Inqilab Logo

বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯, ২৮ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সীতাকুন্ডে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঘনচিনি খেয়ে অসুস্থ আইসক্রিম প্রস্তুতকারী!

ক্ষতিকারক নয় প্রমাণ করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে জেলে

| প্রকাশের সময় : ১০ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুন্ড থেকে : আইসক্রিম তৈরী করতে চিনির বদলে নিয়মিতই ক্ষতিকর ঘনচিনি ব্যবহার করছেন ফ্যাক্টরী মালিক মোঃ কবির। উদ্দ্যেশ্য খরচ কমিয়ে বেশি লাভ করা। কিন্তু সে ঘনচিনি যে কতটুকু ক্ষতিকারক তা বোধহয় নিজেও জানতেন না তিনি। আর তাই তো ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনেই এক মুঠো ঘনচিনি খেয়ে ফেলে তিনি প্রমাণ করতে চাইলেন যে এটি ক্ষতিকারক না। কিন্তু তার উদ্দ্যেশ্য সফল হলো না। ঘনচিনির ক্ষতিকারক প্রভাবে তার গলায় জালাপোড়া শুরু হয়ে যায়। ফলে সবার মধ্যে ব্যাপক কৌতহূল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত পুলিশসহ অন্যরা তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং বিভিন্ন উপায়ে এ যাত্রায় রক্ষা করলেও তার শাস্তি মওকূপ করেননি ম্যাজিষ্ট্রেট। বিষাক্ত এসব দ্রব্য খাবারে মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করায় তাকে এক মাসের কারাদন্ড দেন তিনি। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুন্ডে। এদিন দুপুর ১টায় ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন সীতাকুন্ড পৌরসদরের দক্ষিণ ইদিলপুর রুপালী আইসক্রিম কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। ঐ কারখানায় উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন কারখানাটির দুইটি মেশিন দুই ব্যক্তি ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদন করেন। একটি মেশিন ভাড়া নিয়ে চালান মোঃ কবির।
তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার সাতমোড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার পুত্র। অপর মেশিনটি চালান কারখানার মালিক মোঃ ইদ্রিস। এখানে অস্বাস্থ্যকর সাইট্রিক এ্যাসিড, এরারুট, কাপড়ের রং, ঘনচিনিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক দ্রব্য ব্যবহার করে অস্বস্থ্যকর পরিবেশে কুলফি, চকবাহার, লেমন, কোকোনাট প্রভৃতি আইসক্রিম তৈরী করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসময় কারখানার মালিকদের কাছে ক্ষতিকারক এসব ঘনচিনি ও অন্যান্য উপাদান কেন ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে মোঃ কবির ঘনচিনি অত বিষাক্ত কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন। এটি যে বিষাক্ত নয় তা প্রমাণ করতে পারবেন কিনা ম্যাজিষ্ট্রেট জানতে চাইলে কবির এক মুঠো ঘনচিনি নিয়ে তার সামনেই খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এটি খেয়েই বেকায়দায় পড়েন তিনি।
এরপর থেকে তার গলায় জালাপোড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে কবির নিজেই ভয় পেয়ে যান। এতে তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন অভিযানে উপস্থিত সীতাকুÐ থানার এস.আই মোঃ নাছির, ভূমি অফিসের নাজির মোঃ জামাল উদ্দিনসহ অন্যরা। তারা তাকে স্থানীয় বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে বেশ কিছুক্ষনের চেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন। তবে এ ধরণের বিষাক্ত ঘনচিনি ব্যবহার করার অপরাধে ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে অপর মালিক মোঃ ইদ্রিসকে গত বছরও এসব ব্যবহারের জন্য সতর্ক করা হয়েছিলো।
এ অপরাধে ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং তার আইসক্রিম ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দেন। প্রসঙ্গত, সীতাকুন্ডে গ্রামের ঘরে ঘরে এখনো এসব কারখানার আইসক্রিম দেদারছে বিক্রি হয়ে থাকে। যার বেশিরভাগ গ্রাহক কোমল মতি শিশুরা। এসব আইসক্রিমে এ ধরণের ঘনচিনিসহ নানারকম ক্ষতিকারক দ্রব্য ব্যবহার হওয়ায় তারা নানারকম দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।



 

Show all comments
  • S. Anwar ১০ মে, ২০১৭, ১০:১৫ এএম says : 0
    কথায় বলে, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। সাজার পরিমানটা কমপক্ষে এক বছর হওয়া উচিৎ ছিলো।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ