Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

প্রবাসে বসে মতলবি কথাবার্তা প্রসঙ্গে

প্রকাশের সময় : ৫ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হোসেন মাহমুদ
বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি উঠেছে। এ দাবি তুলেছেন অন্য তিনটি ধর্মের অনুসারীদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবিকারী একটি সংঠনের কতিপয় সদস্য। তারা সবাই বাংলাদেশি। তবে বাংলাদেশের মধ্য থেকে নয়, দেশের বাইরে থেকে তোলা হয়েছে এ দাবি।  সে দেশটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা যায়, বাংলাদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি টমাস দুলু রায়, সাধারণ সম্পাদক প্রদ্বীপ দাস, সদস্য সচিব প্রদ্বীপ মালাকার, পরিষদের পরিচালক ও আমেরিকান হিন্দু ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তীসহ বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন জন বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য রাখেন। শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে গোহত্যা চলছে এটা মেনে নেয়া যায় না। বাংলাদেশে আইন করে গো হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, আমরা হিন্দুরা গরুকে মাতা হিসেবে পূজা করি।
ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার এ সংবাদ সম্মেলনের খবর পরদিন বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠন ইতোমধ্যে এর নিন্দা করেছেন। শান্তিকামী ও সচেতন মানুষ এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য যে অত্যন্ত আপত্তিকর ও উসকানিমূলক ও তার প্রতিক্রিয়া যে শুভ হতে পারে না তা উপলব্ধি করতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, যারা বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবি করছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রে বসে চাইছেন। গরু জবাই বহু হিন্দুর কাছেই অগ্রহণযোগ্য, তারা এটাকে হিন্দু ধর্মের প্রতি আঘাত হিসেবেও গণ্য করেন, এই স্বাধীনতা তাদের আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বসে যারা এ দাবি করছেন, বাংলাদেশে গরু জবাইয়ের কারণে তারা তো সরাসরি কোনোভাবেই আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন না। আর যুক্তরাষ্ট্রে গরু কেন, আরো অনেক প্রাণিই জবাই হয় বা অন্য দেশে জবাই হয়ে সে দেশে আসে। সেখানে কোনো আহারযোগ্য প্রাণির গোশত বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আর বাংলাদেশে গরু জবেহ্ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এমনও নয় যে হালে গরু জবেহ্ করার ঘটনা শুরু হয়েছে এবং তা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মনোবেদনা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। তাহলে ঐক্য পরিষদের আয়োজনে সে মঞ্চ থেকে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবি জানানো হলো কেন?
এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে প্রতিবেশী দেশে গরুর ব্যাপারে ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে হাল আমল পর্যন্ত এ নিয়ে সেখানে অনেক মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। গরুকে সেখানে মাতা অর্থাৎ গোমাতা জ্ঞানে অনেকেই ভক্তি করেন। সেই গোমাতাকে জবেহ করে মুসলমানরা তার গোশত খাবেÑএটা অনেক ধর্মভীরু হিন্দুর পক্ষে সহ্য করা কষ্টকর। তাদের সে সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু সমাজের এক শ্রেণির মতলববাজরা মাঝে-মধ্যেই নিজেদের ফায়দা হাসিল করেছেন, করছেন; তার পরিণতি যাই হোক না কেন। হালে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উগ্রপন্থী হিন্দুদের পালে জোর হাওয়া লেগেছে। তার ফলে ভারতে গরু জবেহ্র দাবিটি অধিকতর শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ইতোমধ্যে গরু জবেহ্ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গরুর গোশত রাখার মিথ্যা অভিযোগে মুসলমানদের হত্যা, তাদের নিগ্রহ, নির্যাতন, লাঞ্ছনা, অপমানের ঘটনাও ঘটছে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, হিন্দু সম্প্রদায় গরু জবাই বা গরুর গোশত খাওয়াকে তাদের ধর্মের প্রতি আঘাত বলে গণ্য করেন, তার জন্য রক্তপাত ঘটাতেও তারা প্রস্তুত; সেই তাদেরই ধর্মবেত্তা-জ্ঞানীরা বলেন যে, প্রাচীন যুগে হিন্দুরা গোমাংস ভক্ষণ করতেন। তাছাড়া তাদের শাস্ত্রে কোথাও গোমাংস নিষিদ্ধ বলা হয়নি। আর গরু তাদের দেবতা বা দেবত্বের কোনো অংশও নয়। গরু পবিত্র প্রাণির মধ্যেও পড়ে না। সুতরাং গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভাগ্যিস, এসব কথা মুসলমানরা বলেনি। তাহলে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটত তা অকল্পনীয়। এটা সত্য যে হিন্দুদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা গরুর গোশত খান। এমনকি ভারতে গরু জবাই বিরোধিতার যখন তুমুল ডংকা বেজে চলেছে তখন কোনো কোনো স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুদের কেউ কেউ গরুর গোশত খেয়ে এর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন উঁচু মাপের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন যে তারা গরুর গোশত খান ও খাবেন। এ থেকে ভারতের বহুত্ববাদী সমাজের অস্তিত্ব বেশ জোরালোভাবেই প্রকাশিত হয়। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হলো উদারপন্থী বা উদার মতবাদীরা বিশাল ভারতের সুবিশাল জনসমাজের নিয়ন্তা নন। ভেদবুদ্ধি সম্পন্ন, অশুভ চিন্তার ধারক অংশটি সেখানে প্রচ- ক্ষমতাবান। ভারতীয় সমাজের অন্যরা ততটা না হলেও ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে সংখ্যালঘু মুসলমানরা তাদের অসহায় শিকার।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ভারতের সর্বত্র গরু জবাই বন্ধের যে ব্যাপক উদ্যোগ চলছে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার দাবি কি তারই আওয়াজ? হয়তো তাই। বলা দরকার, যুক্তরাষ্ট্রে বসে আজ যারা এ আওয়াজ তুলেছেন তারা বাংলাদেশের মানুষ। তাদের কেউ হয়তো আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, কেউ হয়তো পাননি। তারা এ বাংলাদেশের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। অনেকে এখনো হয়তো দেশে আসা-যাওয়া করেন। তাই এ দেশের মানুষে মন-মানসিকতা তাদের অজানা নয়। তারা সকলেই ভালো করেই জানেন যে তাদের ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো মানে বাংলাদেশের জনসমাজের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তথা মুসলমানদের অনেকটা গোড়া ধরে নাড়া দেয়ার শামিল। ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেটি আলাদা দেশ, তাদের দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করবে কি করবে না তা তাদের ব্যাপার। তারপরও এটা কি সত্য নয় যে, সেখানে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘটনা বাংলাদেশের মুসলমানদের উপর কিছু না কিছু প্রভাব ফেলে? সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবিকে ভারতের উগ্রপন্থী অশুভ সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠির দাবিরই কি প্রতিধ্বনি বলে মনে হচ্ছে না?
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ দাবি তোলা কেন? এর প্রয়োজনীয়তাই বা কী? বলতে হয়, বাংলাদেশে কবে গরুর গোশত খাওয়ার প্রচলন হয়েছিল সে দিন তারিখ কেউ লিখে রাখেননি। তবে যখনি তা শুরু হয়ে থাক না কেন তা হয়েছিল প্রয়োজনের তাগিদে, তা যে হিন্দ্ ুসমাজকে আঘাত করা বা তাদের এ দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য হয়নি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা সময় ছিল যে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখন্ডের তৎকালীন দ-মু-ের কর্তারা প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু রাজা বা জমিদার। তাদের কারো কারো এলাকায় গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। তা নিয়ে অনেক দুঃখজনক অনেক ঘটনাও ঘটেছে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সেসব বিধি-নিষেধ বিলুপ্ত হয়েছে। তারপর সুদীর্ঘকাল গরু জবাই নিয়ে অন্তত বাংলাদেশে কোনো সমস্যা হয়নি, প্রতিবাদ ওঠেনি, হিন্দু-মুসলমান কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি। এতকাল পরে এই ডিজিটাল যুগে এসে বাংলাদেশে আবার এ ধরনের দাবি তোলার পিছনে খারাপ মতলব ছাড়া সদুদ্দেশ্য যে নেই তা পরিষ্কার। এ দাবি অনভিপ্রেত, অপ্রয়োজনীয়। হতে পারে, এ দেশের কিছু হিন্দু এ দাবি মনে মনে সমর্থন করেন, কিন্তু তা সম্ভবত বৃহত্তর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সমাজের দাবি নয়। তা হতেও পারে না। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে একশ্রেণির লোকের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের শিকার হয়ে থাকতেই পারেন, কিন্তু তা দেশের সার্বিক চিত্র নয়। তার প্রমাণ বাংলাদেশের প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই সংখ্যালঘুদের প্রতি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করেনি। সকল দিক থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার নীতি প্রতিটি সরকারই অনুসরণ করেছে, করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেনি তা বলা যায় না। তবে তা গরু জবাই বন্ধের মতো গুরুতর দাবি জানানোকে উৎসাহিত করার মতো নয়।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তাদের কথায় আরো বহু বিষয়কে স্পর্শ করা হয়। উল্লেখ্য, বক্তাদের মধ্যে শ্যামল চক্রবর্তী নামক ব্যক্তিটি ছিলেন সবচেয়ে বেশি মুখর। নিজেকে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সত্য যত তেতোই হোক না কেন তা কাউকে না কাউকে বলতেই হবে। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই সাম্প্রদায়িকতার সূত্রপাত। তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। সে সময় বাংলাদেশ সরকার রমনা কালিবাড়ি দখলের মাধ্যমে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। এতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। সেটাকে পার্ক বানিয়ে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মহাধিনায়ক সোহরাওয়ার্দীর নাম দিয়েছে। সত্য থেকে আমরা সরে যেতে পারব না। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানেন না বলে উল্লেখ করে বলেন, আমরা সবাই বলি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হ্যাঁ, তিনি বাঙালি জাতির পিতা। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু বাঙালি থাকে না। বাংলাদেশে চাকমা থাকে, গারো থাকে, কোচ থাকে, হাজং থাকে। এ ছাড়াও আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা আছে। তারা বাঙালি হবে কী করে। ‘তোমরাও বাঙালি হয়ে যাও’ বঙ্গবন্ধুর এই উক্তি ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। তিনি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রসঙ্গে বলেন, ... শহীদ জিয়াউর রহমান। আমি জানি না তিনি কোন ধর্মযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে এতটুকু জানি চাকমাদের সংখ্যালঘু বানিয়েছিলেন। চাকমারা সংখ্যালঘু না। তারা সারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তার সংখ্যাগুরু। কিন্তু তাদের তিনি সংখ্যালঘু বানিয়েছেন। সেই যুদ্ধে যদি তিনি শহীদ হয়ে থাকেন তাহলে তিনি শহীদ। শহীদের আরবি অর্থ হচ্ছে ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদে গিয়ে মারা গেলে তিনি শহীদ। আমার জানা নাই কোন ধর্মযুদ্ধে তিনি গিয়েছিলেন কি না।
যে কোনো কা-জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিই বলবেন যে, এ ব্যক্তিটির কথাবার্তা মানসিক ভারসাম্যহীন কোনো মানুষের মতই। অথবা তিনি বুঝে-শুনেই এসব কথা বলেছেন। এ নিয়ে আলোচনা করাও নিরর্থক। এ লোকটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বানিয়েছেন। আরো বড় কথা তিনি তাকে জাতির পিতা বলেই স্বীকার করেন না যা কিনা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। অবশ্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। যাহোক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা না মানার পক্ষে যেসব যুক্তি দিয়েছেন তা যদি তার ব্যক্তিগত মন্তব্য হয়ে থাকে তাও যেমন আপত্তিকর, তেমনি যদি তা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হয়ে থাকে তাও আপত্তিকর এবং অপরাধমূলকও বটে। কারণ, ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশের সংগঠন। শাখা সংগঠনের বক্তব্যের দায় তারা এড়াতে পারেন না। সরকার বিষয়টি দেখতে পারে। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান শহীদ কি শহীদ নন সে বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা বা যুক্তরাষ্ট্রে বসে আবোল তাবোল মন্তব্য না করে বাংলাদেশে এসেই এর একটি ফয়সালা করাই সমীচীন।
সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সমস্যা বড় আকার ধারণ করেনি। টুকিটাকি কিছু বিচ্যুতি ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি সুন্দর আবহ বরাবরই এ দেশে বিদ্যমান। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য সাম্প্রদায়িক সমস্যা মাথাব্যথার কারণ নয়। তাই এর কোনো না কোনো রূপে পুনরুত্থানও কোনোভাবেই কাম্য নয়। সে ক্ষেত্রে ঐক্য পরিষদের নিউইয়র্ক শাখার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া এসব দাবি ও কথাবার্তা প্রবাসের মতলববাজদের অবশ্যই মতলবি চিন্তার ফসল বলেই মনে হয়। বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করবে, এটাই স্বাভাবিক।                  
 লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
যথসধযসঁফনফ@ুধযড়ড়.পড়স



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন