Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা পরিকল্পনাকারী মাহফুজসহ গ্রেফতার ৪

| প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুসকনী এলাকার একটি আমবাগান থেকে শুক্রবার গভীর রাত আড়াইটার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- জেএমবির আইসিটি এক্সপার্ট হাফিজ, সামরিক শাখার সদস্য জামাল এবং জেএমবি সদস্য জুয়েল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে কর্মরত অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল মান্নান। গুলশান হামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত সোহেল মাহফুজ জেএমবির ভারত শাখার প্রধান ছিলেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের পুলিশ।
পুলিশ বলছে, জেএমবির ভারত শাখার আমির ছিলেন সোহেল। সোহেল মাহফুজ ভারতে নসরুল্লাহ নামে জেএমবিতে সক্রিয় ছিল। এছাড়া ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএর তথ্য মতে, গুলশান হামলার অস্ত্র তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। আর নসরুল্লাই এর সাথে জড়িত বলে পুলিশ দাবি করেছে।
গতকাল শনিবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের একটি আমবাগান থেকে সোহেলকে গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তারপরই সাংবাদিকদের সোহেল সম্পর্কে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে গত বছরের হামলায় জড়িত সন্দেহে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। অন্যদিকে তিন বছর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাকে সন্দেহ করা হচ্ছিল।
খাগড়াগড়ে সন্দেহভাজন নসরুল্লাহই বাংলাদেশের সোহেল মাহফুজ বলে দাবি করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সে ভারতে অবস্থান করছিল এবং সেখানকার জেএমবির আমিরের দায়িত্বে ছিল। তখন সেখানে তার নাম ছিল নসরুল্লাহ। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-এর কাছে খাগড়াগড়ের ঘটনার জন্য সন্দেহভাজন ছিল নসরুল্লাহ।
পুলিশ জানায়, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনাকারী ও নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেল। এ মন্তব্য করেছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশীদ হোসেন। এদিকে গতকাল দুপুরে রাজশাহীতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা তাকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করছি। অবশেষে তিন সহযোগীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে তাকে ধরা হয়েছে। সোহেলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেল।
খুরশীদ হোসেন বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোরের জঙ্গি আস্তানায় সোহেলের যাতায়াত ছিল। সে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করত। বোমা বানাতেও পারদর্শী সে। সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা মূলত জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকে।
ডিআইজি বলেন, হাতকাটা সোহেল উত্তরাঞ্চলে নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করছিল। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল- ঈদে এ অঞ্চলে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। তবে পুলিশের তৎপরতায় জঙ্গিরা কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি।
ভারতের বর্ধমানের খগড়াগড় বিস্ফোরণকান্ডে সোহেল মাহফুজ জড়িত বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, এ বিষয়টি তারা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সোহেল মাহফুজসহ জেএমবির অন্তত দুই ডজন নেতা ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইর টার্গেটে। সোহেলকে ভারতেও খোঁজা হচ্ছিল।
ডিআইজি জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সোহেল মাহফুজ যেহেতু গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত, সেহেতু তাকে ঢাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি তিনজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক মামলার আসামি, তাই তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতেই তোলা হবে।
সোহেল (২৫) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাদিপুর কাবলিপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি নসরুল্লাহ ছাড়াও শাহাদাত, রিমনসহ নানা নামে পরিচিত বলে পুলিশ জানায়। এক হাত না থাকায় তিনি ‘হাতকাটা সোহেল’ নামেও পরিচিত।
পুলিশ কর্মকর্তা মান্নান বলেন, ২০০৫ সালে নওগাঁর আত্রাই এলাকায় বাংলাভাইয়ের সঙ্গে বোমা বানাতে গিয়ে সোহেলের একহাত উড়ে গিয়েছিল।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, গুলশান হামলার আরো আগ থেকেই জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। তিনি জেএমবির প্রতিষ্ঠাকালীন শূরা সদস্য। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সোহেল গত দুই বছর আগে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময়টাতে ভারতে ছিলেন সোহেল। ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ে যে জঙ্গি বাড়িতে বিস্ফোরণে দু’জন নিহত হন, তা ছিল জেএবির আস্তানা। ওই ঘটনার পর সোহেল পালিয়ে এসে বাংলাদেশে নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা মান্নান বলেন, বর্তমানে তিনি (সোহেল) নব্য জেএমবির অন্যতম শূরা সদস্য। নব্য জেএমবির নুরুল ইসলাম মারজান তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়।
জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার আত্মীয়তা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তার দুই শ্বশুরবাড়ি। তার দুই শ্বশুরও জেএমবির সমর্থক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়
আরও পড়ুন