Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, ১৫ জ্যৈষ্ঠ , ১৪২৪, ০২ রমজান ১৪৩৮ হিজরী

অশুভ শক্তির অপতৎপরতা গার্মেন্টসে অশনি সঙ্কেত

| প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম


চট্টগ্রামে সেমিনার : রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য ও চীনের শূণ্যতা পূরণের তাগিদ  
চট্টগ্রাম ব্যুরো : অশুভ শক্তি দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে আছে। এই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা গার্মেন্টস শিল্পের জন্য অশনি সঙ্কেত। দেশের বৃহত্তম এই রফতানিমুখী খাতকে বাঁচাতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে একযোগে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া গার্মেন্টস পণ্যে আরও বৈচিত্র্য আনা এবং চীনে গার্মেন্টস সামগ্রী উৎপাদন ও রফতানিতে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে তা পূরণে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিশিষ্ট আলোচকগণ উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় গার্মেন্টস শিল্প-মালিক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগÑসিপিডি’র যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে গার্মেন্টস শিল্পখাতে পরিবর্তনের নতুন মাত্রা সম্পর্কিত এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিডি’র অনারারি সম্মানিত ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। মঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববাজারে গার্মেন্টস পণ্য রফতানিতে ৩৯ শতাংশ অবদান চীনের। আর বাংলাদেশের মাত্র ৬ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমূল্যের মজুরির কারণে ২০২১ সালে চীনের অবদান নেমে যাবে ২০ শতাংশে। চীনের হারানো অবশিষ্ট ১৯ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ এনে দেবে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। গার্মেন্টস খাতে বিরাজমান দুরবস্থা তুলে ধরে বিজিএমইএ নেতা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সের গৃহীত পদক্ষেপে এ পর্যন্ত ১২শ’ ৫০টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে আইএলও, সরকার ও বিজিএমইএ’র ত্রিপক্ষীয় পরিদর্শন কাজ শুরু হলে ১৫৪৯ টি কারখানার অর্ধেকই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে পথনির্দেশনা নিতে হবে। উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে।
প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যেমন পূর্ণ মনোনিবেশ করতে হবে, তেমনি এরমধ্যে যাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বেশি থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ঘটনার পর বাংলাদেশ এই ধকল যেভাবে সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গার্মেন্টস খাত এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গার্মেন্টস শিল্প দীর্ঘদিন ধরে একক শিল্প হিসাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববাজারে চাহিদার নিরিখে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন বাজারসমূহে কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমঘন শিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উৎপাদন কার্যক্রমে যেতে হবে। সেমিনারে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, পরিচালক মাহাবুবউদ্দিন জুয়েল, মোহাম্মদ সাইফউল্লাহ মনসুর ও আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এমএ ছালাম ও এসএম আবু তৈয়ব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর