Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের ট্রেন্ডার ড্রপ পরিচালক ও ডিসির নির্দেশ উপেক্ষিত

অর্থের বিনিময়ে ত্রিশালে আশ্রয় কেন্দ্রে

| প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা ও ত্রিশাল উপজেলা সংবাদদাতা : সমাজ সেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ত্রিশালে ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য আনুশাঙ্গিক মালামাল সরবরাহের ট্রেন্ডার ড্রপে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামে বিরুদ্ধে। অথচ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম কেন্দ্রীয় অধিদপ্তরের পরিচাল জুলফিকার হাইদার ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশসকের নির্দেশকে উপেক্ষা করে সরকারকে ফাঁকি প্রায় ৩লাখ টাকা বাগিয়ে নেয়ার গুরতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায় ত্রিশালে ধলা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য, আনুশাঙ্গিক মালামাল সরবরাহের প্রায় কোটি টাকার ট্রেন্ডার ড্রপের তারিখ ছিল গত ১১জুন ২০১৭। অভিযোগ উঠেছে উক্ত ট্রেন্ডারে ময়মনসিংহ জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামের যোগসাজশে কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও ট্রেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, ত্রিশালে ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের সাবেক ঠিকাদার মোঃ সিরাজুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক জুলফিকার হাইদার গত ২ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কালো তালিকাভুক্ত করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় তৎকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত ২/১/১৭ ইং তারিখে কেন্দ্রের পুরাতন মালামাল উক্ত কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার অগোচরে বিক্রি করায় সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকমিটির ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রাজু আহমেদ, সদর সমাজসেবা অফিসার মোঃ এহসানুল হক, গফরগাঁও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নজরুল ইসলাম সারনিক এর যৌথভাবে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে সরেজমিনে ১৭/১/১৭ ইং তারিখে তদন্ত করেন। তদন্তে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম বা পরিবারের সত্বাধিকারে কোন ব্যক্তি বা তাদের প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে কোন দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালকের চিঠির প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারি কমিশনার মোঃ আল-আমীন গত ৫/৪/১৭ ইং তারিখে ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যলয়ের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি প্রেরণ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, এর পরেও ময়মনসিংহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ৩লাখ টাকার বিনিময়ে কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম তার মেয়ের জামাই আব্দুর রশিদ বাদল ও বোনের জামাই ক্বারী সিরাজুল ইসলামের কাছে অনিয়ম ত্রান্ত্রিকভাবে দরপত্র বিক্রি করেন। কালো তালিকাভুক্ত থাকা সত্বেও সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন ট্রেন্ডারে অংশ নেন।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১১ জুন ৪জন ট্রেন্ডার ড্রপ করেছে তবে তাদের নাম প্রকাশে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন। কালো তালিকা ভুক্ত ঠিকাদারদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, সিরাজুল ইসলাম বা তার পরিবারের কাউকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সে ব্যাপারে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়াও আগে যারা তদন্ত করেছে সেই তদন্তের কমিটির পরে পুনরায় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত কমিটির রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত এবিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা।
প্রকৃতপক্ষে উপ-পরিচালক কালো তালিকাভূক্ত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এবং অপরদিকে দ্বিতীয় পক্ষ অন্য ঠিকাদারকেও প্রলোভন দেখিয়ে হাতে রেখেছেন। স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি টেন্ডার বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিধায় গোয়েন্দা নজরদারী করার গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।