Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

পুলিশের দাবি-পুরোহিত হত্যা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য দিয়েছে খলিল

প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা : পুরোহিত হত্যাকা-ের বিষয়ে খলিল পুলিশের কাছে গুরুত্বপর্ণ তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ সেসব তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আইয়ুব আলী বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে খলিল গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাবে না।’ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা কথিত জেএমবি সদস্য খলিলকে ১০ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ (রিমান্ড) শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান এই তদন্ত কর্মকর্তা।
এই নিয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা ছয়জনের মধ্যে দুইজনকে রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগে কারাগারে ফেরত পাঠাল পুলিশ। এর আগে হেফাজতে নেওয়ার তিন দিনের মধ্যে কথিত জেএমবি সদস্য আলমগীর হোসেন (২৮) পুরোহিত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠায় পুলিশ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের সোনাপোতা গ্রামের সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তাদের গুলি ও বোমার বিস্ফোরণে আহত হন আরও দুইজন। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পুলিশ আরেকটি মামলা করে। দুটি মামলাই অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তার খলিলুর রহমান (৫৫), বাবুল হোসেন (২৮) ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৩০) গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিন করে পুলিশ হেফাজতে দেয় আদালত। এছাড়া আলমগীর হোসেন (৩৫), হারেজ আলী (৩২) ও রমজান আলীকে (২২) এক মামলায় ১০ দিন করে এবং আরেক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিন করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়।
দেবীগঞ্জে পুরোহিত হত্যা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে হুমকি
পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আমিনুর রহমানকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নামে ডাকযোগে ওই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পাওয়ার পর নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান এ আইনজীবী। একইসঙ্গে বিষয়টি জেলা আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আমিনুর বলেন, ‘বেলা পৌনে ২টায় স্থানীয় ডাকঘরের পিয়ন আমাকে ‘হলুদখামের’ একটি চিঠি এনে দেন। খাম ও চিঠির ওপর আমার নাম ভুল করে আমিনুল ইসলাম লেখা হলেও ঠিকানা দেওয়া হয়েছে আদালতের।চিঠিতে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠির শেষে শুধু ‘জেএমবি’ লেখা, তবে কোনো প্রেরকের ঠিকানা নাই।’ তিনি আরও বলেন, চিঠিতে তোমার আচরণ ও কার্যকলাপের জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ‘তোমাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদাই জানাব’ এ হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে লেখা আছে- তোমার ক্ষত-বিক্ষত লাশের টুকরোগুলো শিয়াল ও কুত্তার খোরাক যোগাবে। তোমার করুণ পরিণতি এলাকাবাসী ও জনসাধারণ দেখবে। তোমার অনেক পাপ তাই প্রায়শ্চিত্ত উপভোগ কর বলেন আমিনুর। সদর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমিনুর রহমানের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিঠির বিষয়ে তদন্ত চলছে। চিঠিতে প্রেরকের ঠিকানা না থাকলেও খামের দুই পাশেই পঞ্চগড় ডাকঘরের সিল দেওয়া আছে। চিঠিটি পঞ্চগড় থেকেই পাঠানো হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের সোনাপোতা গ্রামের সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় হামলাকারীদের গুলি ও বোমায় আহত হন আরও দুজন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ