Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

রক্ত দেখেই ভাল হয়ে যাওয়ার শপথ নেয় ছিনতাইকারী

| প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রফিকুল ইসলাম সেলিম : মোবাইল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে এক যুবককে খুন করে ফেলার পর আতঙ্কিত হয়ে ভাল হয়ে যাওয়ার শপথ নেন ছিনতাইকারী মোঃ পারভেজ (২১)। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি বিক্রি করে প্রাইভেট কার চালনা শিখেন। এক চিকিৎসকের গাড়ি চালক হিসেবে চাকরিও জোগাড় করে নেন। দাড়ি রেখে ৫ ওয়াক্ত নামাযও শুরু করেন।
তবে অপরাধ কখনো চাপা থাকে না। ছিনতাইসহ ওই খুনের ৮ মাস পর সহযোগী মেহরাজসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পারভেজ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহানগর হাকিম আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ওই খুনের দায় স্বীকার করে পারভেজ। জবানবন্দীতে সে জানায়, ওই যুবককে খুন করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না তার। মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় তার সহযোগীরা ওই যুবককে ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত যুবকটি রাস্তায় পড়ে ছটফট করার দৃশ্য তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। আর ওই দৃশ্য দেখেই সে সিদ্ধান্ত নেয় এ পথে আর নয়। গত বছরের নভেম্বরে নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হয় আবদুর রহিম (১৯) নামে এক যুবক। এই খুনের মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পারভেজ ও মেহরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পারভেজকে নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্বব্যাংক কলোনী ও মেহেরাজকে কোতোয়ালী থানার সিআরবি বয়লার কলোনী থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তারা দু’জনেই ওই ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ২৫ নভেম্বর কদমতলী ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে আবদুর রহিম (১৯) ও সাদ্দাম হোসেন (২১) নামে দুই যুবক। এসময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় রহিম। এ ঘটনায় রহিমের ভাই কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের পর কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, এসআই কামাল উদ্দিন ও মো. হারুনকে নিয়ে করা একটি দল তদন্ত কাজ করে আসছেন।
প্রায় আট মাস পর বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ পারভেজ ও মেহরাজকে গ্রেফতার করে। এ ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় পারভেজ, মেহরাজ ছাড়াও ইউসুফ নামে আরও এক যুবক জড়িত ছিল। যিনি সম্পর্কে মেহরাজের ভাইরা। তাকে ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। পারভেজ মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমান ও মেহরাজ হারুনুর রশিদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দীর উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, পারভেজ, মেহরাজ ও ইউসুফ পেশাদার ছিনতাইকারী। নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে তারা ছিনতাই করে। পারভেজ জানিয়েছে হত্যাকান্ডের দিন বিকালে ইউসুফ তাকে ফোনে সিআরবি এলাকায় আসতে বলে। পরে ইউসুফ ও মেহরাজকে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে মনসুরাবাদ এলাকায় যাওয়ার পথে কদমতলী ফ্লাইওভারে রহিম ও সাদ্দামের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
ছিনতাইয়ের বর্ণনা দিয়ে পারভেজ জানায়, সে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারে নিহত রহিম ও সাদ্দামকে দেখতে পায়। এসময় মোটর সাইকেল থেকে ইউসুফ ও মেহরাজ নেমে রহিম ও সাদ্দামের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাদ্দাম মোবাইল সেট দিয়ে দিলেও রহিম দিতে না চাইলে ইউসুফ তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে ছিনতাই করা মোবাইল ফোন দুইটি রেয়াজউদ্দিন বাজারে আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পারভেজ জানিয়েছে ছিনতাই করে চলে যাওয়ার সময় সে ছিনতাইয়ের শিকার ওই দুই যুবকের মধ্যে একজনের পা থেকে রক্ত ঝরতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে যায়।
তখনই সে সিদ্ধান্ত নেয় আর কখনো এ কাজ করবে না। পুলিশের কাছ থেকে বাঁচতে সে মোটর সাইকেল চালানো ছেড়ে দিয়ে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন এবং দাড়ি রাখা শুরু করে। দাড়িওয়ালা ছবি দিয়ে সে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করে। এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর কাজ নেন। যে মোটর সাইকেল নিয়ে তারা ছিনতাই করেছিল ভয়ে সেটি বিক্রি করে দেয় বলেও পারভেজ জানায়। জবানবন্দী শেষে পারভেজ ও মেহরাজকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর