Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ঐকমত্যকে উপেক্ষা করলে দেশের ক্ষতি হবে-ড. কামাল হোসেন

| প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০১৭, ১২:০০ এএম

খুলনা ব্যুরো : গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আইনের শাসন ছাড়া মানবাধিকার, ন্যায় বিচার ও সু-শাসন প্রত্যাশা করা যাবে না। দুর্নীতি থেকে যদি আমরা মুক্ত না হই তাহলে আমরা কোনো কিছুই অর্জন করতে পারবো না। সকল পরিশ্রম, ত্যাগ, সাধনা ও অর্জন ব্যর্থ হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ‘ম্যানেজ’ নামক শব্দটিকে নির্মূল করতে হবে।
দেশের গণতন্ত্র ও আগামী নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ সারা জীবন গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, শহীদ হয়েছে। মূলতঃ ‘জনগন ক্ষমতার মালিক’ এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা জীবন দিয়েছে। জনগনের সেই অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা যায় না। এ কারণেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঐক্যমতকে উপেক্ষা করলে দেশের ক্ষতি হবে। আর আগামী নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হবে এই প্রত্যাশা করে নিস্ক্রিয় থাকলে চলবে না। মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে, তাদেরকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। এবং সক্রিয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে।গতকাল দুপুরে নগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘ড. মো. মোজাহারুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃত্তি প্রদান এবং অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
‘ড. মোজাহারুল ইসলাম ও শার্লী ইসলাম ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এ দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যেক গ্রামের মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। দু’-একজন রাজাকার ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সারা দেশের মানুষের অর্জন। আজকের তরুণদের উপলব্ধি করতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এমনি এমনি আসেনি। বহু মানুষের ত্যাগে এ স্বাধীনতা এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সারা দেশের মানুষের বিজয়।তিনি বলেন, নীতির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে বাঙালি তরুণরা সব সময় আপোষহীন। সেই ইতিহাস ধরেই ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’ নির্বাচনে ২৭ বছরের যুবকের কাছে সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় হয়েছিল। বাঙালি কখনো আপোষ করেনি। বাঙালি তরুণদের রুখতে আইয়ুব খান পারেনি, মোনায়েম খাঁ পারেনি।
তরুণদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, আগে আমরা সবাই মানুষ হব। মানুষ আমাদের হতেই হবে। বাংলাদেশের একটা অসম্ভব ভবিষ্যৎ রয়েছে। এদেশে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবকিছু হতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক সব জায়গায় যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। এটাই স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত ছিল। এখনো আছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের মুখ্য প্রণেতা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অনেক আইনজীবী আছে যারা নিশ্চিত বেল দেয়ার (জামিন) কথা বলে কোটি টাকা আয় করছেন, কিন্তু মানুষ তাদেরকে সম্মান করে না। মানুষ মনে করে না যে, তারা সঠিক পথে আছে। তিনি বলেন, কিছু বড় ফি পাওয়া অপরাধ না। কিন্তু কোটি টাকা নিয়ে বেল নিশ্চিত করা, রায় পক্ষে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা এসব অন্যায়। ড. কামাল বলেন, আমি বলবো না জজ সাহেবরা এটা করেন কিন্তু অনেক আইনজীবী এটা বলে টাকা নেয়।
পরে ড. কামাল হোসেন ১১জন কৃতী স্কুল শিক্ষার্থীর মধ্যে ড. মোজাহারুল ইসলাম শিক্ষা বৃত্তি প্রদান এবং অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ফাউন্ডেশনের সম্পাদক আয়েশা হান্নান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্যারিস্টার তৌফিক আহমেদ মার্কস



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ