Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে ‘সনবিদ্যা’ (ঊৎধষড়মু): বিষয় ও ভুক্তি বিবেচনা

| প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মো হা ম্ম দ আ শ রা ফু ল ই স লা ম : ‘সন’ এবং ’বিদ্যা’ দুটি স্বাধীন শব্দ একত্রে যুক্ত হয়ে একটি যৌগিক শব্দ হিসেবে ‘সনবিদ্যা’ শব্দটির সৃষ্টি। প্রাণীবিদ্যা, জীববিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এ ধারায় শব্দটি বিভিন্ন বিষয়ক বিদ্যার নামকরণে পূর্ব থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ‘সনবিদ্যা’ নামে শব্দটি বাংলা ভাষার অভিধানে নেই। বিদ্বজ্জনের অনুমোদন পেলে হয়তো এটি একটি শব্দ হিসেবে অভিধানে ঠাঁই পাবে। এর ইংরেজি করতে গিয়েও নতুন শব্দের জন্ম দিতে হচ্ছে। আমার মনে হয় ইংরেজিতেও শব্দটি দু’টি স্বাধীন শব্দযোগেই গঠন করতে হবে। আমার প্রস্তাবনায় এর ইংরেজি রূপ হবে ‘ঊৎধ’+ ‘ষড়মু’= ঊৎধষড়মু। অবশ্য এ ক্ষেত্রে খড়মু শব্দটিও ‘বিদ্যা’ শব্দটির মতোই বহুল ব্যবহৃত শব্দ হিসেবে যুক্ত হয়েই ঊৎধষড়মু শব্দটির গঠন।
সনবিদ্যা কি আলাদা কোনো বিদ্যা? এ প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসবে যে, এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের আওতায় নির্বাচিত বিষয় হিসেবে অধিত কোনো বিদ্যা নয়। আজ পর্যন্ত বিষয়টিকে কোনো আলাদা বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বা আলাদা বিদ্যা হিসেবে বিবেচনার জন্য পেশও করা হয়নি বা স্বীকৃতিও পায়নি। তবে আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পড়ালেখার ব্যবস্থা না থাকলেও গুরুবাদী ধারায় এ বিষয়ে মানুষ অনেক কিছুই জানে এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক সব ক্ষেত্রে বিষয়টির চর্চা করে থাকে। এক কথায় বিষয়টি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে জড়িত। এ কারণেই দেখা যায়, সনাতন ধারায় শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে মানুষ ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক প্রাকৃতিকভাবেই এ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেশের শ্রেষ্ট বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ডিপার্টমেন্টের পাঠ্যসূচিভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এর উপর পড়ালেখার একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধান প্রধান সনগুলো ধর্মকে বা ধর্মবেত্তাগণকে কেন্দ্র করে আবার কোনো কোনো সময় দেশের রাজা বা শাসকের আগ্রহে চালু হয়েছে। কোনো বিশেষ ঘটনার স্মারকে সন চালুর বিষয়ও রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সন প্রসঙ্গটি পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগুলোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে বা হচ্ছে। এ ছাড়া সনের উপাদানগুলোও ধর্মকেন্দ্রিকতা মুক্ত নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্মতত্ত¡ ও সংস্কৃতি বিভাগে এ বিষয়টি কোর্স পাঠ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অন্য দিকে সনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় ইতিহাস পাঠে। কাজেই সাধারণ ইতিহাস বা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ও হতে পারে এ বিষয়ক কোর্স প্রবর্তনের অগ্রণী উদ্যোক্তা। কোর্সটি ইংরেজি এবং বাংলা ভাষা শিক্ষার কোর্সের মতো মৌলিক কোর্সের অন্তর্ভুক্তও করা যায়। সাধারণ ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, বিশ্ব ধর্মতত্ত¡ ও সংস্কৃতি, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, আরবি সাহিত্য, ফারসি সাহিত্য, উর্দু সাহিত্য, সংস্কৃত সাহিত্য, পালি সাহিত্য, নৃতত্ত¡, সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয়গুলোর মৌলিক পাঠ অংশে সনবিদ্যা বিষয়ে নির্দিষ্ট নাম্বার রাখা বা বিকল্প বিষয় হিসেবে বেছে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে অনেক আগ্রহী শিক্ষার্থী এ বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাবে। নিজস্ব বিষয়ের উপর ভালো জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি আরেকটি সহায়ক বিষয়ে অতিরিক্ত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে সম্মান ফাইনাল ইয়ার অথবা মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের সনবিদ্যা বিষয়ে ১০০ নাম্বারের সিলেবাস/বিকল্প বিষয় হিসেবে বেছে নেয়ার অবকাশ অবশ্যই থাকা উচিত। তাহলে এ লাইনে যারা আগ্রহী, তারা ‘সনবিদ্যা’ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার সুযোগ পাবে।
সনবিদ্যাকে একটি অধিতব্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে যদি এর বিস্তারিত সিলেবাস প্রণয়ন করতে হয় তাহলে সনের তাত্তি¡ক দিকসহ এর প্রায়োগিক অনেক বিষয়ও আলোচনায় চলে আসবে। সনের বৃহত্তর পরিধিতে যেসব বিষয় এর পাঠ পরিধির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সেগুলো হলোÑ ১. সনবিদ্যা কাকে বলে এর সংজ্ঞায়ন ২. এর পাঠ পরিধি, মানুষের জীবনে এর সম্পৃক্ততা ও এতদ্বিষয়ক শব্দকোষ ৩. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সনের উদ্ভব ও বিকাশ, ৪. সময় বিভাজন ও সময় নিরূপণ, প্রাচীন যুগে বা প্রাথমিক যুগে সময় নিরূপণ, মধ্যযুগে সময় নিরূপণ ও আধুনিক যুগে সময় নিরূপণ পদ্ধতি ও এর প্রয়োগ, ৫. ইন্দো-পাক-বাংলা উপমহাদেশে সময় নিরূপনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য; পল, দÐ, ক্ষণ, নিমেষ, কাষ্টা, ফলা, অহোরাত্র, ঝাম, পলক, লগ্ন, ঘড়ি, প্রহর, সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিবস, রজনী, সৌরদিন, চান্দ্রদিন, বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ, করণ, সপ্তাহ, পক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ-শুক্লপক্ষ, মাস, মলমাস, সাবনমিতি, ঋতু, বৎসর, অধিবর্ষ, যুগ, সিলভার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি, প্লাটিনাম জুবিলি, ডায়মন্ড জুবিলি, শতাব্দ, সহস্রাব্দ ইত্যাদি ৬. সনবিদ্যার ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রাগৈতিহাসিক যুগ, প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ, ধর্মগ্রন্থগুলোতে সন সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ ও আলোচনা, পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ঘটনাভিত্তিক সন গণনা, রীতিসিদ্ধ সন গণনা, বিভিন্ন সনের ইতিহাস, সংখ্যাশব্দে সনের প্রয়োগ, জ্যোতিষশাস্ত্রের সাথে সনের সম্পর্ক, জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সনের সম্পর্ক, লোক সংস্কৃতিতে সনের প্রয়োগ, ধর্ম বিষয়ে সনের প্রয়োগ, ঘটনাবলির ধারাক্রম তৈরিতে সনের অপরিহার্যতা এবং অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে সনের সম্পৃক্তি ৭. প্রকৃতিবিজ্ঞানের সাথে সনবিদ্যার সম্পর্ক, আবহাওয়াবিদ্যায় বিশেষ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানে এর অনুপুঙ্খ প্রয়োগ, সমুদ্র-নদী-তটভ‚মিতে জোয়ার-ভাটায় সময়ের সংশ্লিষ্ঠতা, চাঁদের হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক, পূর্ণিমা, অমাবশ্যায় জীবদেহের অনুভ‚তি, প্রাণীক‚লের আগাম পূর্বাভাস জ্ঞাত হওয়া, সমুদ্রে নৌ-চালনা ও আকাশে বিমান চালনায় চলাচল পথ ও ঋতুভিত্তিক শতর্কতা ইত্যাদি ৮. ক্যালেন্ডার তৈরি, পঞ্জিকা তৈরি, স্থায়ী ক্যালেন্ডার তৈরি, বিভিন্ন সনের ক্যালেন্ডার সমন্বয়, বিভিন্ন সনের রূপান্তর কৌশল, স্থানীয় সনগুলোর সাথে বা ঘটনাভিত্তিক সময় গণনার সাথে জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহৃত সনের সমন্বয় ইত্যাদি ৯. সনের বিষয় নিয়ে সাহিত্য, পাটিগণিতে সনবিদ্যার অন্তভর্র্‚ক্তি, বিভিন্ন মাসের দিন গণনার আর্যা, খ্রিষ্টীয় সন গণনার আর্যা, বাংলা সন গণনার আর্যা, লিপইয়ার বা অধিবর্ষ গণনার পদ্ধতি, সময় হ্রাসবৃদ্ধিকরণ বিষয়ে তাত্তি¡ক আলোচনা, ধর্মীয়ভাবে হ্রাসবৃদ্ধিকরণ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা, বৈজ্ঞানিকভাবে হ্রাসবৃদ্ধি যৌক্তিক কীনা এবং হ্রাসবৃদ্ধির অপরিহার্যতা বিচার ১০. বাংলাদেশে ব্যবহৃত নানা সন সম্পর্কে ধারণা যেমনÑ ১.বাংলা সন ২. হিজরি সন ৩. খ্রিষ্টীয় বা ঈসায়ি সন ৪. শকাব্দ বা শক সন ৫. সম্বৎ ৬. মঘি সন ৭. লক্ষণাব্দ ৮. ত্রিপুরাব্দ ৯. নেপাল সম্বৎ ১০. গুপ্তকলা ১১. শ্রী হর্ষাব্দ ১২. বল্লভাব্দ বা বল্লভকলা ১৩. মল্লাব্দ বা বিষ্ণুপুরি সন ১৪. চৈতন্যাব্দ ১৫. পরগনাতি সন ১৬. সরাইল সন ১৭. নসরৎশাহী সন ১৮. দানিশাব্দ ১৯. রাজরা সন ২০. বিশ্বসিংহ শক ২১. রতœপিঠস্য নৃপতে শক ২২. অমলি সন ২৩. যবন নৃপতে শকাব্দ ২৪. সদর সন ২৫. মন্দারন সন ২৬. মিলিক সন (বাঘা) ২৭. জমিদারি সন ২৮. সর্বসিদ্ধ সন বা শ্রীরামসিদ্ধি সন ২৯. পালাব্দ ইত্যাদি। ১১. সন-তারিখকে কেন্দ্র করে নানা পালা-পার্বণ-উৎসব ইত্যাদি রয়েছে যেমনÑ ১. নওরোজ ২.পহেলা বৈশাখ ৩. চৈত্র সংক্রান্তি ৪. বৈসাবী ৫. বড়দিন ৬. ইস্টার সানডে ৭. ইস্টার মানডে ৮. বিজু উৎসব ৯. নবান্ন ১০. জন্মদিন বা মৃত্যুদিন ১১. রোজা ১২. দুই ঈদ ১৩. বারো মাসে তেরো পার্বণ ১৪. কঠিন চিবরদান ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মে আরো নানা দিবস ও অনুষ্ঠান ১৫. জাতীয় জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রæয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ইত্যাদি ছাড়াও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বহু দিবস পালন।
সন বৈচিত্রের দেশ এ বাংলাদেশ থেকেই সনের উপর বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে সনচর্চায় আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন ঘটবে এবং একই সাথে উচ্চ শিক্ষার পর্যায়ে এ লাইনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে সনবিদ্যা পাঠ্যসূচিভুক্ত হলে দেশে তৈরি এ জনশক্তি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এতদ্বিষয়ক শিক্ষক চাহিদা পূরণসহ সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদা পূরণেও কাজে লাগবে। গতানুগতিক ধারায় চলা ও অন্যদের অনুসরণের পাশাপাশি স্বউদ্ভাবিত সৃজনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থানকেও আরো সংহত করতে পারবে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই আমি বাংলা একাডেমির বার্ষিক সাধারণ সভায় উত্থাপন করেছি এবং একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস-চ্যান্সেলর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে প্রস্তাব পেশ করেছি। ভিসি এ বিষয়ে কোনো বিভাগের মাধ্যমে একটি সেমিনার আয়োজনের পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক ‘আন্তধর্মীয় এবং আন্তসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এর উদ্যোগে ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে ‘সনচর্চা যুগে যুগে’ নামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সন গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। সংলাপ কেন্দ্রের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন অ্যান্ড কালচারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. কাজী নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ড. অজয় রায় এবং ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। বিদ্বজ্জন বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পাঠ্যভ‚ক্ত করণের বিষয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা ও মতামত প্রদান করেন। একাডেমিক এলাকার বাইরে বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারাও এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে একে আরো উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সনবিদ্যা অন্তর্ভুক্তিকে একটি আন্দোলনে রূপদানে এগিয়ে আসবেন এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন। আমার এ আলোচনায় ‘সনবিদ্যা’-কে একটি বিষয় হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে পাঠ্যক্রমে এর ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনার যোগ্য হয়ে উঠবে এমনটিই প্রত্যাশা করি। তখন হয়তো কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন এটি কোর্স হিসেবে বা অধিতব্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণে এগিয়ে আসবে এমন আত্মবিশ্বাসও আমার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিটেইল সিলেবাস প্রণয়নে আমার শতভাগ সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে এ অঙ্গীকার আমি করছি। আমার এ বিশ্বাসের সমান্তরালে যারা ঐকমত্য পোষণ করেন, তারাও হয়তো এর বাস্তবায়নে তাদের মতো করে এগিয়ে আসবেন এ প্রতীতি আমার রয়েছে।
লেখক : সন গবেষক, ইতিহাসবিদ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।