Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র, ১৪২৪, ২৮ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

দেশের বিভিন্নস্থানে বজ্রপাতে নিহত ২৪ আহত ১০

| প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ২৪ জন ও আহত হয়েছে ১০ জন। এ সংক্রান্ত আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন-
ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা জানান,  ফরিদপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলেসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সালথা উপজেলায় মা-ছেলে সহ তিন জন, সদর ও চরভদ্রাসন উপজেলায় দুই দিন মজুরের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে তিনজন। এর আগে রোববার বিকালে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়। দুই দিনে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ১০ জনে। সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ ফায়েকুজ্জামান জানান, সোমবার সকালে বজ্রপাতে সালথা উপজেলার ভাবুকদিয়া গ্রামের গৃহবধু হেলেনা বেগম ও তার শিশুপুত্র হেলাল মারা যায়। এছাড়া মোঃ মিলন নামে আরো একজন মাঠে কাজ করার সময় নিহত হয়।  
এদিকে চরভদ্রাসনের ছমির ব্যাপারীর ডাঙ্গী এলাকায় একটি জমিতে তিনজন দিনমজুর কাজ করছিল। এসময় বজ্রপাত হলে কাবুল নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। কাবুলের (৪৫) বাড়ী কুষ্টিয়া জেলায়। এঘটনায় অপর দুই দিনমজুর আহত হয়। অপরদিকে কবিরপুরে খেয়াঘাট এলাকায় বজ্রপাতে মোঃ ওমর আলী (৪৫) নামে এক দিনমজুরের মুত্যু হয়েছে। তার বাড়ী নাটোর জেলায়। এসময় আরেক দিনমজুর আহত হয়েছে। এর আগে রোববার বিকালে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনেএকই পরিবারের তিনজন সহ মোট পাঁচজন বজ্রপাতে  নিহত হয়।
ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় দুই দিনে বজ্রপাতে ৫ জনে মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে রোববার  সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (৩৩ ঘন্টা) ঝিনাইদহ সদর, হিরণাকুন্ডু ও শৈলকুপা উপজেলার বজ্রপাতে এ সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার রাধানগর গ্রামে নিজ বাড়ীর গোয়াল ঘরে কাজ করছিলেন বুলু বিশ্বাস (৫০)। এ সময় ছেড়া তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। বুলু বিশ্বাস ওই গ্রামের ছানার উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভুটিয়ারগাতি গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন মাঠে বিদ্যুৎ চালিত মোটরের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে সেখানেই মারা যান। সুজন হোসেন ভুটিয়ারগাতি গ্রামের রজব আলী মন্ডলের ছেলে। একই সময় হুদাপুটিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বাড়ীতে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। আবুল কাশেম হুদাপুটিয়া গ্রামের আমোদ আলীর ছেলে। এদিকে রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা হলিধানী ইউনিয়নের বেড়াদী গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে তুহিন হোসেন (১৬) ও শৈলকুপা উপজেলা মির্জাপুর গ্রামের সিতাব উদ্দিন মন্ডলের ছেলে বশির উদ্দিন মন্ডল (৪৫) বজ্রপাতে মৃত্যু বরণ করেন। হলিধানি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় তুহিন সাগান্না বাওড়ে গোসল করতে যায়। এসময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। অন্যদিকে শৈলকুপা উপজেলা মির্জাপুর গ্রামে কৃষি ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে বশির উদ্দিন মন্ডল নামে এক কৃষক নিহত হন।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বজ্রপাত ঘটে বাদশা (১৮) নামে তরুন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৩ জন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাতলা ঠাকুরপাড়া গ্রামে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোনাতলা ঠাকুরপাড়া গ্রামের মাঠের মধ্যে একদল তরুন ঘাষ কাটার সময় মুষলধারে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘটে। এ সময় বজ্রপাতে বাদশা ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং আহত হয় তার ভাই রাজা (১৬) সহ ৩ জন। আহতদের মধ্যে মুমুর্ষ অবস্থায় রাজাকে উদ্ধার করে মহিষকুন্ডি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পরে মাঠের লোকজন নিহত বাদশার লাশ উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত বাদশা ও আহত রাজা ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
মাগুরা জেলা সংবাদদাতা জানান, মাগুরা সদর উপজেলার নালিয়ারডাঙ্গী ও মঘি গ্রামে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছে। গত রোববার দুপুর সাড়ে  ১২টার দিকে হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘটলে নালিয়ারডাঙ্গী গ্রামের আছাদ শেখ ৫০ নিহত হয়। সে ওহেদ শেখের ছেলে।  মাঠে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। অপরদিকে একই উপজেলার মঘি গ্রামের মাঠে কাজ করার সময় কলমদি ৫২ নামে কৃষক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। নিহত কলমদি নিতু জোয়ারদারের ছেলে।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দেবখন্ডা গ্রামে বজ্রপাতে রুমা বানু (২৩) নামের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান এ প্রতিনিধিকে জানান, বিকেলে হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টিপাত ও মেঘের গর্জন শুরু হয়। উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের দেবখন্ডা গ্রামের নুরুজ্জামানের স্ত্রী রুমা গরু নিয়ে আসার জন্য বাড়ীর পার্শ্বে মাঠে যাবার চেষ্টা করে। এ সময় বজ্রপাত হলে তার মৃত্যু হয়।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাত এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামের মৃত নন্দর সেখের স্ত্রী শরমালা খাতুন (৬৫) রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির ভিতর আঙ্গিনায় ইফতারির রান্না করতে ছিল। এমন সময় বজ্রপাত ঘটলে তিনি আহত হন। এ সময় দ্রæত ডাক্তার ডেকে আনা হলে তিনি বৃদ্ধাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান,  ফরিদুপরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে গতকাল সোমবার বজ্রপাতের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওইদিন দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে বাজিতপুর মোল্যাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আওয়াল ফকির (৪৮) গরু আনার জন্য দূর্গাপুর মাঠে গেলে বজ্রপাতে মাঠেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার গরুটিও মারা যায়। একই গ্রামের উত্তরপাড়া ফরহাদ মোল্যা (৩৫) গোয়াল ঘরের ভিতর দাড়িয়ে ছিল। গোয়াল ঘরের ওপর বজ্রপাতের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রোববার বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে নিহত সাইদুর রহমানের বাড়ি উপজেলার বড়তলা গ্রামে। তিনি ওই দিন দুপুরে হাওর থেকে গুরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন। বজ্রপাতে তার সাথে থাকা গাভীটাও মারা যায়।
আরিচা সংবাদদাতা জানান, শিবালয়ে বজ্রপাতে রুহুল আমিন নামের এক শিশুর মৃর্ত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় খেলা করার সময় বজ্রপাতে তার মৃর্ত্যু হয়।
জানা গেছে, জেলার শিবালয় উপজেলার  নালী বড়রিয়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের পুত্র রহুল আমিন।  গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সময় সে বাড়ির ওঠানে খেলা করতেছিল। এসময় হঠাৎ করে তার ওপর বজ্রপাত ঘটলে ঘটনা স্থলেই তার মৃর্ত্যু হয়।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।