Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বাড়ছে সঙ্ঘাতের আশঙ্কা

মার্কিনপন্থী সুন্নী আরব দেশগুলোর জোট

| প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৭, ১:১৯ এএম

জেরুসালেম পোস্ট : মার্কিনপন্থী সুন্নী আরব দেশগুলোর একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটছে। সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, মিসর ও ইয়েমেনের কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সুন্নী আরবদেশগুলোর একটি জোটের পুনরভ্যুদয়ের সুস্পষ্ট সর্বশেষ পদক্ষেপ। এ জোটের কাজ এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ও অগ্রগতি প্রতিহত এবং সুন্নী রাজনৈতিক ইসলামের শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা।
পশ্চিমা মিডিয়া এ ব্যাপারে তেমন আগ্রহ না দেখালেও ইরান ও শীয়া ইসলামবাদের বিরুদ্ধে এই রক্ষণশীল সুন্নী জোট কিছু সময়ের জন্য গঠন পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মিসরে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ সিসির সরকারকে সউদী আরব ও ইউএই প্রথম স¦ীকৃতি দেয়। মিসরের অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধ নিশ্চিত করতে এ দু’দেশের আর্থিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০১১ সালে বাহরাইনে ও ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের পিছনে চালিকাশক্তি ছিল সউদী আরব ও ইউএই। উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য ছিল ইরানি স্বার্থ বিস্তার প্রতিহত করা।
সউদী আরব ও ইউএই তেলের মূল্য হ্রাস সত্তে¡ও গত অর্ধ দশক ধরে উচ্চ মাত্রার সামরিক ব্যয় করে আসছে। দু’দেশই বিমান শক্তি ও স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সের পিছনে উদার হাতে বিনিয়োগ করছে। এ ক্ষেত্রগুলোতে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে।
গত দু’বছরে এ ব্যাপারে ফলাফল দৃশ্যমান।  
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্ডেব প্রণালিতে ইরান সমর্থিত আনসার আল্লাহর অগ্রগতি রোধ করতে হস্তক্ষেপ  উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রথম ননপ্রক্সি সামরিক শক্তির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ (২০১১ সালে বাহরাইনে অপারেশন পেনিনসুলা শিল্ড ছিল গণবিক্ষোভের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা)।
ইয়েমেনের ফলাফল মিশ্র। এটা কোনোক্রমেই বিপর্যয় নয় যদিও এ হস্তক্ষেপকে কোনো কোনো মহলে সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। হুছিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কিন্তু সংকীর্ণ বাবেল মান্ডেব প্রণালিতে যেখানে ইরান সমর্থিত বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিহার করা হচ্ছে। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যে চলাচলকারী সকল জাহাজকে বাবেল মান্ডেবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ইউএই ও সউদী স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সেস ইয়েমেন যুদ্ধে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
লিবিয়াতে জেনারেল খলিফা হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সমর্থনে ও ইসলামী গ্রæপগুলোর বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে আমিরাতের বিমান বাহিনী তাকে সাহায্য করছে। আমিরাত বেনগাজি থেকে ১শ’ কি মি দূরে মারজ প্রদেশের আল খাদিমে একটি অগ্রবর্তী বিমান ঘাঁটি তৈরি করেছে। আইএইচএস জেন’স-এর প্রকাশিত উপগ্রহ ছবি অনুযায়ী  এটি-৮০২ লাইট অ্যাটাক জঙ্গি বিমান ও ইউএইচ-৬০ বø্যাকহক হেলিকপ্টারগুলো  এ ঘাঁটি থেকে অভিযান চালায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন মার্কিনপন্থী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সুযোগ ও উচ্চাকাক্সক্ষা দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট যে তারা ট্রাম্প ও তার চারপাশের লোকদের মধ্যে তাদের অনুরূপ আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি চিহ্নিত করেছে। এটা ইরানি ও সুন্নী ইসলামী শত্রæ উভয় সম্পর্কে আরো জোরালো ও সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
২১ মে রিয়াদ বৈঠকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে প্রয়োজন হলে সমর্থন দিতে ৩৪ হাজার সৈন্যের একটি রিজার্ভ বাহিনী প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেছে।
শীর্ষ বৈঠকের চূড়ান্ত ইশতেহার মোতাবেক উপস্থিত নেতারা এ অঞ্চলের এবং বৃহত্তর পর্যায়ে বিশে^র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অস্থিতিশীল করতে ইরানের পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার প্রতি তার অব্যাহত সমর্থনকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তেহরানকে বিপজ্জনক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া ও অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য অভিযুক্ত করেন। এ ঘোষণার এক তৃতীয়াংশ জুড়েই ইরানের আঞ্চলিক কর্মকান্ডের নিন্দা রয়েছে।
রিয়াদ ট্রাম্পের সফরের পর রিয়াদ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প তার ভাষণে এ অঞ্চলে ধ্বংস ও গোলযোগ ছড়ানোর জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘোষণা অবশ্যই বাস্তবে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অনুসৃত হয় না। তবে পূর্ব সিরিয়ায় পাশ্চাত্য পন্থী ও ইরান পন্থী বাহিনীগুলোর মধ্যকার বর্তমানে উদ্ভূত অচলাবস্থা এবং এ এলাকায় ক্রমবর্ধমান হারে ইসলামিক স্টেট কর্তৃক এলাকা হারানোর প্রেক্ষিতে এটা ভাবা কঠিন নয় যে উপসাগরীয় আরব সন্ত্রাস দমন বাহিনী এক ধরনের ভূমিকা পালন করবে । উদাহরণ স্বরূপ  স্থানীয় বাহিনীর সহযোগিতায় সুন্নী আরব এলাকাগুলো দখল ও শাসন করার কথা বলা যায়।
এ জোটের আত্মú্রকাশের পিছনে আরো  অকথিত কারণ হচ্ছে ২০১০ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া আরব বসন্ত যা বিলীয়মান। সউদী আরব, ইউএই ও মিসরের সিসির নেতৃত্বাধীন জোট জনগণের বিপ্লবী শক্তিকে সংগঠিত করতে চাইবে না। বরং ইরানিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও আধা নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে সতর্কতার সাথে নেতৃত্ব প্রদান ও উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে এ জোটের কাজ হবে ব্যাপক ভিত্তিক।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে এ জোটের অভ্যুদয়ের প্রধান শিকার হয়েছে কাতার যে দেশটি অন্য সব কিছুর বাইরে গণঅভ্যুত্থানের শিখা প্রজ্জ্বলিত করতে সহায়তা যুগিয়েছিল।
কাতার মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট আন্দোলন ও তার বিপুল প্রভাবশালী আল জাজিরা স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে সিরিয়া, মিসর ও ফিলিস্তিন ভূখন্ডের সুন্নী আরব জনগণের শক্তিকে তার নিজের জন্য রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবে পরিণত করতে চেয়েছিল। সে প্রকল্প ব্যর্থ হয়।  
এক মুহূর্তের জন্য কাতারি অর্থ মুসলিম ব্রাদারহুডের শক্তির ভিত্তিতে একটি সুন্নী ইসলামী জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে ব্রাদারহুডের সহযোগী দলগুলো কায়রো, আংকারা, তিউনিস ও গাজা নিয়ন্ত্রণ করে। অনুরূপ আন্দোলন দামেস্ক এলাকার মধ্যে সম্ভব। তবে এ জোট এখন পর্যন্ত জন্মলাভ পর্যায়ে এবং তার সামান্যই এখন আছে।
দোহা’র উপসাগর প্রতিবেশীদের প্রতিশোধ নেয়ার সময় এসেছে। ক্ষুদে কাতারকে একপাশে সরিয়ে দেয়া এক বৃহত্তর চিত্রের একটি অংশ। যা অধিক তাৎপর্যপুর্ণ তা হচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীনে সুন্নী আরব দেশগুলোর প্রকাশ্য জোটের পুনরুত্থান।
এই জোট তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফল হবে তা দেখার বিষয়। কিন্তু এ অঞ্চলের দুই কেন্দ্রীয় শক্তি জোটের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশী স্পষ্ট।



 

Show all comments
  • ১২ জুন, ২০১৭, ১০:৩৭ পিএম says : 0
    মুছলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায় আসুক|আরবের বাদশা .............................|ফিলিসতিনির পক্ষ না নিয়ে ইসরাইলের পক্ষ নেয়
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আরব

১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ