Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইতিহাসবিদ রমেশ মজুমদারের তিনটি চিঠি

| প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মা হ মু দ শা হ কো রে শী : এ কথা এখন বহুজন জ্ঞাত যে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর পর প্যারিসের সর্বত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। তিনি স্বয়ং এই নিবন্ধের লেখক। ১৯৬৫ সালে ঘটেছিলো সেই ঘটনা। ডক্টরেট ডিগ্রির বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো অবশ্য ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আদ্যোপান্ত ফরাসি ভাষায়। ১৯৭২ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় অতি উচ্চ প্রশংসা সূচক এক আলোচনা লিখে পাঠিয়েছিলেন। আর অতি সম্প্রতি বইটির ইংরেজি তর্জমা সেই আলোচনাসহ প্রকাশিত হয়েছে। মাঝখানে কোলকাতার এক প্রকাশকের অনুরোধে ফরাসি বইটির একটি কপি ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর অভিমত জানার জন্য। প্রথম একটি পোস্ট কার্ড পাওয়া গেল। তাতে ড. মজুমদার লিখেছিলেন বইটি তাঁর হাতে এসে পোঁছেনি। পেলে তিনি অবশ্যই আগ্রহের সাথে কিছু লিখবেন। দ্বিতীয় কার্ড এলো ১৯-১-১৯৭৬ সালে লেখা। তাতে তিনি বইটির প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভাইস চ্যান্সেলর রূপে বহু বছর কাটিয়েছেন, তবু তাঁর লেখায় অনেক সময় মুসলিম বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে বলে অনেকের ধারণা। সেই ড. মজুমদার কিন্তু লিখেছেন “আপনি সে বিষয়টি সম্বন্ধে লিখিয়াছেন তাহা খুবই মূল্যবান”। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে আমার সেই অভিসুন্দর্ভের ইংরেজি শিরোনাম দাঁড়াল- ঈৎবংপবহঃ ধহফ খড়ঃঁং : অ ংঃঁফু ড়হ ঃযব ওহঃবষষবপঃঁধষ ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব গঁংষরসং ড়ভ ইবহমধষ ঁঢ়ঃড় ১৯৪৭ (অযসবফ ঢ়ঁনষরংযরহম ২০১৬)
১১ মার্চ ১৯৭৬ সালে ২ পৃষ্ঠার একটি পত্রে তিনি লেখেন, ‘আপনার বইয়ের বেশ কিছু অংশ আমি পাঠ করেছি’ ফরাসি ভাষায় আমার জ্ঞানের স্বলতার কারণে আমি খুব দ্রæত এগোতে পারছি না। অথচ একাজে দীর্ঘসূত্রতা লাভ করছে। তাই আমি বলতে চাই যে, আমি যদ্দুর পড়েছি তাতে আমি খুবই সন্তোষজনকভাবে অভিভ‚ত (ঠবৎু ভধাড়ৎধনষু রসঢ়ৎবংংবফ) হয়েছি। প্রথমত আমি স্বীকার করছি যে, বাংলার মুসলমানদের সম্পর্কে সাধারণভাবে হিন্দুদের জ্ঞান অস্পূর্ণ। সে জন্য আমি আপনাকে বইটির একটি ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করতে অনুরোধ জানবো। তাছাড়া হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি কিছু প্রশ্ন করেছিলেন, রেফারেন্স চেয়েছিলেন। আমি কী উত্তর দিয়েছিলাম তা এখন মনে পড়ছে না। আমার চিঠির কোন কপিও নেই। তবে ইংরেজি অনুবাদের ব্যাপারে দীর্ঘদিন আমি অপেক্ষা করেছিলাম কানাডায় কেউ একজন করবে আমার বন্ধু ড. জোসেফ টিও কনেলের তত্ত¡াবধানে। কিন্তু তা আর হয়নি। যাক শেষ পর্যন্ত স্বদেশেই তা সম্পন্ন হলো আমার জীবনকালে সেটা আমার সৌভাগ্য বটে।
লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।