Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

চট্টগ্রামে সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ -ক্যাব

| প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : সামান্য বৃষ্টিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর উন্নয়নে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন, চউক, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসনের মধ্যে আন্তঃ সমন্বয় না থাকায় তারা পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেরা পানিবদ্ধতা তাদের আওতা বর্হিভূত দাবি করে দায় এড়াতে চায়। গতকাল (মঙ্গলবার) দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ক্যাব নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম নগরীর পানিবদ্ধতা রোধ ও পানিতে তলিয়ে যাওয়া রোধে করণীয় নিয়ে সীমাহীন দায়িত্বহীনতার পরিচয় প্রদানের কারণে ভয়াবহ পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো পানিবদ্ধতা থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে জরুরীভাবে চাক্তাই, মির্জাখালসহ নগরীর নালা, মহেশখালে সøুইসগেইট নির্মাণ, নালা-নর্দমা ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা ও সংস্কার করে দ্রæত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, চাক্তাই খালের উপরের অংশে প্রশস্ততা ৩৫ ফিট হলেও নীচের অংশে গিয়ে ১৫ ফিটে দাঁড়িয়েছে, আবার চাক্তাই খাল খননের নামে নগরীতে হরিলুট হয়েছে। নগরবাসী এর সুফল পায়নি। নগরীর পানি নিষ্কাশনের ড্রেন, নালা, নর্দমা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেকগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দখলে গিয়ে দালান বিল্ডিং নির্মিত হয়ে নগরীর পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ চক্রটি চাক্তাইখাল খননে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে। ফলে নগরীতে একটু বৃষ্টি হলেই নিচু এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ নগরীর খাল ও নালাগুলো সংস্কারের নামে বিপুল অংকের অর্থ খরচ করলেও অদ্যবধি দখলে যাওয়া খাল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নালাগুলো দখলমুক্ত করতে পারেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর নি¤œাঞ্চল পানিবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্ষা মৌসুুমে নগরীর নি¤œ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দা, ভাড়াটিয়া, অত্রাঞ্চলে স্থাপিত শিল্প, কলকারখানা, খুচরা ব্যবসায়ীদের ভেতরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে অন্যত্র সরিয়ে নেবার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পানিবদ্ধতা আতঙ্ক নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কলকারখানায় চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নগরীর চাক্তাই খাল, রাজাখালী খালের মুখ, মির্জাখালসহ বিভিন্ন সংযোগ খাল ও নালার মোহনা সংস্কার, খালের ধারে ও নর্দমার উপর স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নগরীর নি¤œাঞ্চলের বাঁধ ও রাস্তাগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানান।
বিবৃতিদাতারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সহ-সভাপতি ইকবাল আলী আকবর, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ