Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, ১৫ জ্যৈষ্ঠ , ১৪২৪, ০২ রমজান ১৪৩৮ হিজরী

উগ্রবাদ ভ্রান্ত মতবাদ

| প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মাওলানা এরফান শাহ : সৃষ্টিকর্তার মনোনীত ধর্ম ইসলাম। দ্বীন ইসলাম মহান আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলামী শরীয়ায় বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই। ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় কেবল মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণ, ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর অব্যাহত জুলুম ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ মানবতা যখন শান্তিময় আদর্শের দিকে ছুটে আসছে তখন ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে প্রমাণ করার জন্য একটি গোষ্ঠী কোরআন-সুন্নাহর অপব্যাখা করে চরমপন্থি দর্শন প্রচার করছে। তরুণদের একাংশকে প্রভাবিত করে, বিপথগামী করে, অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত করছে। অতঃপর সন্ত্রাস দমনের নামে বিশ্বব্যাপী নিরীহ মুসলমানের রক্ত ঝারানো হচ্ছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো গোত্রীয়, জাতিয় ও ধর্মীয় পরিচয় নেই। মানুষ খুন করে, বোমাতঙ্ক সৃষ্টি করে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার মনগড়া ব্যাখার সাথে ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম জঙ্গিদল “হাগানা”। ইহুদীরাই ১৯২০ সালে হাগানা গঠন করে। হাগানার উদ্দেশ্য দু’হাজার বছরের পুরনো বসতি ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের নিজস্ব ভ‚মি থেকে উচ্ছেদ করা। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল এই ষড়যন্ত্র মুসলমানের বিরুদ্ধে শতাব্দীকাল ধরে করে চলেছে। আইএসের সাথে ইসরাইলের দহরম মহরম প্রমাণ করে ইসরাইলই জঙ্গিপ্রজনন কেন্দ্র। সারা দুনিয়ায় জঙ্গিবাদী সফটওয়ার রপ্তানিকারক। পৃথিবীতে আজ যত জঙ্গিদল সৃষ্টি হয়েছে বলা যায় তা হাগানার শাখা-প্রশাখা। ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল হার্জজি হ্যালেভি একটি সম্মেলনে সিরিয়ান সরকার বিষয়ক ইসরাইলের দীর্ঘ অবস্থানের কথা প্রকাশ করে বলেছেন, ইসরাইল আই এসকে পছন্দ করে। তিনি সম্মেলনে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, ইসরাইল চায় না যে, আই এস সিরিয়ায় পরাজিত হোক।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন : “যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার শাস্তি জাহান্নাম”। রাসূল (সা.) বলেন : “যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করল সে জান্নাতের সুগন্ধিও লাভ করতে পারবে না, যদিও জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বৎসরের দূরত্বে থেকে লাভ করা যায়”-বুখারী। রাসূলে আকরাম (সা.) ইরশাদ করেন : “তোমরা সরল পথে থাকো, মধ্যমপন্থা ধরো, রাতের কিছু অংশে ইবাদত করো, আর তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছে যাবে” -বুখারী। রাসূল (সা.) আরো বলেন : “তোমরা সহজ করো কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও, ঘৃণা সৃষ্টি করো না”-বুখারী।
কিছু অসাধু, স্বার্থপর ও অধিক মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী পবিত্র ব্যবসাকে অপবিত্র করে ফেলেছে। ব্যবসায় প্রতারণা, পণ্যে নকল, খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন মেশানো তাদের পেশায় পরিণত হয়েছে। তাদের অসততা, স্বার্থপরতা ও অতি লোভী মনোভাব মানুষকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিচ্ছে। অনুরূপভাবে বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্যান্সার চরমপন্থা, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ। মানুষ আজ আতঙ্কগ্রস্ত, পেশাজীবীরা ভীতসন্ত্রস্ত, সাধারণ জনগণ দিধাগ্রস্ত, ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিভ্রান্ত। আলেম সমাজ বিব্রত। সরকার কিংকর্তব্যবিমুঢ়! আমরা কোথায় চলেছি? এ উগ্রতা ও চরমপন্থার কারণে ইসলামের স্বাভাবিক প্রচার-প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইসলামের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ইসলামের উদারতা ও মানবতা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। পবিত্র জিহাদকে বির্তকিত করা হচ্ছে। এসব ধর্মীয় ফরমালিন চরমপন্থা, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ। এসব ফরমালিন তৈরির মূল হোতা ইসলামের চিরশত্রæ ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল। এসব ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু মুসলিম তরুণ না বুঝে অজ্ঞতার কারণে তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। বিভ্রান্ত ও মগজ ধোলাইয়ের শিকার হচ্ছে।
উগ্রবাদীদের কোনো কাজই ইসলাম সম্মত নয়। তাদের কর্মকাÐের বেনিফিসিয়ারী কারা? মদের বোতলে ইসলামী লেবেল এঁটে দিলেই হারাম মদ কি হালাল হয়ে যাবে? কোনো মদ্যপ আল্লাহ আকবার বলে মদ পান করলে সেটাকে যেমন কেউ ইসলামী মদ বলবে না, তেমনি কোনো সন্ত্রাসী ইসলামের দোহাই দিয়ে আল্লাহু আকবার বলে মানুষ হত্যার মত গর্হিত অপরাধ করলে সেটাকেও জিহাদ ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।