Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭ মাঘ ১৪২৭, ০৭ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

ল্যাটিন আমেরিকা-ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ চুক্তির প্রস্তাব

প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কূটনৈতিক সংবাদদাতা : ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ। সেই সাথে চায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত অঞ্চলে বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগাক দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা। তবে ঐ অঞ্চলের বাংলাদেশ সফররত রাষ্ট্রদূতরা চান তাদের দেশে বাংলাদেশী বিনিয়োগ। গতকাল সকালে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঐ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সম্পর্ক : অপার সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং মিশন-প্রধানরা এ সেমিনারে অংশ নেন এবং এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদের মধ্যে ব্রাজিল ব্যতীত অন্যান্যরা অনাবাসী। তারা দিল্লীতে অবস্থান করেন। ব্রাজিল, ডোমিনিকান রিপাবলিক, কলাম্বিয়া, মেক্সিকো, ইকুয়েডর, পেরু, ভেনিজুয়েলা, গায়ানা ও ত্রিনিদাদ টোবেগোর মিশন-প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলো গেল বছর প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে নিয়েছে আধা বিলিয়ন ডলারেরও কম। এসব অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পারিক বাণিজ্য বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ। জবাবে বাজার ধরতে এসব অঞ্চলে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের আহবান জানান সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতদের অনেকেই। এর পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্য সম্পর্কে জানানো এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তারা। এসব অঞ্চলে বাণিজ্য বাড়াতে, আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নের পরামর্শ রাষ্ট্রদূতদের। সেমিনারে ল্যাটিন আমেরিকার ৬টি এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৩টি- মোট ৯ টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একে কাজে লাগাতে দুই অঞ্চলের বেসরকারি খাতকে মুখ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শাহরিয়ার বলেন, কয়েক দশক ধরে ল্যাটিন আমেরিকার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে দূতাবাস খুলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে তার উপস্থিতি রাখছে। এখানে যে নতুন সম্ভাবনা রয়েছে তাকে কাজে লাগতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক, প্লাস্টিক ও মেলামাইন সামগ্রীর বিশাল বাজারের সুবিধা নিতে চায় বাংলাদেশ। তাছাড়া আইটি পণ্য ও সেবা, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য ছাড়া কৃষিকাজে বাংলাদেশ সেখানে অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করি। অন্যদিকে বাংলাদেশ অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং মোটরশিল্পে ল্যাটিন আমেরিকার বিনিয়োগ আহ্বান করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিস‘র চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান।
মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত মেলবা প্রিয়া বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে যে সমস্ত লিগ্যাল চুক্তি রয়েছে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ রূপদানের ওপর জোর প্রদান করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হতে পারে বলে মত ব্যক্ত করেন। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে যেসব আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাংলাদেশ রয়েছে সেসবে ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া এবং ত্রিনিদাদ টোবাগোকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য ডোমিনিকান রিপাবলিকের অ্যাম্বাসেডর-ডেজিগনেট ফ্রাংক হ্যান্স ড্যানেন বার্গ ক্যাসটা লান্স আন্তর্জাতিক পরিসরে বহু পাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি হাইতিতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ফ্রি করার প্রস্তাব করেন।
বাংলাদেশে অবস্থানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ওয়ানজা কাম্পোস ডা নব্রেগা ল্যাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মিশন-প্রধানগণের সাথে একসঙ্গে বসার এ আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বসবাস ও বেড়ানোর জন্য ঢাকা একটি অন্তত্য প্রাণচঞ্চল ও চমৎকার স্থান। বাংলাদেশ এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত নব্রেগা মন্তব্য করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ল্যাটিন আমেরিকা-ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ চুক্তির প্রস্তাব
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ