Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

মা নিজেই দু’সন্তান হত্যা করার বিষয়টি অবিশ্বাস্য-ড. মিজান

প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : নিজের দুই সন্তানের মৃত্যুর পর দায় স্বীকারের বিষয়টি কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যাপার। মা নিজেই দুই সন্তান হত্যা করার ঘটনা অবিশ্বাস্য। মাহফুজা পাগল নন। তবে তিনি মানসিক রোগাক্রান্ত থাকতে পারেন। বনশ্রীতে মায়ের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে হত্যা প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এ অভিমত ব্যক্ত করেন। দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৫ দিনের রিমান্ডে থাকা মা মাহফুজা মালেক জেসমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে পরকীয়ারও প্রমাণ মেলেনি। তাই জিজ্ঞাসাবাদে মনোরোগ বিজ্ঞানীদের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে মা দুই সন্তানকে হত্যা করার ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওই মা মানসিক ভারসাম্যহীন কি না তা পরীক্ষা করা দরকার। ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন নাকি মানসিকভাবে সুস্থ। যদি সুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে এমন কি ঘটেছে যার জন্য মা তার দুই সন্তানকে হত্যা করল। এটা একটি রাষ্ট্রকে ভাবিত না করে পারে না। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাহফুজা মালেক জেসমিন দুই সন্তানকে হত্যা করেছেনÑ স্বীকার করলেও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনার পর দুই সন্তানের বাবা-মায়ের কললিস্ট পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে ডিবি ও র‌্যাব। তবে তাদের ফোনে বিবাহবহির্ভূত কোনো সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি। জেসমিন বলেছেন, দু’সন্তানের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকেই এই হত্যাকা- ঘটিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মাহফুজা পাগল নন। তবে তিনি মানসিক রোগাক্রান্ত থাকতে পারেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায় উঠে এসেছে। নিজের দুই সন্তানের মৃত্যুর পর দায় স্বীকারের বিষয়টি কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মা ছাড়াও অন্য কেউ হত্যাকা-ে জড়িত কি না জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহফুজা নিজে উচ্চশিক্ষিত, কলেজেও চাকরি করেছেন। পরে ছেড়ে দেন। কিন্তু তাদের সংসারে অভাব ছিল। এখান থেকেও হতাশা কাজ করতে পারে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চলছে।
এছাড়া ঘটনাস্থলে বালিশের কাভার, বিছানার চাদর, ওড়নাসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা ছাড়াও সিআইডি আলামত নিয়েছে। তারা আলামত পরীক্ষা করে দেখছেন। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তাদের গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে, আবার কেউ ধারণা করছে ওড়না পেঁচিয়ে। আমরা আলামতের পরীক্ষার পর এসব বিষয়ে জানতে পারব। সব তথ্য আরো যাচাই-বাছাই করে তারপর এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে রামপুরার বনশ্রীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় নুসরাত ও আলভী নিহত হয়। তাদের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, খাবারের বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা জানান, তাদের হত্যা করা হয়েছে। এরপর শিশু দু’টির পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বাসার নিরাপত্তারক্ষী ও চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, বাবুর্চিসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পর র‌্যাব দাবি করে, ওই দুই সন্তানকে তাদের মা হত্যা করেছে। এরপর নিহতদের বাবা আমান উল্লাহ বাদি হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ