Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

দীর্ঘ সময়েও পলিটেকনিক ছাত্র হত্যা মামলার কোনো কিনারা হচ্ছে না

বাদী ও পুলিশের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা

| প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী থেকে : দীর্ঘ পৌনে তিন বছর অতিক্রান্ত হলেও শিবপুরের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র চাঞ্চল্যকর রায়হান হত্যা মামলার কোন কিনারা হচ্ছে না। শিবপুর থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তৎপর হচ্ছে না। গ্রেফতার করতে পারছেনা একজন গুপ্ত ঘাতককেও। গুপ্ত ঘাতকদের খুঁজে বের করতে পুলিশ যেমন নিলিপ্ত হয়ে রয়েছে, তেমনই মামলার বাদী রায়হানের পিতা ও আত্মীয়-স্বজনও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। মামলার বাদী ও তদন্তকারী পুলিশ নিরুৎসাহী হয়ে পড়ার কারনে রায়হান হত্যাকান্ডের মত একটি ভয়াবহ গুপ্তহত্যার ঘটনা ধামাচাপা পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নরসংদী সদর উপজেলার বাদুয়ারচর গ্রামের মাসুদুল হকের পুত্র রায়হান পলাশ উপজেলার দড়িচর গ্রামে মামা মজিবুর রহমানের বাড়ীতে থেকে শিবপুরের শাষপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে লেখাপড়া করতো। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট রাতে একটি মোবাইল ফোন কল পেয়ে রায়হান মামার বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সে আর মামার বাড়ী বা নিজ বাড়ী বাদুয়ারচরের কোথাও যায়নি। ২ দিন খোঁজাখুজির পর একই সালের ২৩ আগস্ট বিকেল ৪ টায় রায়হানের আত্মীয়-স্বজন খবর পায় যে, কারারচর হাড়িধোয়া নদীতে একটি লাশ ভেসে রয়েছে। খবর পেয়ে পিতা মাসুদুল হক ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রায়হানের লাশ সনাক্ত করে। পরদিন পিতা মাসুদুল হক বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৩৪,২৪/৮/২০১৪। এরপর পুলিশ উজ্জল নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশী তদন্ত এখানেই থেমে যায়। পুলিশ এরপর আর রায়হান হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। দীর্ঘ প্রায় পৌনে তিন বছর ধরে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। এব্যাপারে মামলার বাদী মাসুদুল হক পুত্র হত্যাকান্ডের ব্যাপারে থানা পুলিশের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করছে না। ইতোমধ্যেই রায়হানের পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা কিছু কথাবার্তা নিয়ে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, রায়হানের বড় ভাই আতাউর রহমান সোহেলের সাথে রায়হান ও অন্যান্য ভাইদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। আতাউর রহমান পৈত্রিক সম্পত্তির একচ্ছত্র মালিক হবার জন্য সব সময়ই পিতা মাসুদুল হককে প্রভাবিত করে রাখতো। এ নিয়ে রায়হানসহ অন্যান্য ভাইদের সাথে মনোমালিন্য ছিল। যেদিন রায়হান নিহত হয় সেদিন রাতে বড় ভাই আতাউর রহমান, মামা মজিবুর রহমানের বাড়ীতে ছিল। অনেকের সন্দেহ ভাইদের আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনেই রায়হান নিহত হয়ে থাকতে পারে। শুধু তাই নয় রায়হান হত্যাকান্ডের পর পিতা মাসুদুল হক হত্যা মামলা দায়ের করেও রহস্যজনক কারনে নির্লিপ্ত হয়ে রয়েছেন। তিনি পুত্র হত্যার বিচারের তৎপর হচ্ছেন না। তার এই নিরবতা নিয়ে অনেক আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছে পিতা মাসুদুল হক জেনে গেছেন, কে বা কারা তার ছেলে রায়হানের গুপ্তঘাতক। রায়হান হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে গেলে তার পরিবারের কেউ ফেসে যেতে পারে, এই ভেবেই তিনি হত্যামামলার কোন তদবির করছেন না। যার ফলে রায়হানের মত একজন ছাত্রের গুপ্তহত্যার ঘটনা বিচারহীনভাবে ধামাচাপা পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দীর্ঘ

১৫ নভেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ