Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

শিশু শিক্ষার্থীকে পেটালেন সেই প্রধানশিক্ষক!

| প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

নাটোর জেলা সংবাদদাতা : নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই সমালোচিত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী আকন্দের বিরুদ্ধে এবার পরীক্ষারত এক শিশু শিক্ষার্থীকে চড়থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। অভিভাবকরা এ ঘটনার জন্য প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবী করেছেন। গত বৃহষ্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিকি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। রমজান আলী আকন্দ বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে সেখানকার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের নাতি মানাফ মাহমুদকে বহনকারি গাড়ি ভাঙচুর করানোর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। ওই ঘটনার পর তাঁকে সেখান থেকে বদলী করে নাটোরে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভ‚ক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাদমান মুত্তাকি (৮)। সে বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। গতকাল শুক্রবার সকালে সে সাংবাদিকদের জানায়,বৃহষ্পতিবার বিকেল দুইটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তাঁদের অর্ধবার্ষিকি পরীক্ষা চলছিল। সে আধা ঘন্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর পরই প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছে আসেন। তিনি তার মাথার চুল বড় থাকার কারণ জানতে চান। কোন উত্তর দেওয়ার আগেই প্রধান শিক্ষক তার বাম কান ও চলের ওপর পর পর দুটি চড়থাপ্পড় মারেন। আচমকা মার খেয়ে সে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কান্নাকাটি করে। পরীক্ষার খাতায় সে ভালো করে লিখতে পারছিল না। তখনই তার শরীরে জ্বর চলে আসে। পরে সে বাড়ি এসে তার পিতা মাতাকে ঘটনাটি বলে।
শিশুটির বাবা নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আলমগীর হোসেন জানান, তাঁর ছেলে শারীরিকভাবে দুর্বল। হটাৎ করে প্রধানশিক্ষক তাকে চড়থাপ্পড় মারায় সে মারাত্মক ভয় পেয়েছে। এতে তার শরীরে অনেক জ্বর ও কাঁপুনি চলে আসে। তারা চিকিৎসকের সরন্নাপন্ন হলে তাকে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই শিক্ষকতা করি। কোন শিক্ষকের এমন আচরণ হতে পারে তা ভাবতে পারছি না। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে এতবড় অন্যায় করতে পারেন না। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
প্রধানশিক্ষক রমজান আলী আকন্দ শুক্রবার সকালে বলেন, বিদ্যালয়ের শৃংখলা রক্ষার্থে আমি ওই শিক্ষার্থীর চুল বড় দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার ভুল হয়েছে ! নাটোরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুজ্জামান জানান,তিনি শিশুটির নানার কাছ থেকে মুঠোফোনে অভিযোগ পেয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ