Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

গোপালগঞ্জে মেকানাইজেশন ভিলেজ

| প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

গোপালগঞ্জ  জেলা সংবাদদাতা : গোপালগঞ্জে মেকানাইজেশন ভিলেজ কৃষিতে  বিপ্লব ও নব দিগন্ত উম্মোচন করছে। মেকানাইজেশন ভিলেজে ধান উৎপাদনে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষক  বীজ, সার ও শ্রমিক খরচ সাশ্রয় করেছেন । ধানে উৎপাদন খরচ কমেছে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। কৃষক ধানের অধিক ফলন পেয়েছেন। ফলে তারা বেশি লাভবান হয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের রাজপাট গ্রামে বাংলাদেশ ধানগবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ফার্ম মেশিনারি এ্যান্ড পোস্ট হারভেষ্ট টেকনোলজি বিভাগ চলতি বোর মৌসুমের শুরুতে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের (পিজিবি) আর্থায়নে মেকানাইজেশন ভিলেজ তৈরী করে।  এ বছর ওই ভিলেজের ১৫০ টি প্লটে পরীক্ষা মূলক ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি ট্রাকটর, রাইস প্লান্টার, উইডার, দানাদার ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র ও রিপার ব্যবহার করে কৃষক ধান আবাদে সাফল্য পেয়েছেন।
রাজপাট গ্রামের কৃষক  রাশেদুল আলম শামীম মিয়া বলেন, প্রথম ট্রেতে বীজতলা করেছি। ট্রাকটর দিয়ে জমি চাষ দিয়েছি। ট্রে বীজতলার চারার বয়স ২৫ দিন হওয়ার পর রাইস প্লান্টার মেসিন দিয়ে জমিতে ধান রোপন করেছি। এতে বীজ খরচ সাশ্রয় হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ২ জন শ্রমিক মাত্র দু’ ঘন্টায় ধান রোপন করেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ জমিতে ধান রোপনে ১২ জন শ্রমিক লাগতো। এছাড়া উইডার, দানাদার ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র ও ধান কাটার রিপার ব্যবহার করে ধান উৎপাদনের খরচ কমেছে প্রায় ৪০ ভাগ। ফলন বেশি পেয়েছি। আগামী বছর আমাদের এলাকায় কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।
পিজিবির প্রকল্প পরিচালক ও ব্রির কৃষিতত্ত¡ বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ খায়রুল আলম ভূইয়া বলেন, ব্রি উদ্ভাবিত রাইচ প্লান্টার মেসিন দিয়ে চারা রোপন করলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৯ থেকে ১০ ভাগ ফলন বাড়ে। ৬০ ভাগ শ্রমিক সাশ্রয় হয়।  উইডার দিয়ে দ্রæত আগাছা নিড়ানী দিয়ে ৭৫ ভাগ শ্রমিক খরচ বাঁচানো যায়। পক্ষান্তরে খরচ সাশ্রয় হয় ৬৫ ভাগ। এছাড়া দানাদার ইউরিয়া সার প্রয়োগ যন্ত্রের মাধ্যমে সার প্রয়োগ করলে ৩০ ভাগ সার কম লাগে।
তিনি আরো বলেন, ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিক সংকট একটি অন্যতম সমস্যা। এ সংকট মোকবেলায় আমরা ধান কাটার যন্ত্র রিপার মেসিন নিয়ে এসেছি। এ মেসিন দিয়ে ২ ঘন্টায় ১ জন শ্রমিক ১ বিঘা জমির ধান কাটতে পারে। এতে শ্রমিক ও খরচ সাশ্রয় হয় । গোপালগঞ্জে মেকানাইজেশন ভিলেজে ধান উৎপাদনে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড.  মোঃ শাহজাহান কবীর বলেন, কৃষিতে শ্রমিক সংকট বাড়ছে। আমরা সঠিক সময়ে কৃষি কাজ করতে পারছি না। এ জন্য আমরা  গোপালগঞ্জে পরীক্ষা মূলকভাবে মেকানাইজেশন ভিলেজে তৈরী করি। এ ভিলেজের  কৃষকরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধান উৎপাদনে বীজ, সার ও শ্রমিক খরচ সাশ্রয় করেছে। অধিক ধান উৎপাদন করে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তারা কৃষিতে নব দিগন্ত উম্মোচন করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ