Inqilab Logo

শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

বনশ্রীতে দুই সন্তান হত্যা-পুলিশের কাছেও একই স্বীকারোক্তি হন্তারক মায়ের

প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বনশ্রীতে দুই সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত মা মাহফুজা মালেক জেসমিন র‌্যাবের কাছে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পুলিশের জিজ্ঞাসবাদেও প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন। রামপুরা থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা ৫ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে জেসমিন বলেছেন, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকায় তিনি এ হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। তবে স্পর্শকাতর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জেসমিনের এ বক্তব্য আমলে না নিয়ে ঘটনার দিন ওই বাসায় কারা যাতায়াত করেছেন তা জানার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকা-ে কারা লাভবান হয়েছে সেটিও তদন্ত করছেন। এছাড়া  মহাখালীর ল্যাব থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রতিবেদনের বিষয়টি মিলিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে।  
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে গতকাল জেসমিনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেসমিন সন্তানদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলে দাবি করলেও তার পরিবারের সদস্যরা তা মানতে নারাজ। জেসমিনের ভাই জাকির হোসেন ও বোন বলছেন, সন্তানদের নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছিল না জেসমিনের। তিনি সন্তানদের অনেক ভালোবাসতেন। সন্তানরা লেখাপড়ায়ও খারাপ ছিল না। ঘটনার দিন ওই বাসায় কারা যাতায়াত করেছে পুলিশ সেসব বিষয়ে জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।  মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই দিন বাসায় কে কে আসা-যাওয়া করেছে তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব জানিয়েছিল, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে নিজের স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তাদের মা। র‌্যাবের এ দাবির প্রেক্ষিতে জেসমিনের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতোমধ্যে। তবে র‌্যাব বলছে, তাদের কাছে মানসিকভাবে সুস্থই মনে হয়েছে এই মাকে। পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, রিমান্ডের প্রথম দিন পারিবারিক বিষয়েও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, বছর পনের আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে জেসমিনের সঙ্গে আমানুল্লাহর বিয়ে হয়। সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচাতো ভাই-বোন। পারিবারিক সম্পত্তির দ্বন্দ্ব অনেক দিনের এই পরিবারে। কারো শ্বশুরবাড়ি কেউ সহজে যেতেন না। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাহফুজা কিছু দিন কলেজে শিক্ষকতা করলেও পরে তা ছেড়ে দেন। ঘটনার দিন বাসায় ছিলেন না আমানুল্লাহ। নিহত শিশু দুটির দাদী বাসায় ছিলেন। নাতি-নাতনীকে জামালপুরে কবর  দেয়ার পর তিনি সেখানেই রয়েছেন। ঘটনার দিন দুই শিশুর দাদী  সেদিন রামপুরার বাসায় থাকলেও তিনি কী দেখেছেন তা এখনো কারো কাছে প্রকাশ করেননি। বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
যেভাবে কাটছে জেসমিনের
দু’সন্তান হত্যার অভিযোগে পাঁচ দিনের রিমান্ডে জেসমিন এখন রয়েছেন রামপুরা থানায়। দুইজন নারী পুলিশের পাহারায় তার সময় কাটছে মহিলা হাজতখানায়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই হাজতে অন্য কোনো নারী আসামি না থাকায় তিনি একাই অবস্থান করছেন সেখানে। গতকাল শনিবার রিমান্ডের প্রথম দিনে বিকেল পর্যন্ত পরিবারের কেউ দেখা করেননি  তার সঙ্গে। বাসা থেকে কেউ খাবারও পাঠাননি তার জন্য। গতকাল সকালে পুলিশের বরাদ্দ তালিকায় থাকা রুটি, ভাজি ও ডিম দিয়ে নাশতা করেছেন তিনি। দুপুরে ভাতের সঙ্গে মাছের তরকারি দেয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে ভাত ও মুরগির গোশতের তরকারি  দেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রামপুরা থানাধীন বনশ্রীর একটি বাসায় দুই শিশু নুসরাত আমান অরণী (১৪) ও আমান আলভীর (৬) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তাদের মা ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে এ অবস্থা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তে ধরা পড়ে তাদের শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পরে র‌্যাব সদস্যরা পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসবাদ করলে র‌্যাব দাবি করে সন্তানদের মা জেসমিন এ হত্যাকা- ঘটিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বনশ্রীতে দুই সন্তান হত্যা-পুলিশের কাছেও একই স্বীকারোক্তি হন্তারক মায়ের
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ