Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অর্থপাচারে প্রশ্নবিদ্ধ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

| প্রকাশের সময় : ৪ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের : ২০১৪ সালে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের’ (বিএফআইইউ) ভূমিকা। কারণ ওই বছর এবং গত দুই বছরেও সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য জরিমানা গুণতে হয়নি কোন ব্যাংক বা গ্রাহককে। অথচ পাচার হয়েছে বিপুল অর্থ। এতে বিএফআইইউ’র প্রতিবছর ট্রেনিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়, ৩০টি দেশের সঙ্গে অর্থপাচারের তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তি- এসবের কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গেøাবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) মঙ্গলবার অর্থ পাচারের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আর এই অর্থের বড় অংশ পাচার হয়েছে আমদানি-রপ্তানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে।
জিএফআই এই তথ্য দিলেও ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি যখন বিএফআইইউ’র ২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ভিন্ন তথ্য। ওই অনুষ্ঠানে বিভাগটির সাফলে(!) ব্যাপক তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছিল, “ বিএফআইইউ ২০১৩-১৪ বছরকে অর্জনের বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমি বলতে চাই, এই অর্জন শুধুমাত্র বিএফআইইউ’র নয়; এই অর্জন বাংলাদেশের অর্জন। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
অথচ অর্জনের বছরেই ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের খবর দিল জিএফআই, যে হিসাবকে অনেক ‘রক্ষণশীল’ উল্লেখ করে এই অংক আরও বড় হবে- এমন তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি হলমার্কের ঘটনা নিয়েও অভিযোগ আছে বিএফআইইউ’র বিপক্ষে। বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, হলমার্কের ঘটনা প্রকাশের সাত মাস আগেই বিএফআইইউ ঘটনাটি জানতে পেরেছিল। এ বিষয়ে একটি ফাইলও তৈরি হয়েছিল যা বিভাগটির মহাব্যবস্থাপকের টেবিলে আটকে ছিল। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিলে সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক সহ ৬টি প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার কোটি টাকা বের করে নিতে পারতো না- এমন মত বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার।
বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনই বলছে, ২০১৪-১৫ বছরে আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছিল ৭৬ শতাংশ। ওই বছরে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৪টি। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৬১৯টি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেনের ৮৫৬টি হয়েছে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে। এরমধ্যে ৪৬৩টি লেনদেন বিদেশি ব্যাংকে, বেসরকারি ব্যাংকে ২৪২টি এবং ১৪৫টি হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। বাকী সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এতগুলো সন্দেহজনক লেনদেন হলেও আজ পর্যন্ত একটি লেনদেনের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিএফআইইউ। শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লেনদেনকারীকে। অথচ বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার বেড়েই চলেছে।
জঙ্গী ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন, ঘুষ ও দুর্নীতি বা বেআইনি কোন লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হলেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ’তে তথ্য জমা দিতে হয় ব্যাংকগুলোকে। এছাড়া কোন হিসাব থেকে দিনে ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলেও এর প্রতিবেদন জমা হয় বিএফআইইউতে। এরই আলোকে তৈরি করা হয় সান্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন। অর্থপাচার, সন্ত্রাস ও জঙ্গী অর্থায়ন প্রতিরোধে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নামের স্বতন্ত্র একটি ইউনিট গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই এই বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবপ্রসাদ দেবনাথ, যিনি বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে আছেন। এর আগে এই বিভাগের নাম ছিল মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ