Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

মার্কিন নির্বাচনে রুশ হ্যাকাররা জড়িত থাকতে পারে : পুতিন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র চ্যালেঞ্জের উপযুক্ত জবাব দেবে রাশিয়া

| প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, আলাস্কা ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন রাশিয়ার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং মস্কো নিজের শক্তি বাড়িয়ে এর জবাব দেবে। সেন্ট পিটার্সবার্গে এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় গত বৃহস্পতিবার পুতিন বলেন, এ ছাড়া মস্কোর আর কোনও উপায় নেই। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, অন্যরা যখন রাশিয়া ও ইউরোপ সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে তখন মস্কো হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। অপর এক খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশপ্রেমিক রুশ হ্যাকাররা হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তবে এতে কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না বলেও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন তিনি। পুতিনের ভাষ্যে, অনেকেই রাশিয়া সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এর প্রতিবাদ জানাতেই হ্যাকিংয়ের পন্থা অনেক রুশ বেছে নিচ্ছেন। এসব রুশদের শিল্পী বলে মনে করেন তিনি। শিল্পী যেমন রঙতুলি দিয়ে সারাদিন ছবি এঁকে চলেন, হ্যাকাররাও তেমনি দিনভর ব্যস্ত থাকে সাইবার হামলা নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পুতিন বলেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে মস্কো বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাছাড়া, আলাস্কায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ফোর্ট গ্রিলির শক্তি বাড়ানোর মার্কিন পরিকল্পনার খবরেও মস্কো চিন্তিত। এ সমস্ত পদক্ষেপে বিশ্বের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। যা ঘটছে তা খুবই মারাত্মক এবং উদ্বেগের বিষয়। আলাস্কা আর দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন এটি ঘটছে। ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদয় হচ্ছে। আমরা কী এসব অসহায়ভাবে দেখব? অবশ্যই না। এর জবাব কিভাবে দেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। এ সমস্ত পদক্ষেপ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। পুতিন আরও বলেন, ইরানের ভয় দেখিয়ে ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তির অজুহাত দেখিয়ে এশিয়াতেও তারা একই কাজ করছে। ওদিকে, বিতর্কিত কুরিল দ্বীপ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত সেখানেও সেনা মোতায়েন করবে যদি এ দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়া জাপানকে ফিরিয়ে দেয়। ওই দ্বীপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই রাশিয়াকে সামরিক শক্তি বাড়াতে হয়েছে বলে পুতিন দাবি করেন। এদিকে, রাশিয়া গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছে- এমন মনোভাব পোষণ করেন বেশ কয়েকজন মার্কিন রাজনীতিবিদ। গত মার্চে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) নিশ্চিত করেছে, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। তবে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে এলেও গত বৃহস্পতিবার পুতিন বলেন, এ ধরনের কর্মকাÐে সরকারি পর্যায়ে কখনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আর হ্যাকাররা স্বত্বঃস্ফূর্তভাবে হস্তক্ষেপ করলেও তারা ভোটারদের মন কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছে বলে মনে করেন না তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা চাকরি হারালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় তা অস্বীকার করেছেন। ধারণা করা হয়, এই বিষয়টি তদন্তের জেরেই এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেছেন তিনি। বিবিসি, রয়টার্স।



 

Show all comments
  • রিপন ৩ জুন, ২০১৭, ২:১০ এএম says : 0
    আমার কাছেও সেরকমই মনে হচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুতিন


আরও
আরও পড়ুন