Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বিচারকের চিকিৎসা নিয়ে বিরোধে হবিগঞ্জে সকল স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা : ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মঈনউদ্দিনসহ ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জেলা জজ আদালতের নাজির ওসমান রেজাউল করিম খোকন।
গতকাল (মঙ্গলবার) বিকাল ৫টায় শুনানি শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হুমায়ুন কবির। এ খবর হাসপাতালে পৌঁছলে নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে জরুরি বিভাগসহ সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন চিকিৎসকসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরুজা পারভীন। হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন কোন কক্ষ না থাকায় তাকে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কক্ষ গুছিয়ে দিতে বিলম্ব হওয়ায় জেলা জজ আদালতের নাজির রেজাউল করিম খোকন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মঈনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। মাফরুজা পারভীনকে নির্ধারিত কক্ষে নেয়ার পর তার দেহরক্ষী পুলিশ কনস্টেবল নূরে আলম রনি কক্ষ দিতে বিলম্ব হওয়ায় উত্তেজিত হয়ে জরুরি বিভাগের কর্মরত ব্রাদার হাবিবুর রহমানকে ধরে সদর মডেল থানায় নিয়ে যায়। এ অবস্থায় হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মচারীরা সেবা প্রদান বন্ধ করে দেয়।
এর পরপরই সকল চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জরুরি বৈঠকে বসেন। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১০টায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সভায় যোগ দেন সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ মনির। রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ কনস্টেবল নূরে আলম রনির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত করেন চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীরা। সোমবার রাতেই হাবিবুর রহমানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে জজ আদালতের নাজির রেজাউল করিম খোকন হাসপাতালে গেলে কতিপয় কর্মচারী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা তাকে ধাওয়া দিলে সে একজন চিকিৎসকের কক্ষে আশ্রয় নেন। এদিকে বেলা ১১টায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযাযী কর্মবিরতি শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস ও সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে দুপুর ১২টায় বুধবার পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়। দুপুরেই চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্র¿াসী কর্মকা-ের অভিযোগ এনে চিকিৎসক জিএম মঈন উদ্দিন সাকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নাজির রেজাউল করিম খোকন। বিকাল সাড়ে ৫টায় শুনানি শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবির। এদিকে মামলা দায়ের ও নিরাপত্তার অভাবে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালসহ হবিগঞ্জে কর্মরত সকল ডাক্তাররা চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে রাত সাড়ে ৭টায় শহরের বিশিষ্টজন ও প্রশাসনের অনুরোধে শুধুমাত্র জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিচারকের চিকিৎসা নিয়ে বিরোধে হবিগঞ্জে সকল স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ
আরও পড়ুন