Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মালয়েশিয়ার কথা বলে পাচারনর সিংদীর ২ যুবকের সন্ধান মিলেনি দুই বছরেও

প্রকাশের সময় : ৮ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে : দীর্ঘ দুই বছরাধিককাল ধরে নিরুদ্দেশ হয়ে রয়েছে কাউছার ও গোলাপ মিয়া নামে নরসিংদীর রায়পুরার দুই যুবক। সংঘবদ্ধ দালালচক্র মালয়েশিয়ায় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নেয়ার পর তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় আছে, কিভাবে আছে জানার জন্য দুই যুবকের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাউছারের সন্ধানে তার মা দেলোয়ারা বেগম, স্ত্রী তানিয়া ও একমাত্র শিশু কন্যা মারিয়া তাবাস্সুম জুঁই নরসিংদী প্রেসক্লাবে গিয়ে তাদের কাউছার ও গোলাপ মিয়াকে প্ররোচণা দিয়ে বিদেশে পাচারের কাহিনী বিবৃত করেছেন।
তারা জানিয়েছে, রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর গ্রামের হানিফ মিয়ার পুত্র কাউছার মিয়া ও সাত্তার মিয়ার পুত্র গোলাপ মিয়া দেশে থাকাকালীন সিএনজি চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করতো। দুই বছর পূর্বে একই গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র দালাল হানিফ তাদেরকে মালয়েশিয়ায় যাবার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাতে থাকে। তাকে দালাল হিসেবে নিয়োগ করে বেদন মিয়া নামে একই গ্রামের আরেক মালয়েশিয়া প্রবাসী।
দালালের খপ্পরে পড়ে ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারী কাউছার মিয়া ও গোলাপ মিয়া বাড়ী থেকে মালয়েশিয়া যাবার কথা বলে বেরিয়ে যায়। এরপর ১২ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টায় সে একটি মোবাইল ফোনে স্ত্রী তানিয়া, পিতা হানিফ, মাতা দেলোয়ারা বেগম ও তার শিশুকন্যা জুঁই’র সাথে শেষ বারের মত কথা বলে। সে জানায় সেদিন রাতেই সে জাহাজে উঠবে। ৪/৫দিন পর দালাল হানিফ তাদের বাসায় গিয়ে কাউছারের পিতার নিকট ৩ লাখ টাকা দাবী করে। সে জানায় যে, কাউছার মালয়েশিয়ায় পৌঁছে গেছে। ৩ লাখ টাকা দিলে সে চাকরিতে যোগদান করতে পারবে। এরপর দালালরা জনৈক দালালকে নকল কাউছার বানিয়ে তার পিতার কাছে ফোনে কথা বলায়।
কথা বলার সময় কাউছার পরিচয়দানকারী দালাল হানিফের নিকট টাকা দিয়ে দিতে কাউছারের পিতাকে অনুরোধ করে। কিন্তু কাউছারের ফোনের কাউছারের কণ্ঠ আর পুত্র কাউছারের কণ্ঠের সাথে মিল না পেয়ে পিতা হানিফের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। সে তাৎক্ষণিকভাবে বুদ্ধি করে ফোনের কাউছারকে পারিবারিক কয়েকটি প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেয়। এতে কাউছারের পিতার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি দালাল চক্রের একটি কারসাজি। পিতা হানিফ তাৎক্ষণিকভাবে দালাল হানিফকে আটক করে প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়।
সে জানায় যে, হাসনাবাদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র মালয়েশিয়া প্রবাসী বেদন মিয়ার সাথে চট্টগ্রাম ও রায়পুরা অঞ্চলের এক বিশাল দালাল চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। তাদেরই নির্দেশে সে কাউছার ও গোলাপ মিয়াকে মালয়েশিয়া যাবার জন্য পটিয়ে দালালদের হাতে তুলে দিয়েছে।
এর পর থেকে কাউছার ও গোলাপ মিয়ার আত্মীয়-স্বজনরা তাদের সন্ধানে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কাউছার মিয়ার মা দেলোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তার স্ত্রী তানিয়া তার একমাত্র শিশুকন্যা জুঁইকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে স্বামীর সন্ধান করে ফিরছে। তানিয়া তার স্বামী কাউছারকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।