Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

শ্যামনগরে খাবার পানির তীব্র সংকট

প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১৬ এএম, ১৮ মে, ২০১৭

আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা থেকে : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দেখা দিয়েছে তীব্র খাবার পানির সংকট। ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া বিশুদ্ধ খাবার পানি। প্রতি বছর  গ্রীস্মের শুরু থেকে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সুন্দরবন নিয়ে গঠিত দেশের দক্ষিণের সর্বশেষ উপজেলা শ্যমনগরের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা থাকায় তা পান করার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরের পানি পান করছেন। আবার অনেকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। শ্যমানগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কালিঞ্চি, মথুরাপুর ও কুপোট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইন দিয়ে মহিলা ও শিশুরা খাবার পানি এনে থাকেন বাড়িতে।
শ্যামনগরের বয়ারসিং গ্রামের আনিছুর রহমান জানান, এলাকায় নলকূপের পানিও লবন। যে কারণে পুকুরের পানি ফিল্টারিং করে খেতে হয়।  তিনি আরো বলেন, তার ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য প্রতিদিন তাদেরকে তিন কলস করে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
মুন্সিগঞ্জ ফুলবাড়ি গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, পাঁচ জনের সংসারে প্রতিদিন দু’কলস খাবার পানির দরকার। বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে জনৈক সফিকুল ইসলামের বাড়ির পুকুর থেকে পানি এনে খেতে হয়। তবে সে পানিও লবণাক্ত। তিনি বলেন, আইলা’র পর দু’বার পুকুরটি খনন করার পরও লবণ কাটেনি। তাই বাধ্য হয়ে ওই লবনাক্ত পানি পান করতে হয়।
কদমতলা গ্রামের খাদিজা খাতুন জানান, তাদের এলাকায় গভীর বা অগভীর নলকূপের পানি লবনাক্ত। যে কারণে গোটা এলাকার মানুষ বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে খায়। পরবর্তী সময়ে বর্ষাকালের সংরক্ষিত পানির পাশাপাশি পুকুরে স্থাপনকৃত পিএসএফ এর পানি পান করে। তবে এবছর বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে এখনো পুকুরের পানি খাবারের জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। পরিবারের জন্য প্রতিদিন তাকে তিন কি. মি. দুরবর্তী হরিনগর বাজার সংলগ্ন ¯øুইচ গেট এলাকা থেকে দুপুর ও সন্ধ্যায় দু’বার পানি আনতে যেতে হয়। কুপোট গ্রামের অনুরাধা মন্ডল জানান, পরিবারের সদস্যদের খাবার উপযোগী পানি আনতে যেয়ে তার মেয়ের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে দূর-দুরন্ত থেকে সকাল বিকাল পানি আনতে হয়।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান খাবার পানির সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, উপকুলবর্তী শ্যামনগর উপজেলায় ১৪১৮টি গভীর, ৩২২টি অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে। এছাড়া, এসএসটি ৩৯৭ এবং প্রায় চারশত পিএসএফ সচল রয়েছে। তবে বৃষ্টি কম হওয়ায় এবছর আরএসএফ ও পিএসএফ সমুহ মানুষের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে পারছে না। তিনি আরো জানান, এবছর নতুন করে শতাধিক গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনসহ ১৩০টি আরএসটি এবং ১০টি এসএসটি স্থাপন করা হয়েছে।













 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্যামনগর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ