Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চট্টগ্রামে বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর আ.লীগ নেতাকে ছিনতাই

| প্রকাশের সময় : ৬ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর গতকাল (শুক্রবার) বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগে এক আওয়ামী লীগ নেতার ছোট ভাইকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার স্বজনরা ও দলের কর্মীরা। পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই করা আসামি মো. সাইফুদ্দিন বাপ্পী (৪৬) বোয়ালখালী উপজেলার ৫ নম্বর সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল উদ্দিনের ছোট ভাই। তিনি নিজেও আওয়ামী লীগের নেতা। এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই মোহাম্মদ আইয়ুব উদ্দিন, এসআই এইচ এম এরশাদ উল্লাহ ও চন্দগাঁও থানার এসআই মোঃ মফিজ উদ্দিন
পুলিশ জানায়, গত ১ মে বিকালে নগরীর শহীদ নগর এলাকা থেকে অস্ত্র ও ১১ রাউন্ড গুলিসহ তিন ‘ডাকাতকে’ গ্রেফতার করে বায়েজিদ থানা পুলিশ। তারা স্বীকার করে এসব অস্ত্রের মালিক বাপ্পী। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তলসহ বাপ্পীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছে আরও অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করার পর নগরীর বায়েজিদ ও চান্দগাঁও থানার পুলি বোয়ালখালী থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে রাতে সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ চেয়ারম্যান বাড়িতে (বাপ্পীর বাড়িতে) অস্ত্র উদ্ধারে যায়।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) এসএম মোবাশ্বের হোসেন বলেন, বাড়ি থেকে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার শেষে বাপ্পীকে নিয়ে ফেরার পথে তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন রুমির নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে বাপ্পীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযানে বাড়ি থেকে একটি বিদেশী রিভলবার, একটি শাটার গান, একটি এয়ারগান, চাইনিজ কুড়াল, বিভিন্ন সাইজের চারটি ধামা, ১৬ টি বিভিন্ন সাইজের ছুরি, ওয়েল্ডিং মেশিন, বাতাস সরবরাহকারী মেশিন, লোহার ঘষার রেত, কাটা কম্পাস, ড্রিল মেশিনের মুখ, লোহার ছাঁচ, গিøন্ডার মেশিন, অস্ত্রের ম্যাগাজিন স্প্রিং, ছোট বড় প্লাস, ড্রিলিং স্কুসহ অস্ত্র তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।  
পুলিশ কর্মকর্তা মোবাশ্বের বলেন, বাপ্পীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলো দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হয়ে থাকে। এছাড়া আমাদের কাছেও তথ্য আছে বাপ্পী অস্ত্র বিক্রির সাথে জড়িত। এদিকে বাপ্পী ও রুমিকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ বাপ্পী ছাড়াও তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন রুমি ও অজ্ঞাতদের আসামি করে বোয়ালখালী থানায় করেছে। বাপ্পীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও তিনটি মামলা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 মোবাইল সনাক্তকরণ নম্বর পাল্টে দেয়ার ২ কারিগর গ্রেফতার
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে দুই মোবাইল সেট কারিগরকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের দাবি তারা মোবাইল ফোন সেটের আইএমই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডিন্টিটি) বা সনাক্তকরণ নম্বর পাল্টানোর কাজে জড়িত। বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালী থানার রেয়াজউদ্দিন বাজার সিডিএ মার্কেট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মো. রফিক (৩৪) ওই মার্কেটের ‘ন্যাশনাল মোবাইল টেকনোলজি’ নামে একটি দোকানের মালিক ও নুরুন্নবী লিটন (২৮) তার সহকারী। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএফএম হুমায়ন কবির জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল সেটের আইএমই নম্বর পাল্টানোর সাথে জড়িত। এসময় তাদের কাছ থেকে আইএমই নম্বর পাল্টানোর বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সেগুলো ব্যবহারের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়ও এ কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও আইএমই পাল্টানোর জন্য দোকানে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৪টি মোবাইল সেট ও চারটি ট্যাবও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ন বলেন, বছর খানেক ধরে এ চক্রটি চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা চুরি যাওয়া বিভিন্ন মোবাইল ফোন সেটের আইএমই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করে দেন।
গ্রেফতারকৃরা পুলিশকে জানায়, চুরি যাওয়া সেটগুলো রেয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন মোবাইলের দোকানে এনে বিক্রি করা হয়। দোকানদাররা মূলত বিক্রির জন্য তাদের কাছ থেকে সেটগুলোর আইএমই নম্বর পাল্টে নেন।
রফিক পুলিশকে জানায়, আই ফোন, নকিয়া ও এইচটিসি ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট ছাড়া অন্য সেটের আইএমই তারা পরিবর্তন করতে পারেন। সফটওয়ারের মাধ্যমে আইএমই নম্বরগুলো পাল্টানো হয় উল্লেখ করে তিনি পুলিশকে জানান, কমদামের একটি মোবাইল সেটের আইএমই পরিবর্তন করতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আর দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন সেটের আইএমই পাল্টাতে ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।   
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঢাকায় চুরি যাওয়া অনেক দামি স্মার্ট ফোন চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেগুলোর আইএমই পাল্টে বাজারে বিক্রি করা হয়। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান তাদের বেশকিছু মামলা তদন্তে মোবাইল ট্রেকিংয়ে এক আইএমই নম্বরের আটটি সেটের সন্ধান পাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে অনেক সময়ে মূল অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার মোবাইল কারিগররা এ কাজের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পেলেও আগে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তারা। পুলিশের দাবি, রফিক ও লিটন আইএমই পাল্টানোর কারিগরদের মধ্যে অন্যতম।
লিটন পুলিশকে জানায় সফটওয়ার ব্যবহারের পাশাপাশি সেটের ব্র্যান্ড অনুযায়ী তারা কিছু বিশেষ সিমসহ ‘দঙ্গল’ (বিশেষ ডিভাইস) ব্যবহার করে থাকেন। সে দঙ্গলগুলোর মাধ্যমে মূলত আইএমই পাল্টানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়ে থাকে। ১৪ সংখ্যার একটি আইএমই নম্বর একই ব্র্যান্ডের একাধিক মোবাইল সেটে ব্যবহার করা যায় বলে তারা পুলিশকে জানায়। গোয়ন্দা পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ন জানান, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকরা ঘটনায় অপরাধীরা তাদের সেটের আইএমই পাল্টে ফেললে তাদের ধরতে ধরতে পুলিশের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ