Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ০৪ কার্তিক ১৪২৪, ২৮ মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামিক স্টেট যে কারণে রাজধানী করা হল রাক্কাকে

রাক্কা-মসুলের পতনেও নিশ্চিহ্ন হবে না

| প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

দি কনভার্সেশন : তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিকট থেকে উত্তর সিরিয়া রাক্কা শহর পুনর্দখলের জন্য দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। আইএস যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হারাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে এবং তাদের কার্যত প্রধান কেন্দ্র যখন প্রচন্ড হামলার মুখে তখন প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এটাই কি আইএসের শেষ? দুঃখের বিষয়, এর জবাব একটি জোরালো ‘না’। এমবর্ধমান সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে আইএস নিজেকে ইরাক ও সিরিয়ায় এক দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের জন্য রূপান্তরিত করছে, একই সাথে বিশ^ব্যাপী পৌঁছনোর লক্ষ্যেও নিজেকে গড়ে তুলছে। সমস্যার গুরুত্ব মাপা যেতে পারে রাক্কার উপর হামলা দিয়ে যা কিনা চলমান, অন্যদিকে আইএস এখনো জোরালোভাবে মসুল আঁকড়ে ধরে আছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট তাদের সকল সম্পদ নিয়ে এখন উভয় যুদ্ধে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাক্কা পুনর্দখলের অভিযানে রণাঙ্গনে রয়েছে সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ) ও পিপলস প্রটেকশন্স ইউনিটের (ওয়াইপিজি) মিলিশিয়াদের সমম্বয়ে গঠিত আধা সামরিক বাহিনী এবং তাদের সাথে আছে বিভিন্ন পর্যায়ের সিরীয় অ-কুর্দি মিলিশিয়া। সবাই মার্কিন সমর্থিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সমর্থনের মাত্রা বেড়েছে। রয়টারসের খবরে বলা হয়েছে , বিরোধী বাহিনী ধীরে রাক্কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারা ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখছে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে রাক্কার অভ্যন্তরভাগের দিকে যোদ্ধাদের সতর্ক গতিবিধি, বিশেষ করে পদব্রজে, কারণ আইএস এসব এলাকায় শক্তিবৃদ্ধি করে সুরক্ষিত করে রেখেছে। জোটের বিমান হামলা ও আর্টিলারির গোলাবর্ষণের মধ্য দিয়ে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। আইএস বিরোধী বাহিনী ¯œাইপার ও মর্টার ফায়ারের মুখে পড়ছে। তবে শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হালকা।
এ যুদ্ধে জোট বাহিনীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন পরিষ্কার হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো বিমান হামলা পাশাপাশি এখন স্থল যুদ্ধেও ঘনিষ্ঠভাব জড়িত। এসব সৈন্যের অনেকেই স্পেশাল ফোর্সের সদস্য যারা নিজেদের তেমন প্রকাশ করতে চায় না, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে আবারো হাজার হাজার পশ্চিমা সেনার বুটের শব্দ ধ্বনিত হতে যাচ্ছে।
অভিযান চলমান
মার্কিন সৈন্যরা মসুল পুনর্দখলের অভিযানে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মিলিটারি টাইমস বিলম্বে হলেও জানায়, মসুল মুক্ত করার লড়াই এখন শহরের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীভূত। মার্কিন নেভি সিল সদস্যরা ইরাকি সন্ত্রাস দমন ইউনিটের লোকদের সাথে কালো পোশাক পরে মিশে গেছে । তারা আইএস যোদ্ধাদের খতম করতে রাস্তায় রাস্তায়, বাড়ি বাড়ি লড়াই করছে।
একই সূত্র জানায়, রাক্কায় এসডিএফের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সৈন্যরা সরাসরি যুদ্ধ করছে। ব্যাপক বিমান ও আর্টিলারি হামলার পাশাপাশি এর আংশিক কারণ হচ্ছে আইএস তাদের প্রধান ঘাঁটি রক্ষার লড়াইয়ে নিজেদের অনমনীয় বলে প্রমাণ করছে।
মসুলের চলমান লড়াই এর প্রধান উদাহরণ। ২০১৭ সালের মার্চে ধারণানুযায়ী অভিযান দ্বিতীয় দফায় গড়ালে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এর পর কী হতে পারেঃ গ্র্যান্ড মসজিদ হারানোর আশংকা কি আইএসের ধ্বংসের সূচনা অথবা নাকি এটা এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মোড় নেয়ার বিষয়? তিন মাস পরও এ শেষ চোখে পড়েনি। আইএস যোদ্ধারা এখনো মসুলের পুরনো শহরে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে আছে এবং বাইরের তিনটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। লড়াই চলাকালে তারা ইরাকি সেনাবহিনীর সন্ত্রাস দমন সার্ভিস বা সোনালি ডিভিশনকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বাগদাদ সরকার মসুলকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ বাহিনীর উপর বিশেষভাবে নির্ভর করেছিল। এ বছরে কিছু পরর দিকে আইএস খুব সম্ভবত রাক্কা ও মসুলকে হারাবে, কিন্তু তারা ইতোমধ্যেই দু’ দেশেই দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়েছে। সে সাথে তারা বিশে^র সর্বত্র পৌঁছনোর জন্য দ্রæত চেষ্টা চালাচ্ছে।
নতুন রণাঙ্গণ
২০১৬ সালেআফগানিস্তানে ৬ জন ার্কিন সৈন্য নিহত হয়। তারা নিহত হয় স্থানীয় আইএস শাখা ইসলামিক স্টেট অব খোরাসানের যোদ্ধাদের সাথে লড়াইয়ে, তালিবানের সাথে লড়াইয়ে নয়। এ গ্রæপটি কাবুলে আরো কয়েকটি বড় রকমের হামলার সাথে জড়িত। তারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক অবনতি ঘটিয়েছে। তবে সমস্যা আরো অনেক দূরে বিস্তার লাভ করেছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুর্তেতে মাদকের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ে এমন বেখেয়াল ছিলন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেরাউইর কাছে আইএস সংশ্লিষ্ট মট গ্রæপের উত্থান তিনি উপেক্ষা করেন। গ্রæপটি পরিণতিতে শহরটি দখল করে ও বিরামহীন সংঘর্ষের সূচনা করে যা তিন সপ্তাহ স্তায়ী হয়। সমস্যার ব্যাপকতা দেখে মার্কিন নজরদারি বিমান , ড্রোন ও স্পেশাল ফোর্স শহরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ফিলিপাইন সেনাবাহিনীকে এখন সহায়তা করছে। শুধু ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড নয়, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় আধা সামরিক বাহিনীর কর্মকান্ড বৃদ্ধির ফলে যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তার আংশিক কারণ হচ্ছে আইএসের প্রভাব বৃদ্ধি।
এদিকে আইএস ‘প্রায় শত্রæ’ যেমন ইরানের মত বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ‘সুদূর শত্রæ’ দেশগুলোতে হামলা করাকে উৎসাহিত, উদ্দীপ্ত এমনকি সাহায্য করতে তাদের চেষ্টা বৃদ্ধি করেছে। আইএস অতি সম্প্রতি ম্যানচেস্টার, লন্ডন ও ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। তারা তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইরাক ও সিরিয়ায় বহু দম্ভ করা খিলাফতই তাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়।
আইএস ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রæপগুলোর লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারো দ্বারা তাদের সামরিক দমনের চেষ্টয় কাজ হবে সে চিন্তা কল্পনামাত্র।
রাক্কাকে ইসলামিক স্টেটের কার্যত রাজধানী করার নেপথ্য কারণ
ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, মার্কিন সমর্থিত বাহিনী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শক্তঘাঁটি রাক্কার উপর তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাক্কা উত্তর সিরিয়ার এক তেল সমৃদ্ধ প্রাচীন শহর এবং ফোরাত নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। সেই হেলেনীয় আমল থেকেই রাক্কা ছিল সাসানিদ ও বাইজান্টাইন সা¤্রাজ্যের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চৌকি। ৭৯৬ ও ৮০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে, যা সাধারণভাবে ইসলামের সোনালি যুগ নামে আখ্যায়িত, আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদ তার রাজধানী বাগদাদ থেকে রাক্কায় স্থানান্তর করেন। ২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে রাক্কায় নানা ধরনের প্রায় ৩ লাখ বাস করত। এটি ছিল সিরিয়ার ষষ্ঠ বৃহৎ শহর। সুন্নী আরবরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্ত কুর্দি ও খ্রিস্টানদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। রাক্কার প্রধান ৪টি বিশিষ্ট সুন্নী গোত্রের নাম ছিল আল বায়াত্রা, আল-আজিল, আল ব্রিজ ও আল নাইম। তাদের লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার এবং ব্যাপক প্রভাব সম্পন্ন।
আইএস রাক্কা দখল করল কীভাবে
২০১১ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানকালে প্রধান সিরীয় শহরগুলো থেকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক সংখ্যায় রাক্কায় আসার কারণে শহরটি বিপ্লবের হোটেল নামে পরিচিতি লাভ করে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের এক মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেভিড পুলক ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, রাক্কা সিরিয়ার বিরোধীরা, বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র প্রদান করে এবং এক পর্যায়ে বিশেষ করে আইএসের জন্য অনুকূল স্থান হয়ে ওঠে, কারণ গোষ্ঠিগত কারণে সুন্নী আরবরা শিয়া আসাদের বিদ্বেষের শিকার হয়।
প্রথম বড় শহরের পতন
২০১৩ সালের মার্চে রাক্কা ফ্রি সিরিয়ান আর্মি ও আল কায়েদা সিরিয়া শাখা আল নুসরা ফ্রন্টের (বর্তমানে জাবহাত ফাতেহ আল শাম) হাতে পতিত হয়। এটাই ছিল প্রথম সিরিয়ার কোনো বড় শহরের পতন। শহরের আল নুসরা ফ্রন্টের বহু সদস্যই তখন ইসলামিক স্টেট অব ইরাকের (আইএসআই) নেতা আবু বকর আল বাগদাদির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং তাদেরকে সিরিয়ার আল কায়েদা নেতা আবু মোহাম্মদ আল জুলানির নেতৃত্বাধীন তাদের জিহাদি ভাইদের সাহায্যের জন্য রাক্কায় পাঠানো হয়। সময়ের ব্যবধানে আল বাগদাদির ঘনিষ্ঠ ইসলামী সশস্ত্র গ্রæপগুলোর অধিকতর উগ্রপন্থী গ্রæপগুলো রাক্কায় চলে আসে। আল নুসরা ফ্রন্ট ফ্রি সিরিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং শহরে শারিয়া আদালত চালু করে। এপ্রিল ২০০৩-এ আল বাগদাদি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল) গঠনের লক্ষ্যে আইএসআই ও আল নুসরাকে একীভূত করার ঘোষণা দেন এবং আল নুসরাকে ভেঙ্গে দিয়ে আইএসআইএলের সাথে যোগদানের নির্দেশ দেন। আল কায়েদা নেতাগণ আয়মান আল জাওয়াহিরি ও আল জুলানি একীভূতকরণ প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু ক্রমে আল নুসরার সদস্যরা আইএসআইএলের সাথে যোগ দেন।
২০১৪ সালের জানুযারিতে আইএসআইএল ও আল নুসরার সম্পর্কের অবনতি ঘটলে আইএসআইএল রাক্কার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি ও আল নুসরার সদস্যরা আইএসআইএলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করলে তাদের হত্যা করা হয় কিংবা তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
কেন কার্যত রাজধানী
২০১৪ সালের জুনে আইএসআইএল ইসলামিক স্টেট (আই এস) নামে তার পুনঃনামকরণ করে এবং রাক্কাকে স্বঘোষিত খিলাফতের রাজধানী হিসেবে মনোনীত করে। আইএস নেতা বাগদাদি তার শাসনামলকে আব্বাসীয় খিলাফতের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে গণ্য করতে থাকেন। সিরিয়ার হাসাকাহ প্রদেশের এক মানবাধিকার কর্মী মুস্তাফা আবদি ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, আল বাগদাদি যখন তার খিলাফতের ঘোষণা দেন তখন তিনি আব্বাসীয় খলিফাদের মতই পোশাক পরেছিলেন। তার পরনে ছিল কালো পোশাক যা আব্বাসীয় খলিফাদের আঞ্চলিক রং ছিল।
আবদির মতে, রাক্কাকে আইএসের রাজধানী ঘোষণা করে বাগদাদি মুসলমানদের বলতে চেয়েছিলেন যে তিনি ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী আব্বাসীয় শাসক হারুন আল- রশিদের পদাংক অনুসরণ করছেন।
ইরাক সীমান্তের কাছে রাক্কার অবস্থান এবং ইরাকি গোত্রগুলোর সাথে তাদের জোরালো সম্পর্ক আইএসকে রাক্কায় থেকে সীমান্তে মুক্তভাবে তৎপরতা চালাতে এবং যুদ্ধের প্রয়োজনে দু’দেশের মধ্যে আগুপিছু চলাফেরার সুযোগ প্রদান করে। সিরিয়ায় পিপলস প্রটেকশন্স ফোর্স নামে পরিচিত বাহিনীর এক কমান্ডার জাগ্রোস কামিশলো ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, রাক্কার আধা মরুময় ভূপ্রকৃতি আইএসকে কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই এক বিশাল এলাকায় চলাফেরা করা সম্ভব করেছে। এ মহিলা কমান্ডার বলেন, মার্কিন সমর্থিত সিরীয় বাহিনী রাক্কার প্রধান মহাসড়কগুলো নিয়ন্ত্রণ করায় আইএস তাদের চলাফেরার জন্য অপ্রচলিত পথগুলো বেছে নিয়েছে।
রাক্কা কীভাবে শাসন করা হত
আইএসের তিন বছরেরও বেশী সময়ের শাসনে রাক্কা আইএস-এ যোগদানেচ্ছু হাজার হাজার বিদেশী যোদ্ধার মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়।
বিদেশের মানবাধিকার কর্মী যারা রাক্কাকে মনিটর করেন তাদের মতে, আইএস রাক্কাকে এক বিরাট বন্দীশালায় রূপান্তরিত করে। তারা শহরবাসীদের পুরনো জীবনধারার বিলোপ ঘটায় এবং অধিবাসীদের শারিয়া আইন পালনে বাধ্য করে। যারা শারিয়া পালন করতে অসম্মতি জানায় তাদের হত্যা করা হয় বা তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। নিজ শহর থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রবাসী একদল কর্মী ‘রাক্কা নীরবে জবাই হচ্ছে’ শিরোনামে একটি ফেসবুক পেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাক্কায় অবস্থান করা সংবাদদাতাদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইএস জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দালিকিকরণ করেন।
রাক্কায় আইএসের কতজন আছে
মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাব মতে রাক্কায় এখনো আইএসের ৩ থেকে ৪ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। তারা বিমান সমর্থন দেয়ার সাথে আশা করছেন যে মার্কিন সমর্থিত এসডিএফ শহরের দিকে তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে। মার্কিন সেনা কর্নেল রায়ান ডিলন গত সপ্তাহে বলেন, রাক্কা মুক্ত করা গেলে শত্রæর জন্য তা এক মারাত্মক আঘাত হবে। সে সাথে এ অঞ্চলে তাদের চলাচলের সামর্থ বিঘিœত এবং সন্ত্রাসের আরো বিস্তার ও নিরীহ বেসামরিক লোকদের হত্যার ক্ষমতা লোপ পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএস বিতাড়িত হওয়ার পরও অনেকদিন রাক্কা অস্থিতিশীল থাকবে। তারা বলেন, শহরের জটিল জনবিন্যাস এবং প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থান স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রভাব বিস্তারের জন্য আকৃষ্ট করবে তা সিরিয়ার অন্যান্য স্থানে যাই ঘটুক না কেন। ওয়াশিংটনে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউশনে বিশ্লেষক ইবরাহিম আল-আসিল বলেন, রাক্কা পুনর্দখলের যুদ্ধ খুব কঠিন হবে এবং শহরে নিরাত্তা ও শাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার আরো কঠিন হবে।
তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটকে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে সিরিয়া সরকার আইএসকে ঠেকাতে ও অন্যান্য সুন্নী গ্রæপকে শহরের গোত্রগুলোকে ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে না দেয়ার জন্য রাক্কাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এ শহর এখানকার লোকদের দ্বারাই শাসিত হওয়া উচিত , আর তাই হচ্ছে শহরকে স্থিতিশীল করা, নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতে আইএস যাতে আর ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম পথ।

 

 

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর