Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ইসলামে নারীর মর্যাদা

| প্রকাশের সময় : ২৪ জুন, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ড. এম শমশের আলী : ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে নানা রকম বিভ্রান্তি আছে। এই বিভ্রান্তির কারণ হলো এই যে, আমরা কোরআন-হাদিস ভালো করে পড়ি না বা পড়লেও মেয়েদের সম্পর্কে যে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে তা করি না। ইসলামে নারীকে যে সুমহান মর্যাদা দেয়া হয়েছে তা পশ্চিমের মেয়েদের ভাগ্যে একশ’ বছর আগেও জোটেনি। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ইউরোপের কয়েকটি দেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মেয়েরা ব্যাংক চেক সই করতে পারত না। ঘোড়ায় চড়লে সাইড-স্যাডলার হিসেবে বসতে হতো। ইংল্যান্ড সম্পর্কে পর্যটকদের লেখা পড়লে জানা যায় যে, একশ’ বছর আগেও মেয়েদের আসবাবপত্রের সাথে তুলনা করা হতো। এ প্রসঙ্গে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পৃষ্ঠপোষক প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিলে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি বললেন, ‘আমাদের নানী-দাদীরা যে সময় নানা রকম বিধিনিষেধের মধ্যে আবদ্ধ, তারও অনেক আগে ইসলামে মেয়েদের অধিকার ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।’ জন্মের পর একজন ছেলেকে ইসলামে যেভাবে খাদ্য, পোশাক-আশাক, শিক্ষা ও আদব-কায়দা দিয়ে বড় করতে বলা হয়েছে তা ছেলের বেলাতেও যেমন প্রযোজ্য, মেয়ের বেলাতেও ঠিক একই রকম প্রযোজ্য। একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী করিম (দ:) একজন সাহাবীকে বলেছিলেন কারো যদি তিনটি মেয়ে থাকে এবং সে যদি তাদেরকে ভালোভাবে বড় করতে পারে, তাহলে সে বেহেশতে যাবে। একথা শুনে একজন সাহাবী বললেন, আমার তো দু’টি মেয়ে আছে। আমি যদি তাদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারি তাহলে কি আমি বেহেশতে যাব? রাসূল বলেছিলেন, হ্যাঁ। আরেকজন সাহাবী বলেছিলেন যদি কারো একটি মেয়ে থাকে এবং তাকে তার বাবা ভালোভাবে মানুষ করে, তবে সেই বাবা কি বেহেশত পাবে? নবী করিম (দ:) জবাব দিলেন, হ্যাঁ, সেও বেহেশত পাবে।
সন্তান লালন-পালনে মেয়েরা যেমন ত্যাগ স্বীকার করে তার মূল্যায়ন ইসলামে যেমন হয়েছে, অন্য ধর্মে তেমনটি দেখা যায় না। সন্তান প্রসব করা যেমন একটি অতি সাধারণ ব্যাপার কিন্তু তবুও পবিত্র কোরআনে সন্তানদের চিন্তা করতে বলা হয়েছে যে, তাদের মা গর্ভাবস্থায় কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করেছেন এবং তাদের পরিচর্যা করেছেন। সেজন্য সন্তানদেরও বলা হয়েছে মা-বাবার ওপর রহমত বর্ষণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার জন্য। প্রার্থনাটাও কোরআনে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে : রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানী সাগীরা। অর্থাৎ হে আমার প্রভু, আমার মাতা-পিতা ছোটবেলায় আমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করো।
ইসলামে মেয়েদের যে আরো কত সম্মানজনক অবস্থান দেয়া হয়েছে তা রাসূলের কথার ভেতরেও ফুটে ওঠে। তিনি বলেছেন, মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেশত। সন্তানদের মায়ের কথা শুনে চলার জন্য এর থেকে বড় উৎসাহমূলক কথা আর কি হতে পারে? রাসূলের বিদায়হজের বাণী আমরা ঘরে টানিয়ে রাখি। কিন্তু একবারও কি ওই বাণীতে মেয়েদের প্রতি যে আচরণ করতে বলা হয়েছে তা আমরা করে থাকি?
ইসলাম ধর্মের সঙ্গে নারীর সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, রাসূলের প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার পর প্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি ছিলেন একজন নারী (বিবি খাদিজা রা:)। ইসলামের জন্য প্রথম শহীদ হন একজন মহিলা। আজকে আমরা ইসলামের প্রচারের কথা বলি। কিন্তু এই প্রচারে, বিশেষ করে হাদিস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে পবিত্র রমণীর অবদান অনস্বীকার্য তিনি হচ্ছেন বিবি আয়েশা (রা:)। আমরা যদি ইসলামের পবিত্র অনুষ্ঠান হজের দিকে তাকাই তাহলেও দেখব যে হজের যে রিচুয়ালস বা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশের উৎসে রয়েছেন মহিলারা। হজে যখন মুসলমানেরা সাফা এবং মারওয়ার মধ্যে যাতায়াত করেন, তখন দুপ্রস্থ সবুজ বাতির ভেতরের জায়গাটি একটু জোরে অতিক্রম করার সময কারো কি মনে হয় না যে, এই কাজটি একটি নারীর স্মরণে করা হচ্ছে? সেই মহিমান্বিত নারীটি হচ্ছেন বিবি হাজেরা (রা:)। তিনি যখন সন্তানকে রেখে পানির সন্ধান করছিলেন তখন উল্লেখিত অংশে গিয়ে তিনি সন্তানকে আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাই তিনি জোরে হাঁটছিলেন সন্তান কোনো জন্তু দ্বারা আক্রান্ত হলো কি না এই দুশ্চিন্তায়। তারপর হজের অনুষ্ঠান শেষে যখন যমযমের পানি খাওয়া হয় তখন কি কারো মনে পড়ে না যে, পানির এই উৎসের জন্য একজন রমণী বিবি হাজেরা (রা:) কি করুণ আকুতি করেছিলেন ¯্রষ্টার কাছে। তারপর পানি যখন উঠল তখন তিনি বলতে বাধ্য হলেন যে যম, যম। অর্থাৎ থাম, থাম। এই সুশীতল পানি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমরা পান করে চলেছি এবং এই পানিকে মুসলমানেরা অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য করেন। কিন্তু এই পবিত্র পানির উৎসে যেই পবিত্র রমণী রয়েছেন তার কথা আমরা ক’জন মনে রাখি? হজে মহিলাদের সংশ্লিষ্টতা আরো ব্যাপক।
কিছুদিন ধরেই আমরা যে ইভটিজিংয়ের কথা শুনে আসছি তা বাস্তবিকভাবেই সভ্যতা বিবর্জিত এবং মেয়েদের চলাচলে অনেক বিঘœ ঘটিয়ে থাকে। অনেকেই মনে করে থাকেন যে, পর্দা মেয়েদের কাজকর্মের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কথাটি সত্য নয়। আমি এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। ১৯৮০-এর দশকে আমার একবার ইরান যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল। একজন তরুণ পিএইচডি শিক্ষার্থী আমার গাইড হিসেবে কাজ করছিলেন। আমি এক সময় কথা বলতে বলতে বলে ফেললাম, বিবিসিতে যা শুনছি তাতে তো মনে হয় তোমরা তোমাদের মেয়েদেরকে একেবারে অন্দরমহলে পাঠিয়ে দিচ্ছ; এটা কি ঠিক হচ্ছে? একথা শোনামাত্রই ওই তরুণ ভদ্রলোক আমাকে হাত ধরে টানতে টানতে একটি বড় রাস্তায় নিয়ে গেলেন। আমার হঠাৎ মনে হলো আমি বোধহয় কোনো ভুল কথা বলে ফেলেছি। তিনি আমাকে বললেন যে, রাস্তার দিকে তাকাও এবং দেখো যে কারা গাড়ি চালাচ্ছে। আমি দেখলাম, চার-পাঁচজন পুরুষ এর পরে একজন মহিলা গাড়ি চালাচ্ছে। তিনি আবার বললেন, তুমি যে হোটেলে অবস্থান করছ, সেখানে মেয়েরা কিন্তু চাকরি করছে। আবার তুমি যদি আজ বিকেলে শপিংয়ে যাও তাহলে সেখানেও দেখবে মেয়েরা দোকানে কাজকর্ম করছে। কাজ করছে অফিস-আদালতেও। শুধু তফাৎ হলো এই যে, তারা হিজাব পরিধান করে করছে। কথা হলো এই যে, এই হিজাব তাদের কোনো কাজেই কোনো অন্তরায় হয়ে দেখা দিচ্ছে না। এরপর এ প্রসঙ্গে আমি আর কোনো কথা বলতে পারিনি। কারণ আমাদের দেশেও আমি দেখেছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি হাইকোর্টেও অনেক মেয়ে হিজাব পরিধান করে কাজকর্ম করে। তাতে তাদের কাজে কোনো বিঘœ ঘটেছে বলে মনে হয় না। এসব মেয়ে যখন অক্সফোর্ড অ্যাকসেন্টে কথা বলে এবং যখন যুক্তি-তর্ক দিয়ে পরিশীলিতভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করে, তখন তেমনে হয় না যে হিজাব কর্মের একটি অন্তরায়। অন্যদিকে আমাদের দেশে যারা পশ্চিমা পোশাক পরার অনুকরণ করতে চাইছেন, তাদের অনেকেই কিন্তু কর্মক্ষেত্রে হিজান পরিধানকারীদের চেয়ে কম সফিসটিকেটেড হতে পারেন। সুতরাং আসল কথা হলো, কর্ম সম্পাদন ও মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে কে বেশি অগ্রসর সেটাই বড় কথা। হিজাব নিজ ইচ্ছায় যদি কেউ পরিধান করেন এবং তাকে যদি তার কাজের অন্তরায় মনে না করেন, তাহলে অন্যের মনে কষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, দেহের যে অংশ স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়, তা কিন্তু ঢাকতে বলা হয়নি। অর্থাৎ, মেয়েদেরকে অসূর্যমপশ্যা করে রাখতে বলা হয়নি। এখানে উল্লেখ করতে হয় রবীন্দ্রনাথের কথা। তার বই থেকে জানা যায় যে, ইংরেজ আমলে উঁচুবর্ণের মেয়েরা যখন লম্বা ঘোমটা দিয়ে (সেই ঘোমটার মাঝে লুকায়িত মুখটি কেউই দেখতে পেত না) ঘোড়ার গাড়ি চেপে দরজা জানালা বন্ধ করে গঙ্গা¯œান করতে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে পালকিতে চেপে বন্ধ অবস্থায় যখন পান্ডারা ওই পালকিকে জলে নামান এবং ওঠান তখন শাব্দিক অর্থে গঙ্গা¯œান হয় বটে কিন্তু জলের সঙ্গে দেহের কোনো সংযোগ ঘটে না। আগেই বলেছি পর্দা মানে অসূর্যমস্পশ্যা হওয়া নয়। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে মাদার তেরেসার কথা। তিনি সবসময় ফুলহাতা বøাউজ পরতেন, পেটিকোট পরতেন, আর শাড়ি পরে ঘোমটা পরা অবস্থায় দুস্থ মানুষের সেবা করতেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার মতো পর্দানশীন মেয়ে আর দেখিনি। কই, পর্দা তো তাঁর কাজে কোনো বিঘœ ঘটায়নি! লন্ডনের রাস্তায় কোনো নান যখন কালো পোশাক পরিধান করে গ্রীবা এবং বক্ষ ঢেকে চলাচল করেন, তখন টিপিকাল ইংরেজরা মাথার টুপি নামিয়ে, হাঁটুটা একটু বাঁকিয়ে তাকে গ্রীট বা অভিবাদন করেন। অথচ যদি কেউ স্বেচ্ছায় হিজাব পরিধান করে, তবে তার প্রতি অন্য দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে কেন? যদি এটা তার জ্ঞানার্জন, সেবা বা উন্নয়নমূলক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াত তবে অন্য কথা ছিল। তবে একথাও ঠিক যে, যিনি হিজাব পরিধান করেন তিনি যেন কোনো অবস্থাতেই অহঙ্কার বোধ না করেন এবং যারা হিজাব করেন না তাদেরকে ছোট করে না দেখেন। এতক্ষণ যে আলোচনা করা হয়েছে তা থেকে এ কথাটিই ফুটে ওঠে যে, ইসলামে মেয়েদেরকে যে শালীনতার সাথে চলতে বলা হয়েছে তা তাদের সম্মানকেই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে।
উত্তরাধিকার আইনে চলে আসি। উত্তরাধিকার প্রশ্নটি সাধারণত আসে বিয়ের অনেক পরে, মাতাপিতার মৃত্যুর পরে। সাধারণত আমরা লক্ষ করি যে, মাতাপিতা মেয়ের বিয়ের পর নানা-নানী হন, তাদের সঙ্গে খেলা করেন এবং একটি পরিণত বয়সে ইন্তেকাল করেন। তখনই উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি আসে। কিন্তু মোহরানার প্রশ্নটি আসে বিয়ের সাথে সাথেই। আমি একবার মহিলা সমিতির একটি মিটিংয়ে, যেখানে অনেক সুশিক্ষিতা নারী ছিলেন, সেখানে একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম যে আপনাদের পরিবারে বিয়েশাদী হলে আজকের বাজারে মোহরানার অংকটি কেমন হবে? তারা অনেক আলোচনা করার পর বললেন, কমপক্ষে পাঁচ-ছয় লাখ তো হবেই। কেউ কেউ দশ লাখের প্রতিও ইঙ্গিত করলেন। আমি বললাম যে ঠিক আছে, আমরা ছয় লাখই ধরলাম। এই টাকাটি কিন্তু মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেয়ার কথা। এখানে কোনোরকম ফাঁকিবাজির ¯েকাপ নেই। কোনো মৌলভী সাহেব বা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার যদি বলেন আমি টাকা দেখতে পাচ্ছি না সুতরাং বিয়ে পড়ানো যাবে না, তাহলে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে চড়ানো যাবে না। তাহলে ধরা হলো যে মেয়েটি বিয়ের সময় ছয় লাখ টাকা পেলেন এবং লাভজনক কোনো জায়গায় টাকাটি খাটিয়ে ‘ছয় বছরে টাকা হবে দ্বিগুণ’ এমন একটি ব্যবস্থা করলেন। আমি ওই বিশিষ্ট মহিলাদেরকে আরেকটি প্রশ্ন করেছিলাম। তা হলো এই যে, আপনাদের স্বামীরা যদি হালাল রিজিক উপার্জন করেন এবং আপনাদেরকে সেই টাকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করিয়ে থাকেন এবং আপনারা যদি দুই ভাই দুই বোন হন, তাহলে কি মৃত্যুর সময় আপনাদের স্বামীরা খুব একটা বেশি টাকা কি জমিয়ে যেতে পারেন? তারা বললেন, না। আমি তখন বললাম যে ধরে নেই এক কোটি টাকা আছে। এখন বিয়ের ২৫ বছর পর যদি বাবার মৃত্যু ঘটে, তখন ওই এক কোটি টাকা দুই ভাই দুই বোনের ভেতর বিতরণ হলে প্রত্যেক ভাই পাবে ৩২ লাখ-এর কিছু ঊর্ধ্বে। আর বোনেরা পাবে ১৬ লাখের কিছু ওপরে। যদি ‘ঠকা’র কথা আসলেই বলতে হয়, তাহলে বোন ১৬ লাখ টাকা কম পেল ঠিকই। কিন্তু বিয়ের শুরুতে সে যে ৬ লাখ পেয়েছিল সেটা ২৪ বছর পরে কমবেশি ৯৬ লাখ হয়ে গেছে। এই ৯৬ লাখ তো কম পাওয়া ১৬ লাখের ৬ গুণ। তাহলে এখানে তো মনে হচ্ছে ¯্রষ্টা বোধহয় মেয়েদের প্রতি কোনো অবিচারই করেননি। অবিচার করছি আমরা। আমরা মোহরানাটি ঠিকমতো দিচ্ছি না। পুলিশ একাডেমিতে একবার আমি পুলিশ অফিসারদের সাথে কথা বলছিলাম। কথা প্রসঙ্গে এই মোহরানার কথা এলো। ২০ জন পুলিশ অফিসারের ভেতরে এক-দু’জন ছাড়া বাকিরা সবাই বললেন যে তারা মোহরানা আদায় করেননি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে তাহলে আপনাদের বিয়েটা হলো কিভাবে? এই প্রশ্নে সবাই মুখ নিচু করলেন।
এ অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই করতে হবে। মেয়েদের যা প্রাপ্য তা যদি আমরা ঠিকভাবে আদায় করি এবং তাদের প্রতি ভালোভাবে ব্যবহার করি, তাহলে বলাই যায় যে, আল্লাহ তায়ালা গণিতশাস্ত্রের সঠিক প্রয়োগই আমাদের জীবনে ঘটিয়েছেন; মেয়েদের প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচার করেননি। অনেকে মনে করতে পারেন যে, একজন নিতান্ত দরিদ্র ব্যক্তি যখন বিয়ে করবে তখন তার মোহরানা কত টাকা হবে? এক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে যে বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি এবং এই চুক্তিতে যার যেমনটা সামর্থ্য তেমনটিই মোহরানা দেবে। এই পরিবারে উত্তরাধিকার হতে পারে থালাবাসন নিয়ে, জমিজমা-টাকাপয়সা নিয়ে নয়। সুতরাং আসল কথা হচ্ছে এ ধরনের সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনই হবে প্রধান লক্ষ্যবস্তু এবং মানুষ যখন দারিদ্র্যসীমার ওপরে গিয়ে সচ্ছল অবস্থায় ইন্তেকাল করবে, তখন যদি ধর্মীয় বিধান আমরা মেনে চলি এবং মেয়েদের যা প্রাপ্য তা যদি আমরা ঠিকমতো দিই, তাহলে মেয়েরা কখনোই ইসলামিক জীবন পদ্ধতিতে অবিচার ও প্রবঞ্চনার শিকার হতে পারে না।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ও প্রফেসর
ইমেরিটাস, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি
অনারারি প্রফেসর, পদার্থবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাতা ভিসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।