেসি। সবচেয়ে বেশিবার তাকে দেখা গেছে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে। অনুমিতভাবেই তাই সর্বোচ্চ গোলও করেছেন লিগ ম্যাচেই। লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।
লা লিগায় : ৩৪৩টি
কোপা দেল রেতে : ৪৩টি
ক্লাব বিশ্বকাপে : ৫টি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে : ৯৪টি
স্প্যানিশ সুপার কাপে : ১২টি
ইউরোপিয়ান সুপার কাপে : ৩টি

বাঁ-পায়ের জাদু
৫০০ গোলের মধ্যে ৪০২টিই করেছেন তার মূল অস্ত্র বাঁ-পা দিয়ে। মাইলফলক স্পর্শের দিনও দেখা মিলল বল নিয়ে তার দু-পায়ের দারুণ কাজ। তবে প্রতিটি কাজই শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পেয়েছে ওই বিধ্বংসী বাঁ-পায়ের ছোঁয়ায়।
বাঁ-পায়ে : ৪০২টি, ডান পায়ে : ৭৪টি
হেডারে : ২২টি, অন্য উপায়ে : ২টি

গোলের সঙ্গী আলভেস
মেসির গোলে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান রাইট-ব্যাক দানি আলভেস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার ও বার্সেলোনা অধিনায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
দানি আলভেস : ৪২টি, আন্দ্রেস ইনয়েস্তা : ৩৪টি
জাভি : ৩১টি, পেদ্রো : ২৫টি, সুয়ারেজ : ২৫টি

প্রিয় প্রতিপক্ষ
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে সবচেয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন মেসি। এর পরেই রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া, ও চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।
সেভিয়া : ২৯ গোল (৩০ ম্যাচে)
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ : ২৭ গোল (৩৪ ম্যাচে)
ভ্যালেন্সিয়া : ২৪ গোল (২৬ ম্যাচে)
রিয়াল মাদ্রিদ : ২৩ গোল (২৩ ম্যাচ)

ক্যাম্প ন্যুয়ের পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু
বার্সেলোনার জার্সিতে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন নিজের মাঠ ক্যাম্প ন্যুয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল চীরপ্রতিদ্ব›দ্বী রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু : ২৮৪টি
রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু : ১৪টি
আটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ভিসেন্তে কালডেরনে : ১৩টি
দিপোর্তিভো লা করুনিয়ার মাঠ রিয়াসোরে : ১০টি
ভালেন্সিয়ার মাঠ মেস্তালায় : ৯টি

কার জালে বেশি গোল
দল হিসেবে মেসি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন সেভিয়ার বিপক্ষে, ২৯টি। তবে গোলরক্ষক বিবেচনায় তার বড় শিকার ভালেন্সিয়ার দিয়েগো আলভেস।
দিয়েগো আলভেস : ২১টি, গোরকা ইরাসিওস : ১৮টি,
ইকার ক্যাসিয়াস : ১৭টি, আন্দ্রেস ফের্নান্দেস : ১৫টি, আন্দ্রেস পালোপ : ১২টি

মেসির গোল মানেই বার্সার জয়
৫০০টি গোল করতে ৫৭৭ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। ম্যাচ প্রতি গোলের অনুপাত ০.৮৬। আর ম্যাচে তার জালের দেখা পাওয়া মানেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বার্সেলোনা জয়। পরিসংখ্যান অন্তত তাই-ই বলে।
মেসি গোল করেছেন এমন ম্যাচে বার্সার-
জয় : ২৭৫ (৮৬.৭০%)
ড্র : ৩০ (৯.৫০%)
হার : ১২ (৩.৮০%)

লা লিগার রাজা
চলতি মৌসুমে লিগে এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচে ৩১টি গোল করেছেন মেসি। ২০১৩ সালের পর আবারও ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট’ জয়ের পথে আছেন তিনি। ২০১০ ও ২০১২ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন মেসি।
একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা নয়বার প্রতি মৌসুম ক্লাবের হয়ে ৪০ বা তার বেশি গোল করার এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ে ৩০০ গোলের রেকর্ডও মেসির দখলে।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মেসির গোল ৪৬ ম্যাচে ৪৭টি।
মাইলফলকের পথে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত
প্রথম গোল : ১ মে ২০০৫- লা লিগায় আলবাসেতের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বদলি নেমে প্রথম গোলটি করেন মেসি।
১৪তম গোল : ৩ মার্চ, ২০০৭- বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: ক্লাব ক্যারিয়ারে মেসির চতুর্দশ গোলটি ক্লাসিকোয় তার প্রথম। ওই ম্যাচেই ৯০তম মিনিটে হ্যাটট্রিক করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি।
১৯তম গোল : ১৮ এপ্রিল ২০০৭- বার্সেলোনা বনাম গেটাফে: মাঝমাঠের ডান প্রান্ত থেকে বল পায়ে ড্রিবল করে গেটাফের পুরো রক্ষণ একের ভেঙে এগিয়ে গিয়ে চমৎকার এক গোল করেন মেসি। ঠিক যেমনটা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। গেটাফের বিপক্ষে ওই গোলের পর থেকেই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা শুরু হয় মেসির।
৮০তম গোল : ২৮ মে ২০১১- ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম বার্সেলোনা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের ৩-১ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন মেসি।
২২৮তম গোল : ৭ মার্চ ২০১২- বার্সেলোনা বনাম বায়ার লেভারকুসেন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করেন মেসি।
২৫২তম গোল : ৫ মে ২০১২- বার্সেলোনা বনাম এসপানিওল: এই ম্যাচে চার গোল করে প্রথম খেলোয়াড় হিসেব লা লিগার এক মৌসুমে গোলের অর্ধশতক পূর্ণ করেন মেসি।
৩১৩তম গোল: ৫ মে ২০১৩- বার্সেলোনা বনাম রিয়াল বেটিস: ৪-২ ব্যবধানে জেতা ওই ম্যাচের শেষ গোলটি করে টানা ২১ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন মেসি- লা লিগায় যা টানা গোলের রেকর্ড।
৩৪৭তম গোল: ২৩ মার্চ ২০১৪- রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা: মেসির আরেকটি ক্লাসিকো হ্যাটট্রিক। এই ম্যাচেই ক্লাসিকোয় আগের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলফ্রেড ডি স্টেফানোকে ছাড়িয়ে যান এই তারকা।
৩৬৮তম গোল : ২২ নভেম্বর ২০১৪- বার্সেলোনা- সেভিয়া : লা লিগায় ২৫১তম গোল করে তেলমো জারার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি।
৫০০তম গোল: ২৩ মার্চ ২০১৪- রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা: শেষ মুহূর্তে মেসির মাইলফলক ছোঁয়া গোলেই লা লিগার শিরাপা লড়াইয়ে টিকে থাকল বার্সেলোনা।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।