Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, ১৫ জ্যৈষ্ঠ , ১৪২৪, ০২ রমজান ১৪৩৮ হিজরী

ভারতে প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন বন্ধ্যাত্ব নিবারণে নতুন দিগন্ত

| প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক
গর্ভাশয়ের সমস্যার কারণে যেসব নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভাধারণ করতে অক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। পুনে শহরে এই প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন অপারেশন হলো। এ সাফল্যে ভারত জুড়ে তুমুল সাড়া পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের গ্যালাক্সি কেয়ার ল্যাপ্রোস্কপি ইন্সটিটিউটে ১২ জন ডাক্তারের একটি মেডিক্যাল টিম দেশে প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের একট জটিল সার্জারি করে এক অসাধ্য সাধন করলেন। মহারাষ্ট্রের সালাপুরের ২১ বছরের তরুণীর জরায়ুতে জন্মগত কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তিনি কখনোই গর্ভবতী হতে পারতেন না। তরুণীর মায়ের দেওয়া গর্ভাশয়টি ল্যাপ্রোস্কপিক টেকনিকে কেটে বের করে মেয়ের গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। অপারেশন শুরু হয় সকাল ৯টায়, শেষ হয় রাত ৯টায়। ডাক্তারা প্রথমে ভেবেছিলেন সাত-আট ঘণ্টা লাগবে কিন্তু লাগে ১২ ঘণ্টারও বেশি।
পরে ডাক্তাররা জানান, অপারেশন সফল হয়েছে। যিনি জরায়ু দান করেছেন, তার স্বাস্থ্য ঠিক আছে। প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতা মেয়েকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তারপর সপ্তাহ খানেক আইসিইউ-তে এবং পরের দুই সপ্তাহ রাখা হবে সাধারণ কেয়ারে। সেই সময় মহিলার দেহে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় কেমন কাজ করছে, জরায়ুতে নিয়মিত রক্ত সরবরাহ হচ্ছে কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে সোনোগ্রাফির মাধ্যমে। জানালেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর শৈলেশ পুন্টামবেকার এবং অপারেশন টিমের অন্যতম সদস্য ডক্টর সঞ্জীব যাদব। আশা করা হচ্ছে, সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি স্বাভাবিকভাবেই গর্ভবতী হতে পারবেন।
পুনের গ্যালাক্সি কেয়ার ল্যাপ্রোস্কপিক ইন্সটিটিউটে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আছে কিনা তা দেখার পরই মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তর এই ধরনের জটিল অপারেশনের লাইসেন্স দেয়। গতকালও অনুরূপ আরেকটি সার্জারি হয়। ২৫ বছর বয়সি এক নারীর দেহে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করা হয়। ‘আমার জীবনে সবথেকে সুখকর অভিজ্ঞতা হবে নিজের সন্তানকে ১০ মাস গর্ভে ধারণ করা’, গড়গড় করে সংবাদমাধ্যমকে বলে গেলেন ঐ নারী।
গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার একটা নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে চিকিৎসা মহল আশা করছে। ‘এ ধরনের বেশ কিছু সার্জারির পর অদূর ভবিষ্যতে এটা হবে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের প্রতিকারে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া’, বলেন হাসপাতালের গায়নাকোলজিস্ট ডক্টর মিলিন্দ টেলাং। প্রথম দুই-তিনটি গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সফল হলে ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস রচিত হবে।
সার্জারির আগে মা ও মেয়েকে সামনাসামনি বসিয়ে কাউন্সেলিং করা হয়। যিনি জরায়ু দিচ্ছেন এবং যিনি গ্রহণ করছেন, তাদের মানসিক শক্তির মূল্যায়ন করা হয়। দেখা হয়, গর্ভাশয় দিতে দাত্রীর উপর কোনোরকম চাপ আছে কিনা। শুধু তাই নয়, যিনি নেবেন তার ও তার স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল তা-ও দেখা হয়। গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সার্জারি নিয়ে গোটা দেশে সাড়া পড়ে গেছে। এর ভালো-মন্দ দিক নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। বলা হচ্ছে, এই অপারেশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। বারংবার হাসপাতালে আসতে হয়। এই অপারেশন বেশ ব্যয়বহুল। এটা একটা অস্থায়ী অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এর থেকে সারোগেসি বা দত্তক নেওয়া অনেক সহজ। যদিও পুনের গ্যালাক্সি হাসপাতালের মতে, গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের সার্জারি প্রক্রিয়া কিডনি, লিভার বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতোই।
গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন কীভাবে হয়, কাদের হয়?
যে নারীর গর্ভাশয় বাদ দেওয়া হয়েছে বা সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই রকম নারীই হতে পারেন গ্রহীতা। ডোনার হতে পারেন মা, বোন কিংবা মেয়ে। সার্জারির আগে গ্রহীতার ডিম্বানু এবং তার স্বামীর শুক্রাণু নিষিক্তকরণের পর ভ্রুণ হিমায়িত অবস্থায় রাখা হবে। তারপর ডোনারের জরায়ু নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হবে গ্রহীতার দেহে। প্রতিস্থাপনের বছর খানেক পর সেই হিমায়িত ভ্রুণ গ্রহীতার গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় আবার কেটে বাদ দেওয়া হয়।
প্রথম জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয় সউদী আরবে ২০০২ সালে। দ্বিতীয়টা হয় তুরস্কে ২০১১ সালে। কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি। কারণ দু’টি ক্ষেত্রেই জরায়ু নেওয়া হয়েছিল ‘ব্রেন ডেড’ মহিলার। তাই গ্রহীতা মহিলার দেহ তা নিতে পারেনি। বিশ্বে প্রথম সফল গর্ভাশয় প্রতিস্থাপিত হয় ২০১৪ সালে, সুইডেনে। ডাক্তার ম্যাটস ব্রানসস্ট্রম হলেন একমাত্র ডাক্তার যিনি জীবিত মহিলার জরায়ু কেটে অন্য মহিলার দেহে প্রতিস্থাপন করেন এবং সফল হন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।